দেহটা যেন নীরবে বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে পুড়ে যেতে পারে,এটাই ছিল শম্ভু মিত্রের শেষ ইচ্ছা

দেহটা যেন নীরবে বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে পুড়ে যেতে পারে,এটাই ছিল শম্ভু মিত্রের শেষ ইচ্ছা

১৯৯৭ সালের ১৯ মে চলে গেলেন সেই মানুষটি যিনি ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহটা যেন নীরবে, একটু ভদ্রতার সঙ্গে, বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে পুড়ে যেতে পারে। তবু এই যাওয়া মেনে নিতে পারেননি তাঁর অগণিত ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী। কারণ তিনি যে প্রবাদপুরুষ শম্ভু মিত্র; বাংলার নবনাট্যের জনক। তাঁর জন্ম ১৯১৫ সালের ২২ অগস্ট কলকাতার ডোভার রোডে। যদিও তাঁদের পূর্বপুরুষ ছিলেন হুগলি জেলার কলাছড়া গ্রামের জমিদার কিন্তু বাবা শরৎকুমার জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার গ্রন্থাগারে চাকরি করতেন। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে মধ্যম পুত্র শম্ভু ছিলেন মা শতদলবাসিনীর আদরের। শম্ভুর জীবনে মায়ের প্রভাব এতটাই ছিল যে, খারাপ কাজ করার কথা ভাবতে পারেননি। তাঁর শুধু মনে হত, ‘মা আকাশ থেকে সব দেখছেন।’

বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অভিনয় ও আবৃত্তির প্রতি শম্ভু মিত্রের আগ্রহ তৈরি হতে শুরু করে। আর এই আগ্রহ তৈরীর পশ্চাতে প্রধান প্রেরণা ছিলেন তাঁর সহপাঠী ও ভাগ্নে দুর্গা। দুর্গার সঙ্গে ছাত্রজীবনে তিনি নাটক করেছেন কখনও স্কুলে, কখনও বকুলবাগানের ‘গোলমাঠে’। আবার প্রতিবেশী প্রবোধ মিত্র, শম্ভু যাঁকে ডাকতেন ‘বড়দা’, তাঁর উৎসাহে আবৃত্তির প্রতি আকর্ষণও তৈরী হচ্ছিল ছোটবেলা থেকেই। মুখস্থ করে ফেলার ঈর্ষণীয় ক্ষমতা ছিল তাঁর। সঞ্চয়িতা এবং চয়নিকার মতো গ্রন্থ গড়গড় করে মুখস্থ বলতে পারতেন, এমনি ছিল তাঁর অভাবনীয় স্মরণশক্তি। এরপর ১৯৩১ সালে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করে ভর্তি হলেন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে কলেজ ছেড়ে দেন। ঠিক করেন নিজেই নিজেকে শিক্ষিত করে তুলবেন। এরপরই শরৎকুমার অবসর গ্রহণ করলে বাবার সঙ্গে শম্ভু চলে যান উত্তরপ্রদেশ কারণ শরৎকুমার শেষ জীবন সেখানেই কাটিয়েছিলেন। এলাহাবাদে থাকার সময় থেকেই পাবলিক লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা করে নিজেকে তৈরি করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন। নাটক, সাহিত্য, বিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব, মনস্তত্ত্ব প্রভৃতি নানা বিষয়ের বই তিনি পড়তে শুরু করেন। এক দিন লাইব্রেরি থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে শুনলেন, পাশের বাড়িতে ‘আলমগীর’ নাটকের রেকর্ড বাজছে। “মনে হল যেন শ্যামের বাঁশি বাজল। নাটক ছাড়া আমার গত্যন্তর নেই।”

১৯৩৬-৩৭ সালে শম্ভু মিত্র ফিরে এলেন কলকাতায়। কিছুদিন রইলেন ছেলেবেলার বন্ধু বিশ্বনাথ মিত্রর বাড়ি। সেখান থেকে ল্যান্সডাউন রোডে জ্যোতিনাথ ঘোষের বাড়ি। যাঁকে তিনি ডাকতেন জ্যোতিনাথদা বলে। জ্যোতিনাথের ছেলেমেয়েদের পড়াতেন। এই বাড়িই তাঁকে ‘শম্ভু মিত্র’ হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল। জ্যোতিনাথ তাঁকে দেখাতেন থিয়েটার, সিনেমা; বিদেশি বই জোগাড় করে দিতেন। শারীরচর্চা, স্বরচর্চাও চলছিল সমানভাবে। এরই মধ্যে আকস্মিক ভাবে নিছক ‘চ্যালেঞ্জ’ জানিয়ে থিয়েটার পাড়ায় যুক্ত হয়েছিলেন তিনি; ‘রঙমহল’ থিয়েটারে, সম্ভবত ১৯৩৯ সালে। এই রঙমহল থিয়েটারেই তাঁর প্রথম দেখা হল ‘গুরু’ তথা ‘মহর্ষি’ মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে। পরম স্নেহে ও ভালবাসার এই সম্পর্ক আমৃত্যু অটুট ছিল।

