বাঙালি বিজ্ঞানীর নামে মহাকাশে নক্ষত্রের নামকরণ,বাঙালি মনে রাখেনি বিভা চৌধুরীকে

বাঙালি বিজ্ঞানীর নামে মহাকাশে নক্ষত্রের নামকরণ,বাঙালি মনে রাখেনি বিভা চৌধুরীকে

বাঙালি বিজ্ঞানীর নামে প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন একটি নক্ষত্রের নাম রেখেছে ‘বিভা’। অবাক হবে না । কে এই বিভা ?
বিভা চৌধুরী । প্রথম মহিলা বাঙালি বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী । ১৯৪৯-এ প্রতিষ্ঠিত TIFR – Tata Institute of Fundamental Research এর প্রথম মহিলা ফিজিসিস্ট বিভা চৌধুরী । নেচার পত্রিকায় যাঁর একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে । শুধু তাই নয় তিনিই ফিজিক্সে-র প্রথম বাঙালি মহিলা ডক্টরেট । উনি ডক্টরেট করেছিলেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে । এমনকি তাঁর দেখানো পথেই নোবেল পেয়েছিলেন ইংরেজ পদার্থবিদ সিসিল পাওয়েল | পাওয়েল নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, বিভা চৌধুরী এবং ডি.এম.বোস-এর উদ্ভাবিত পদ্ধতি ব্যবহার করেই তিনি সাফল্য পেয়েছেন।

 

বিভা চৌধুরী

 

বিভা চৌধুরীর জন্ম ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় । হুগলি জেলার ভান্ডারহাটির গ্রামে ছিল তাদের জমিদারি । তাঁর পিতা প্রখ্যাত ডাক্তার বঙ্কু বিহারী চৌধুরী । মাতা ঊর্মিলা দেবী ছিলেন গিরিশ চন্দ্র মজুমদারের কন্যা, তারা ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঊর্মিলা দেবীকে বিবাহ করার পর ডাক্তার বঙ্কু বিহারী চৌধুরী ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত হলে তিনি তাঁর পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হন। বিভা চৌধুরী ছিলেন তাঁর পিতা-মাতার তৃতীয় সন্তান।

বিভা চৌধুরী ছোট থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী । পড়তেন বেথুন স্কুলে । এরপর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে পদার্থবিদ্যায় বি.এসসি অনার্স ডিগ্রি লাভ করেন এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে পদার্থবিদ্যায় এম. এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন । কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বছর ফিজিক্স ব্যাচের বিভাই ছিলেন একমাত্র মহিলা । এরপর তিনি বসু বিজ্ঞান মন্দিরে যোগদান করেন। দেবেন্দ্রমোহন বসু (ডি এম বোস) তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পালিত প্রফেসর অফ ফিজিক্স’। পরে ১৯৩৭-এ অধ্যাপক ডি এম বোস , বসু বিজ্ঞান মন্দির-এ ( বোস-ইন্সটিটিউট) ডিরেক্টার হিসেবে নিযুক্ত হন।

১৯৩৮ সাল | একটি সায়েন্স কনফারেন্সে গিয়ে জার্মান নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানী ওয়ালথার বোথের সঙ্গে আলাপ হল বিজ্ঞানী দেবেন্দ্রমোহন বসুর | সেই সময় ফটোগ্রাফিক প্লেটের ওপর কসমিক রে বা মহাজাগতিক রশ্মির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছিলেন ওয়ালথার বোথের (১৯৫৪ সালে বোথে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন) | সেই বিষয়ে দেবেন্দ্রমোহন বসুর সঙ্গে কথা হয় ওয়ালথার বোথের | বিষয়টা নিয়ে আগ্রহ জাগে দেবেন্দ্রমোহন বসুর | তিনি এবং বিভা চৌধুরি এই বিষয়ে গবেষণা করতে দার্জিলিং যান | ১৯৩৯ থেকে ১৯৪২ দীর্ঘ তিন বছর বিভিন্ন সময়ে গবেষণা করেন তারা | দার্জিলিং এর পাহাড়ে গিয়ে ইলফোর্ড হাফ-টোন ফটোগ্রাফিক প্লেটের ওপর দিনের পর দিন সূর্যালোকের বিচ্ছুরণ ঘটান এবং প্লেটের ওপর লম্বা বক্রাকার আয়নিত গতিপথ দেখতে পান | তারা বুঝতে পারেন এগুলো প্রোটনের ট্র্যাক বা আলফা কণিকার ট্র্যাক থেকে ভিন্ন, এটা সম্ভবত ‘মেসোট্রন’ এর গতিপথ কিন্তু সেই মুহূর্তে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছিল না | তাদের এই পরীক্ষার ফলাফলে শোরগোল পড়ে যায় বিজ্ঞান মহলে | বিখ্যাত ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে ফলাফল |

