আটটি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল জয় গোস্বামীর প্রথম বই,বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল মাত্র বারো

আটটি কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছিল জয় গোস্বামীর প্রথম বই,বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা ছিল মাত্র বারো

১৯৭৫ সালের কথা | প্রথম প্রথম তিনি লিখতেন লিট্ল ম্যাগাজিনে | বিভিন্ন জায়গায় লেখা পাঠাতেন, অনেক জায়গায় লেখা ছাপা হত আবার কিছু জায়গায় লেখা ছাপা হত না | এভাবেই চলল কিছুদিন | ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ বেশ অসুস্থ হয়ে পড়লেন তিনি | প্রচন্ড জ্বর | সঙ্গে বমি | ডাক্তার বলল বাড়িতেই বিশ্রাম নিতে | কিন্তু বাড়িতে মন টেকে না | গেলেন মহকুমা লাইব্রেরিতে | সেখানে বসে বসে বই পড়তে লাগলেন | শেষ করলেন বেশ কিছু বিখ্যাত বই | সেই লাইব্রেরিতে বসেই লিখে ফেললেন কবিতা | প্রথম লাইনটা এল: ‘সম্পূর্ণ ক্ষুধার নীচে বালি আর সোরা আর গন্ধকের গৃহ…’। এভাবেই পাঁচ ছয় লাইন লেখার পর বাড়ি ফিরলেন | বাড়ি ফিরে শেষ করলেন বাকিটা | এভাবেই বেশ কিছুদিনের প্রচেষ্টায় লিখে ফেললেন ষোলো-সতেরোটা কবিতা | সবগুলোই চোদ্দো লাইনের মধ্যে | এর মধ্যে সাত আটটা কবিতা তিনি পড়ে শোনালেন চন্দন মুখোপাধ্যায়কে | তিনি বললেন এই আটটা কবিতা নিয়ে একটা বই প্রকাশ করতে | প্রকাশক হলেন দেবদাস আচার্য | বই ছাপানোর জন্যে দরকার ১৪৫ টাকা | মায়ের থেকে নিলেন টাকা | মা তাকে বললেন,‘ভাইকে তো একটা সাইকেল কিনে দিতে হল, তুমি না হয় বই-ই ছাপাও। তুমি তো আর সাইকেল চড়তে শিখলে না!’

আরো পড়ুন:  সবটাই ছিল 'না খাওয়ার' বিরুদ্ধে একটা লড়াই : শ্রমজীবী লেখোয়াড় মনোরঞ্জন ব্যাপারী

১৯৭৭ সালের ১৪ জানুয়ারী | প্রকাশিত হল তার প্রথম বই ‘ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’ | বইটি উৎসর্গ করেছিলেন নিজের মা কে | কবিতার সংখ্যা ছিল আট। মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা বারো | বইয়ের দাম ছিল এক টাকা | প্রথম বই ভালই বিক্রি হয়েছিল | সেই শুরু আর আজ বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি তিনি |

তিনিই লিখেছিলেন :

“অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।”

আরো পড়ুন:  বাংলা ভাষায় প্রথম বিজ্ঞান-নির্ভর সাহিত্যের সৃষ্টিকর্তা ছিলেন বিজ্ঞান-সাধক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী

তিনি জয় গোস্বামী | জয় গােস্বামীর জন্ম ১০ই নভেম্বর ১৯৫৪ কলকাতায় | ৫ বছর বয়স থেকে সপরিবারে রাণাঘাটে । তাঁর পিতা মধু গোস্বামী ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী রাজনীতি করতেন। তাঁর যখন আট বছর পাঁচ মাস বয়স তখন পিতৃহারা হন। তাঁর মা শিক্ষকতা করে তাঁকে লালন পালন করেন। প্রথম কবিতা লিখেছিলেন ১৩-১৪ বছর বয়সে। নিয়মিত কবিতা লিখতে শুরু করেন ১৬-১৭ বছর বয়সে | জয় গোস্বামীর প্রথাগত লেখা পড়ার পরিসমাপ্তি ঘটে একাদশ শ্রেণীতে থাকার সময় | প্রথম কবিতা ছাপা হয় ১৯ বছর বয়সে, একই সঙ্গে তিনটি ছােট পত্রিকায়, ‘সীমান্ত সাহিত্য’, ‘পদক্ষেপ’ ও ‘হোমশিখা’ | জয় গোস্বামীর ভাষায়, ‘‘আমার প্রতিদিনের জীবনে মনের ভেতর যে ভাষা জন্মায়, যে অভিজ্ঞতা জন্ম নেয়, তাকে ভাষা দেওয়ার চেষ্টা করি।’’ তিনি আরো বলেন, “আমার জীবন হচ্ছে ধারাবাহিক বিচ্ছেদের মালা গাঁথার ইতিহাস। আমার মাস্টার মশাই, আমার মা, আমার ভাই, আমার বন্ধু, নারী, সহকর্মী, যাঁরা আমার জীবনে এসেছেন, তাঁরা কেউ আমাকে নিয়ে সুখী নন। তাঁরা কোনো না কোনো কারণে হতাশ বা আমাকে নিয়ে ক্লান্ত।”

আরো পড়ুন:  হারিয়ে গিয়েছিল ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি পাণ্ডুলিপিটি,অনেক চেষ্টার পর উদ্ধার হয় প্রপার্টি অফিসে

মায়ের টাকাতেই ১৯৭৮-এ জয় গোস্বামী প্রকাশ করেছিলেন ২য় কাব্যগ্রন্থ প্রত্নজীব। অতঃপর কবি শঙ্খ ঘোষ তাকে প্রকাশক জুটিয়ে দেন এবং ১৯৮১-তে তার তৃতীয় কাব্য আলেয়া হ্রদ প্রকাশিত হয় | আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন দুবার। ১৯৯০-তে ‘ঘুমিয়েছ, ঝাউপাতা?’ কাব্যগ্রন্থের জন্য এবং ১৯৯৮-তে ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’ কাব্যোপন্যাসের জন্য। ১৯৯৭-এ জয় গোস্বামী পেয়েছেন ‘পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি পুরস্কার’ – ‘বজ্রবিদ্যুৎ-ভর্তি খাতা’ কাব্যগ্রন্থের জন্য। ১৯৯৭ সালে ‘বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্মৃতি পুরস্কার’ পান ‘পাতার পােশাক’ কাব্যগ্রন্থ এবং ২০০০ সালে ‘সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার’ পান ‘পাগলী, তােমার সঙ্গে’ কাব্যগ্রন্থের জন্য।

তথ্য : উইকিপিডিয়া,আনন্দবাজার আর্কাইভস (জয় গোস্বামীর সাক্ষাৎকার)

 

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।