রক্তের অভাবে মৃত্যু হয়েছিল দিদির,সেই থেকে রক্তদানই একমাত্র নেশা বাপন দাসের

রক্তের অভাবে মৃত্যু হয়েছিল দিদির,সেই থেকে রক্তদানই একমাত্র নেশা বাপন দাসের

আমাদের জীবনটা চলে এক বাঁধা ছকে।জন্ম,তারপর পড়াশোনা,চাকরি,সংসার ও সন্তান প্রতিপালন ও অবশেষে মৃত্যু।এই এক পথে একের পর এক সকলে হেঁটে চলেছে।কবে জন্ম,কবে মৃত্যু এসব নিয়ে কারো আসে যায় না। কিন্তু, কিছু মানুষ থাকে যারা এই বাঁধা ছকের বাইরে চলতে জানে,নিজেদের আলাদা পথ বানাতে জানে।ঠিক সেই ধারার একজন মানুষ হলেন বাপন দাস।

তিনি কলকাতা পুলিশের একজন কর্মচারী। চাকুরীজীবী হওয়ার সুবাদে দিব্যি আরামে নিজেরটুকু নিয়ে জীবনের বাকিটা কাটিয়ে দিতে পারতেন কিন্তু ওই, বাঁধা ছকের বাইরের রাস্তা ধরা,তাই জীবনটাকে তিনি দেখেন অন্য নজরে।

জন্ম উত্তর দিনাজপুরের হাফতিয়াগছে।চাকরি পাওয়ার আগেই দিদি রত্না দাসকে রক্তের অভাবে বিনা চিকিৎসায় চোখের সামনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন কারণ গ্রামের সকল মানুষের ছিল রক্তদানে ভীতি।সেইদিন কিছু করতে না পারলেও আলাদা কিছু করার একটা তাগিদ অনুভব করেছিলেন সেইদিন থেকেই।

আরো পড়ুন:  বাঘাযতীনের সন্ধানে ব্রিটিশরা ঘিরে ফেলল বাগনান হাইস্কুল,মাটির জালায় পুরে অস্ত্র স্কুলের বাইরে নিয়ে এল মালী

মাত্র ১৯বছর বয়সে কলকাতা পুলিশের চাকরি পান।জীবন কাটছিল ভালোই কিন্তু তবুও ছিল এক অপূর্ণতা।বেলুড় মঠে পুজো দিতে গিয়ে স্বামীজির উক্তি “ব্যাটা,জন্মেছিস যখন একটা দাগ রেখে যাস” পড়ে সিদ্ধান্ত নেন এভাবে আর চলবে না,কিছু করার সময় এসেছে।

তারপর তিনি শুরু করেছেন নিজের কাজ,প্রথম শুরু করেন ২০০০ সালে গ্রামের এক দরিদ্র মহিলা মারা যাওয়ায় তাকে দাহ করার জন্য পুজোর ফান্ড থেকে সেই পরিবারকে কাঠ জোগাড় করে দেওয়া থেকে,তারপর কলেজ পড়ুয়াদের নিয়ে গঠন করেছেন ‘বিধাননগর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার কমিটি’ । ‘পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দান রক্তদান’ এই কথা মাথায় রেখে আয়োজন করেছেন রক্তদান শিবিরের নানান জায়গায়। ইসলামপুর, কোচবিহার সহ কলকাতার বহু জায়গায় বছরে প্রায় ৩০টি রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন তিনি।সঙ্গে রক্তদানের ভীতি কাটানো ও মানুষকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করার নানা পন্থাও অবলম্বন করেন।

আরো পড়ুন:  ফাঁসির দিন ভোরবেলা বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের লেখা জীবনের শেষ চিঠি

এখানেই শেষ নয়, বছরের শুরুর দিকটা পিকনিকের কারণে ভিড় জমে পাহাড়ের বেশ কিছু জায়গায়।পিকনিকের আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে সেইসব জায়গায় মানুষের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকজাত দ্রব্য বা অন্যান্য পরিত্যক্ত জিনিসে যাতে সেইসব জায়গার সৌন্দর্য নষ্ট না হয় তা সুনিশ্চিত করতে দার্জিলিং ওয়েলফেয়ার মঞ্চের পক্ষ থেকে তিনি সাফাই অভিযান করেন প্রতি বছর।এছাড়াও হেলমেট বিহীন চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের হাতে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস তুলে দেওয়া, নারীশিক্ষা ও অধিকার নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন, সমাজসেবামূলক কাজে মানুষকে উৎসাহ দান এ সকল রকম কাজ তিনি করে থাকেন।

আরো পড়ুন:  জেলে দেখা করতে গিয়ে দ্বিজদাসবাবু দেখলেন উল্লাস গাইছে "আপন হতে বাহির হয়ে দাঁড়া, বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সারা...."

এই সব কাজের শুরুতে ছিল না কোনও প্রত্যাশা, কোনোকিছু লাভের আশাও করেননি কখনও, কিন্তু তার এ সকল কাজ তাকে ভূষিত করেছে নানা পুরস্কারে। ২০১৩ সালে পেয়েছেন ইন্দোনেশিয়া ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশন থেকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড।২০১৪ সালে ইসলামপুর এর অবুঝ সবুজের তরফ থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন।২০১৬ সালে উত্তরবঙ্গ পৌষমেলার তরফ থেকেও পুরস্কার পান।

নিজের পেশা নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে চান তিনি।তিনি বলেন ,সমাজে এখনও এমনকিছু ভালো পুলিশ আছে যারা মানুষের ও সমাজের পাশে দাঁড়াতে জানে।নিজের কাজ সম্পর্কে বলেন, এখনও অনেক কিছু করতে বাকি,অনেক পথ চলতে বাকি।সকলকে সুস্থ থাকার,সুস্থ রাখার ও সবার সাথে হাসি মুখে কথা বলার বার্তা দেন তিনি সকলকে।

-লিলি চক্রবর্তী
তথ্য : বঙ্গদর্শন

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।