আরো পড়ুন:  বীরভূমের "মাসিমা"ই ছিলেন অস্ত্র আইনে দন্ডিতা প্রথম মহিলা বিপ্লবী

১৯৩৫ সালে জাপানী পদার্থবিজ্ঞানী হাইডেকি ইউকাওয়া তত্ত্বীয় ভাবে প্রমাণ করেছেন যে নিউক্লিয়ার বলের আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু নতুন ধরনের কণা বিনিময় হয় | সেগুলোকে তিনি নাম দিয়েছেন এক্সচেঞ্জ পার্টিক্যাল (বিনিময়-কণা)। এই কণাগুলোর ভর ইলেকট্রনের ভরের চেয়ে সামান্য বেশি – কিন্তু প্রোটনের ভরের চেয়ে অনেক কম। ইউকাওয়া হিসেব করে দেখিয়েছেন যে এ ধরনের কণার ভর হবে ইলেকট্রনের ভরের ২৭০ গুণ এদের ভর ইলেকট্রনের ভর ও প্রোটনের ভরের মাঝামাঝি বলে এদের নাম দেয়া হয় ‘মেসোট্রন’ – গ্রিক ভাষায় যার অর্থ ‘মধ্যবর্তী’। ‘মেসোট্রন’ থেকে আরো সংক্ষিপ্ত হয়ে এদের নাম হয় ‘মেসন’। ততদিনে প্রফেসর কার্ল এন্ডারসন ইলেকট্রনের ভরের সমান ভর ও ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট পজিট্রন আবিষ্কার করেছেন। একই বছর তিনি আরেক ধরনের অব-পারমাণবিক কণা আবিষ্কার করে ভেবেছিলেন সেগুলো ইউকাওয়ার মেসন। কিন্তু দেখা গেল এন্ডারসনের কণাগুলোর ভর ইলেকট্রনের ভরের ২০৭ গুণ। ইউকাওয়ার মেসনের ভর ইলেকট্রনের ২৭০ গুণ। এন্ডারসন তার কণাগুলোর নাম দিলেন ‘মিউ-মেসন’ বা সংক্ষেপে ‘মিউয়ন’।

 

দেবেন্দ্রমোহন বসু

 

দেবেন্দ্রমোহন বসু ও বিভা চৌধুরী আরও পরীক্ষা করার জন্যে ফটোগ্রাফিক প্লেটগুলোকে এক নাগাড়ে ২০২ দিন সূর্যালোকে রেখে দিলেন কিন্তু উচ্চ-শক্তির প্রোটন কণার গতিপথ দেখলেন না | তাদের পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত কণাগুলির ভর হিসেব করে দেখলেন ইলেকট্রনের ভরের ১৬০ গুণ | তারা বুঝলেন কোথাও ভুল হচ্ছে | বিশ্লেষণ করে দেখলেন তাদের ব্যবহৃত ফটোগ্রাফিক প্লেট ‘হাফ-টোন’ | কিন্তু সেই সময় ভারতে ‘ফুল-টোন’ প্লেট পাওয়া অসম্ভব | তবুও হাল ছাড়লেন না দুজনে | ‘হাফ-টোন’ ফটোগ্রাফিক প্লেট দিয়েই আবার পরীক্ষা করলেন | এবার কণাগুলোর ভর পাওয়া গেল ইলেকট্রনের ভরের ১৮৬ গুণ | দুজনেই বুঝতে পারলেন উন্নতমানের আরও স্পর্শকাতর ফটোগ্রাফিক প্লেট ছাড়া তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া অর্থহীন | অর্থ এবং পরিকাঠামোর কাছে হার মানলেন দুজনে | ১৯৪৫ সালে বিভা চৌধুরি ইংল্যান্ডে চলে যান প্যাট্রিক ব্ল্যাকেটের সাথে কাজ করার জন্য | বন্ধ হয়ে যায় এই গবেষণা |