আরো পড়ুন:  তপন সিংহর ছবিতে ডেট না পেয়ে মামলা করলেন মহানায়ক উত্তমকুমার

রঙমহলে কয়েকটি পুরনো নাটকে অভিনয় করার পর তিনটি নতুন নাটক ‘মালা রায়’, ‘রত্নদীপ’ ও ‘ঘূর্ণি’তে অভিনয় করেন। তার পর রঙমহল বন্ধ হয়ে গেলে প্রখ্যাত অভিনেতা ভূমেন রায় তাঁকে নিয়ে যান ‘মিনার্ভা’ থিয়েটারে। সেখানে তখন ‘জয়ন্তী’ নাটকে তিনি ‘বড় অ্যাক্টর’ হিসেবে মান্যতা পান। কিন্তু এক দিন মহর্ষিকে অপমানিত হতে দেখে এখান থেকেও বেরিয়ে আসেন। এ বার ভূমেন রায় তাঁকে নিয়ে এলেন ‘নাট্যনিকেতন’-এ। তারাশঙ্করের ‘কালিন্দী’তে শম্ভু মিত্র পেলেন ‘মিস্টার মুখর্জি’র ভূমিকা। কিন্তু নাট্যনিকেতনও উঠে গিয়ে শিশির ভাদুড়ীর হাতে ‘শ্রীরঙ্গম’ নাম নিয়ে নতুন করে শুরু হল তার যাত্রা। শিশির ভাদুড়ীর নাটক আর অভিনয় ধারার সঙ্গে পরিচয় ঘটল শম্ভুর। কিন্তু কলকাতার রঙ্গালয়ের পরিবেশে কিছুতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে ১৯৪০-৪১ সালে শ্রীরঙ্গম ছেড়েও বেরিয়ে এলেন তিনি। এ বার কিছুদিন হলেন কালীপ্রসাদ ঘোষের বি এস সি-র টুরিং কোম্পানিতে কাজ করার পরে আবারও নিজেকে সরিয়ে নিলেন। কারণ তত দিনে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছেন। কারণ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের অসহায়তা ও একাকিত্বের মধ্যে ২৬ বছরের যুবক শম্ভু লিখছেন তাঁর প্রথম নাটক ‘উলুখাগড়া’, ‘শ্রীসঞ্জীব’ নামে। ‘সংক্রমণ’ নামে একটি গল্পও লিখতে শুরু করেছিলেন। তবে তাঁর সেই অসহায় অবস্থা কেটে গিয়েছিল ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘ ‘অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট রাইটার্স অ্যান্ড আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এর ডাক পেয়ে। এখান থেকেই পরে ‘গণনাট্য সংঘ’র জন্ম। ৪৬ ধর্মতলা স্ট্রিটের বাড়িতে পা রেখে এমন সব মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন, যাঁরা জনতার ‘মুখরিত সখ্যে’ থাকতে চান। এমন ইচ্ছে তাঁরও মনে তখন দানা বাঁধছিল। আজীবন তিনি তাঁর নাটকের মধ্য দিয়ে সেই চেষ্টাই করে গিয়েছেন।

