ভারতীয় ফুটবলকে দিয়েছিলেন আধুনিকতার স্বাদ,ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম ভারতীয় ম্যাচ কমিশনারও ছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

ভারতীয় ফুটবলকে দিয়েছিলেন আধুনিকতার স্বাদ,ফিফা বিশ্বকাপে প্রথম ভারতীয় ম্যাচ কমিশনারও ছিলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি

ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব আছেন অনেকেই, কিন্তু সকলেই সেরা হয়েছেন তাঁদের ক্রীড়া নৈপুন্য’র খাতিরে। তবে এখন যার কথা বলব তিনি কিন্তু কোন খেলোয়াড় নন, একজন ফুটবল প্রশাসক। ১৯৮৮’র ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় ফুটবল সংস্থার সভাপতি নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৯ বছর তিনি ওই পদে ছিলেন। তাঁর আমলে ভারতীয় ফুটবল আধুনিকতার স্বাদ পায়। পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, পদ্ধতিগত আধুনিকীকরণ ভারতীয় ফুটবল কে বিশ্ব ফুটবলের প্রচারের আলোয় নিয়ে আসে। তিনি হলেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি।

ভারতীয় ফুটবলে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির সবচেয়ে বড় অবদান জাতীয় ফুটবল লীগ এর সূচনা | এই লীগ চ্যাম্পিয়নশীপ পদ্ধতি হল আধুনিক ফুটবল সংস্কৃতি চর্চার সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মাধ্যম, এই পদ্ধতিতেই প্রত্যেক দেশ তার স্বতন্ত্র ক্রীড়াশৈলীর প্রকাশ,অভ্যাস ও প্রদর্শন করে। কিন্তু ১৯৯৬ এর পূর্বে পশ্চিমবঙ্গের “ক্যালকাটা ফুটবল লীগ “ছাড়া ক্লাবভিত্তিক কোন উন্নত ফুটবল লীগ ভারতে ছিল না। সর্বভারতীয় ফুটবলের প্রতিযোগিতা ছিল ফেডারেশন কাপ, ডুরান্ড কাপ, রোভার্স কাপ ইত্যাদি। এগুলি ছিল মূলত রাউন্ড রবিন পদ্ধতির বা নক্ আউট পদ্ধতির প্রতিযোগিতা।তাই ১৯৯৬ সালে তিনি প্রবর্তন করেন “জাতীয় ফুটবল লীগ ” এর। যা ভারতীয় ফুটবলের চিন্তা ভাবনাকেই আমূল বদলে দেয়। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির প্রশাসনিক দক্ষতার ফলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা’র স্থায়ী সদস্য হন। তিনি ফিফা কোর্ট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর সদস্য হন, এছাড়াও এশিয়ার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা এএফসি’র লিগ্যাল কমিটির সভাপতি হন। তিনি ১৯৯৫ ও ১৯৯৯’র মহিলা ফুটবল বিশ্বকাপে ফিফার টেকনিক্যাল পর্যবেক্ষক দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮,২০০২ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে তিনি পর্যবেক্ষক রূপে কাজ করেছন। তিনিই প্রথম ভারতীয় যিনি ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ যথাক্রমে, স্পেন বনাম তিউনিসিয়া ও অস্ট্রেলিয়া বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের ম্যাচ কমিশনার নির্বাচিত হন।ফুটবলে পা না দিয়েও তিনি ভারতীয় ফুটবলকে এক অন্য মাত্রা দেন। ব্যক্তিগত জীবনেও প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ছিলেন নিখাদ ফুটবল প্রেমী।

আরো পড়ুন:  পোপকে মারাদোনা বললেন,ভ্যাটিকানের ছাদের অলংকরণে ব্যবহৃত সোনা গরীব বাচ্চাদের উন্নতিকল্পে খরচ করুন

২০০৮ সালে তিনি হৃদযন্ত্রে আক্রমন হয় ও কোমায় চলে যান প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি। হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তার অবস্থা ফেরানোর জন্য সবসময় টিভি স্ক্রিনে চালিয়ে রাখা হত তার দুটি প্রিয় জিনিস সংসদীয় বিতর্ক ও ফুটবলকে। তিনি বিশ্বকে ভারতীয় ফুটবল সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করেছেন, তিনি ফিফা সভাপতি কে ভারতে এনে দেখিয়েছিলেন ভারতীয় ফুটবলকে। দেখিয়েছিলেন ফিফা ক্লাসিক ডার্বি সম্মানিত হওয়া কলকাতা ডার্বি। এই সব কিছু দেখে ফিফার তৎকালীন সভাপতি শেপ ব্লাটার ভারত কে এশীয় ফুটবলের ঘুমন্ত দৈত্য আখ্যা দেন। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির উদ্যোগে ভারতে জুনিয়র বিশ্বকাপের আয়োজক হয় ভারত। ২০১৭ তে তা অনুষ্ঠিত হওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রিয়রঞ্জন পরলোক গত হন। জানি না কাকতালীয় কিনা, তবুও কেন জানি না মনে হয় তার স্বপ্নের প্রকল্পের বাস্তবায়ন দেখেই যেন তিনি পরলোকগমন করেন |

আরো পড়ুন:  কলকাতায় এখনও মাটিতে বসে কাঁসার থালায় খেতে চাইলে আসতেই হবে ১৫০ বছরের পুরোনো জগন্মাতা ভোজনালয়ে

-কৌস্তভ বিশ্বাস

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।