ইংরেজ পদার্থবিদ সিসিল পাওয়েল দেবেন্দ্রমোহন ও বিভা চৌধুরীর পদ্ধতি অনুসরণ করে বলিভিয়ায় গিয়ে পরীক্ষা শুরু করলেন | সরকারের থেকে পেলেন অর্থসাহায্য, সমস্ত আধুনিক সুযোগসুবিধা | পরীক্ষার ফলাফল হিসেব করে দেখলেন নতুন কণিকার ভর হয়েছে ইলেকট্রনের ভরের ২৭৩ গুণ | ইউকাওয়ার মেসনের ভরের সাথে প্রায় হুবহু মিলে গেছে পাওয়েলের ফলাফল। ১৯৫০ সালে নোবেল পেলেন ইংরেজ পদার্থবিদ সিসিল পাওয়েল |

আরো পড়ুন:  দেবেন্দ্রমোহন বসুর দেখানো পথে নোবেল পেলেন ইংরেজ পদার্থবিদ সিসিল পাওয়েল,বঞ্চিত হলেন দেবেন্দ্রমোহন

 

সিসিল পাওয়েল

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ম্যাঞ্চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যাট্রিক ব্ল্যাকেটের তত্ত্বাবধানে বিভা চৌধুরী মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন । সেখানে তিনি extensive air shower বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের প্রথমদিকে এই বিষয়ে তিনি তাঁর গবেষণাপত্র “Extensive air showers associated with penetrating particles” জমা দেন এবং ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।তিনিই ফিজিক্সে-র প্রথম বাঙালি মহিলা ডক্টরেট । দ্য ম্যানচেস্টার হেরাল্ড নামে একটি স্থানীয় পত্রিকা ডক্টর চৌধুরীর গবেষণা কর্ম ও সাক্ষাৎকারকে “Meet India’s New Woman Scientist – She has an eye for cosmic rays” নামে প্রকাশ করে।

 

প্যাট্রিক ব্ল্যাকেট

সাক্ষাৎকারে ডক্টর চৌধুরী তৎকালীন সময়ের মেয়েদের বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা সম্পর্কে বলেন-
Women are terrified of physics – that is the trouble. It is a tragedy that we have so few women physicists today… I can count the women physicists I know, both in India and England, on the fingers of one hand. At school scientifically-inclined girls choose Chemistry; perhaps because a really sound grasp of Higher Mathematics is one essential of any Physicist’s equipment”

“মেয়েরা পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে আতঙ্কিত – এটাই সমস্যা। এটি খুবই দুঃখজনক যে আজ আমাদের দেশে খুব কম সংখ্যক মহিলা পদার্থবিজ্ঞানী রয়েছেন… আমি ভারত এবং ইংল্যান্ড উভয় দেশেরই মহিলা পদার্থবিদদের একহাতের অঙ্গুলিতে গণনা করতে পারি। বিদ্যালয়ে যে সকল মেয়েদের বিজ্ঞান সম্পর্কে ঝোঁক আছে, সেই সকল মেয়েরা রসায়ন বেছে নেয়; সম্ভবত তারা উপলব্ধি করতে পারে যে উচ্চতর পদার্থবিদ্যার জন্য গণিতের প্রয়োজনীয়তা প্রবল।”

এরপর দেশে ফিরে আসেন বিভা চৌধুরী । হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা তখন TIFR-এর জন্য তরুণ বিজ্ঞানীদের খুঁজছেন । বিভাদেবী ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে টাটা ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ সেন্টারে যোগদান করেন এবং ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আট বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন । বিভা চৌধুরী ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের প্রথম মহিলা গবেষক। সেখানে ক্লাউড চেম্বার নিয়ে গবেষণা করেন । টাটা ইন্সটিটিউটে থাকাকালীন ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি এবং প্রফেসর সুকুমার বিশ্বাস ইতালির পিসায় অনুষ্ঠিত প্রাথমিক কণা সম্পর্কিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ।

 

হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার সঙ্গে বিভা চৌধুরী

 