১৯৪২-৪৩ সালে বিনয় ঘোষের ‘ল্যাবরেটরি’ ও বিজন ভট্টাচার্যের ‘আগুন’ মঞ্চস্থ হল। তার পর হল বিজন ভট্টাচার্যের ‘জবানবন্দী’ ও শম্ভু মিত্রের ‘নবান্ন’। এই ‘নবান্ন’ যেমন শম্ভু মিত্রের নাট্যচিন্তার প্রথম সার্থক প্রয়োগ, তেমনই বাংলা নাটকের ইতিহাসে নবনাট্য আন্দোলনের জনক। ইতিমধ্যে
‘আগুন’ করার সময়ে গণনাট্য সংঘের তৃপ্তি ভাদুড়ির সঙ্গে পরিচয় হয় শম্ভু মিত্রর। পরবর্তী কালে আইপিটিএ-র হয়ে খাজা আহমদ আব্বাসের আহ্বানে যখন ‘জবানবন্দী’ নাটকের হিন্দি অনুবাদ ‘শেষ অভিলাষা’ অবলম্বনে ‘ধরতী কে লাল’ ছবির অভিনেতা এবং সহপরিচালক হিসেবে শম্ভু-তৃপ্তি দু’জনেই মুম্বই যান তখন সেখানেই ১৯৪৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পরিণয় সূত্রে বাঁধা পড়েন। কিন্তু ১৯৪৫ সালে যাঁর বিয়ে ছিল ‘গ্র্যান্ড আই পি টি এ ইভেন্ট’, মাত্র তিন বছর পরে ১৯৪৮ সালে সেই শম্ভু মিত্রই গণনাট্য ও ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে বেরিয়ে আসেন বিজন ভট্টাচার্য, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর মতো আরও অনেক শিল্পীই। বাম মনোভাবাপন্ন ও গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় বিশ্বাসী শম্ভুবাবুরা এই সংঘে কাজ করতে এসে যে বাধা পেয়েছিলেন, তারই সার্থক বিকল্প হিসেবে জন্ম হয়েছিল ‘বহুরূপী’র, ওই একই বছরে। যদিও ‘বহুরূপী’ নামকরণ হয় ১ মে ১৯৪৯ (মতান্তরে ১৯৫০) সালে মহর্ষির প্রস্তাব মেনে। প্রথম প্রযোজনা ছিল অবশ্যই ‘নবান্ন’। প্রাতিষ্ঠানিক বামপন্থী রাজনীতির বাইরে এসেও তাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, শম্ভু মিত্র ছিলেন যাঁর পুরোধা। নবান্নর পর দীর্ঘ এক বছর ধরে নিদারুণ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে নবনাট্যের ভিত তৈরি করছিলেন শম্ভু ও তৃপ্তি। এই দলের বিশেষ জীবনবোধ ও চর্চার কেন্দ্র ছিল দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। আর লক্ষ্য, ‘ভালো নাটক, ভালো করে করে যাওয়া’। এই ভাবনা থেকেই একে একে মঞ্চস্থ হতে লাগল ‘পথিক’ (১৯৪৯),‘উলুখাগড়া’ (১৯৫০), ‘ছেঁড়া তার’ (১৯৫০), ‘বিভাব’ (১৯৫১)। বিষয়গত দিক থেকে গণনাট্যের ভাবনার অনুসারী হলেও আঙ্গিকগত দিক থেকে নিরীক্ষার ছাপ ও পেশাদারী সূক্ষ্মতা ছিল স্পষ্ট। ‘চার অধ্যায়’ বহুরূপীর প্রথম রবীন্দ্রনাটক। দীর্ঘ ত্রিশ বছর ধরে অভিনীত নাটকটি সেই সময়ে বামপন্থী ও নকশাল মহলে তুমুল আলোড়ন তুলেছিল। তবে ১৯৫৪-তে ‘রক্তকরবী’ নাটকেই শম্ভু মিত্র ও তাঁর বহুরূপী তাদের পূর্ণ প্রতাপ নিয়ে মঞ্চে আবির্ভূত হল। ‘রক্তকরবী’ বাংলা তথা ভারতীয় নাটকে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। কিন্তু তৎকালীন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এই নাটকের প্রথম দু’টি অভিনয়ের পর তা বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। অথচ রক্তকরবী’র প্রদর্শন হয়েছে ভারতের বিভিন্ন শহর, এমনকী ঢাকাতেও। এর পর ‘পুতুলখেলা’ (১৯৫৮), ‘মুক্তধারা’ (১৯৫৯), ‘কাঞ্চনরঙ্গ’, ‘বিসর্জন’ (১৯৬১), ‘রাজা অয়দিপাউস’ ও ‘রাজা’ (১৯৬৪), ‘বাকি ইতিহাস’ (১৯৬৭), ‘বর্বর বাঁশি’ (১৯৬৯), ‘পাগলা ঘোড়া’ ও ‘চোপ আদালত চলছে’ (১৯৭১) অবধি শম্ভু মিত্রর নেতৃত্বে বহুরূপী এগিয়ে ছিল উল্কার গতিতে।