১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি টাটা ইন্সটিটিউট ছেড়ে আমেদাবাদের ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য আসেন বিভা চৌধুরী । ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে কোলার গোল্ড ফিল্ডস গবেষণার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে বিভাদেবী ওয়াই. সি. সাক্সেনার সঙ্গে নিয়ন ফ্ল্যাশ টিউব প্রযুক্তি ব্যবহার করে ≥১৫০ GeV শক্তির মিউয়নের বৈশিষ্ট (সংখ্যাধিক্য, পূর্ণ সংখ্যা এবং কৌণিক বিতরণ) সম্পর্কে গবেষণা করেন। পরীক্ষাটি কোলার গোল্ড ফিল্ডে ৫৮০ মিটার জলের সমতুল্য গভীরতায় পরিমাপ করা হয়েছিল। তাঁরা দুইটি বিস্ফোরণ লক্ষ্য করেন। প্রথমটি কেন্দ্রের ট্র্যাকগুলির একটি সরু জেট সমন্বিত এবং দ্বিতীয়টি ট্র্যাকের দুটি হালকা বান্ডিল সমন্বিত। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁরা “Pramana-Journal of Physics” পত্রিকায় তাদের গবেষণা সম্পর্কে জানান এবং কোলার গোল্ড ফিল্ডস মিউয়ন সম্পর্কে তাদের গবেষণা চালিয়ে যান।

আরো পড়ুন:  মুখে মুখে অঙ্ক করার পদ্ধতি বা মানসাঙ্কের আবিষ্কারক তিনি,আমরা কি মনে রেখেছি গণিতজ্ঞ শুভঙ্কর দাস কে?

তাঁর বৈজ্ঞানিক জীবনের শেষের দিকে তিনি সলিড স্টেট ডিটেক্টর, যেমন CR-39 (DOP) ব্যবহার করে শক্তিশালী ভারী কণা গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর এই গবেষণায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ. কে. গাঙ্গুলী ছিলেন একজন প্রধান সহকর্মী। সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের পরিচালক প্রফেসর ডি. এন. কুন্ডু ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে ফিজিক্যাল রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে আসলে তাঁর সঙ্গে বিভাদেবীর পরিচয় হয়। বিভাদেবী অবসরের পরেও উচ্চ শক্তির কণা পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে গবেষণা চালিয়ে যেতে চাইলে, ফেসর ডি. এন. কুন্ডু সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের অতিথি কর্মী হিসেবে তাঁকে গবেষণার সুযোগ দেন। তিনি সলিড স্টেট পারমাণবিক ট্র্যাক শনাক্তকারী পলিকার্বনেট Lexan দ্বারাও গবেষণা করেন। গোল্ড টার্গেটকে ৫০ MeV শক্তির α-কণার বিম দ্বারা বিস্ফোরণ করানো হয়। তাঁরা আধান-পরিবর্তনের যে প্রস্থচ্ছেদ পরীক্ষামূলকভাবে পায় তার মান ২.৫mb ± ০.৫mb., যা তাত্ত্বিক মানের সঙ্গে মিলে যায়।

১৯৯১ সালের ২ জুন কলকাতায় প্রয়াত হন বিভা চৌধুরী । বিয়ে করেননি বিভা চৌধুরী । পদার্থবিদ্যায় গবেষণার জন্য হোমি ভাবার বিবাহ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বিভা চৌধুরী ।

মহিলা হওয়ার জন্যে নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন বিভা চৌধুরী । ডি.এম.বোস এর কাছ থেকে বিভা চৌধুরীর পিএইচ.ডি হল না কেন এই প্রশ্ন থাকবেই । শোনা যায় সি ভি রামন তাঁকে নিতে অস্বীকার করেছিলেন, এমনকি পরিস্থিতির চাপে TIFR- এর চাকরি ছেড়ে দিতে হয়েছিল বিভা চৌধুরীকে । এমনকি নোবেল পুরস্কার পেতেই পারতেন তিনি, কিন্তু পাননি । এমনকি কেউ নোবেলের জন্যে বিভা চৌধুরীর নাম মনোনয়নও করেনি । দেশ প্রাপ্য সম্মান দেয়নি বিভা চৌধুরীকে । এমনকি বাঙালির কাছেও বিভা চৌধুরী বিস্মৃতপ্রায় । কিন্তু বিশ্বের বিজ্ঞানমহলে বিভা চৌধুরী আজও এক পরিচিত নাম । তাঁকে সম্মান জানাতে প্যারিসের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন HD 86081 নক্ষত্রটির বিভা নাম দিয়েছে ।

-অভীক মণ্ডল
তথ্য – উইকিপিডিয়া

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।