আরো পড়ুন:  ইস্টবেঙ্গলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন বাঙালি শিল্পপতি প্রসূন মুখোপাধ্যায়,কিনবেন ৫০ শতাংশ শেয়ার

রাশিয়া-সহ পূর্ব ইউরাপের নানা দেশে বহু বার গিয়েছিলেন শম্ভু মিত্র সাংস্কৃতিক আমন্ত্রণে, আন্তর্জাতিক নাট্যজগতের সঙ্গে পরিচিত হতে। এ দিকে ১৯৬৮ সালে শুরু হয়েছিল ‘জাতীয় নাট্যমঞ্চ’ গড়ার কর্মযজ্ঞ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি ‘মুদ্রারাক্ষস’ ও ‘তুঘলক’-এর মতো নাটকও করেছিলেন। যদিও সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গিয়েছিল। বহুরূপী দলটিও চিরকাল এক রকম থাকেনি। কালের নিয়মেই তার ভাঙন শুরু হয়েছিল। একে একে বহুরূপীর বহু সদস্য ও স্বজনরা ইহলোক ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অনেকে দল ছেড়েছিলেন। ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন বহুরূপীর প্রযোজনায় ‘পুতুলখেলা’ নাটকে শম্ভু মিত্রকে শেষ বারের জন্য মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। এর পর বহুরূপীর দফতরে আর তাঁকে দেখা যায়নি। বহুরূপী ছেড়ে গেলেও শম্ভু মিত্র কিন্তু নাটক থেকে দূরে যাননি। অন্য নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় মঞ্চে এসেছেন কয়েক বার। ১৯৮০ সালের ১৮ নভেম্বর ‘গ্যালিলি গ্যালিলিও’ নাটকে নামভূমিকায় শেষ বারের মতো তিনি মঞ্চে এসেছিলেন।

আরো পড়ুন:  ইন্দ্রেশ্বর বা ইন্দ্রাণী : একটি বিলুপ্ত জনপদের ইতিহাস

১৯৫৯ সালে শম্ভু মিত্র, অমিত মৈত্র ও চিত্রগ্রাহক দেওজীভাই পাদিহার তৈরি করেন একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা। নাম দেওয়া হয় ‘চলচ্চিত্র প্রয়াস সংস্থা’। এই সংস্থা ‘শুভ বিবাহ’, ‘মাণিক’, ‘কাঞ্চনরঙ্গ’, ‘পান্না’র মতো ছবি তৈরি করে। যদিও শম্ভু মিত্র তাঁর চলচ্চিত্র প্রয়াসকে ‘ক্ষুন্নিবৃত্তি’ বলে মনে করতেন। অথচ তাঁর পরিচালিত ‘ধরতী কে লাল’, ‘একদিন রাত্রে’, ‘জাগতে রহো’র মতো ছবিকে অনায়াসেই অন্য ধারার ছবি হিসেবে গণ্য করা যায় যা তৈরি হয়েছিল ‘পথের পাঁচালী’র আগেই। চিত্রপরিচালক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন।

শম্ভু মিত্রর চলার পথ কখনওই মসৃণ ছিল না। বারে বারে দলেরই সদস্যদের বিশ্বাসঘাতকতা, অপমান, অসম্মান তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। ১৯৭৮ সালের ১৫ অগস্ট অ্যাকাডেমিতে তাঁর পাঠ করা ‘চাঁদ বণিকের পালা’ নাটকের সংলাপের মতোই যেন তাঁর জীবনে তিনি সত্যের সন্ধানে সারা জীবন পাড়ি দিয়েছিলেন, কারণ চাঁদের মতোই তাঁর চোখেও স্বপ্ন ছিল। বাংলা ভাষায় গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের প্রাণপুরুষ এই মানুষটির স্বপ্নগুলো বারবার গুঁড়িয়ে গেলেও সারাজীবন সেই স্বপ্নগুলোকে জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন। আর সেই স্বপ্নের নৌকার নাম ছিল ‘বহুরূপী’। সেই সন্তানতুল্য বহুরূপীর ভাঙনও তাঁকে দেখতে হয়েছিল। তাই শম্ভু মিত্রের মতো মহান এক শিল্পীই তো পেরেছিলেন তাঁর জীবনের ট্র্যাজেডিকে মানুষের চিরন্তন সংগ্রাম ও এগিয়ে চলার ঐকান্তিকতার সঙ্গে গেঁথে দিতে…

– শ্রেয়সী সেন

তথ্যসূত্র – উইকিপিডিয়া, আনন্দবাজার পত্রিকা

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।