কালিতলায় জল জমেছে,গামবুট পড়ে ড্রেনে নামলেন কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুভাষচন্দ্র বসু

কালিতলায় জল জমেছে,গামবুট পড়ে ড্রেনে নামলেন কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুভাষচন্দ্র বসু

অনেক পুরোনো দিনের কথা । সুভাষচন্দ্র বসু তখন কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার । এক সকালে সুভাষচন্দ্রের ঘরে গিয়ে মেজদা শরৎচন্দ্র বসু দেখলেন ঘরে একটা বিরাট আকারের গামবুট । শরৎচন্দ্র বসু জিজ্ঞেস করলেন এইটা কে পড়বে । সুভাষচন্দ্র বসু বললেন এটা আমি পড়ব । শরৎচন্দ্র বসু বললেন হঠাৎ এই গামবুটের দরকার পড়ল কেন ? সুভাষচন্দ্র বসু বললেন, একবার কালিতলা যাবো , ড্রেন এ নামতে হবে , ওখানে এতো জল জমছে কেন সেটা দেখে তার ব্যবস্থা করতে হবে !

একটু পরেই চিফ ইঞ্জিনিয়ার , ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ার , ড্রেনেজ বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার সবাই এসে পড়লেন ! সুভাষচন্দ্র সেই নতুন গামবুট পরে চললেন কালিতলা !

এমনটাই ছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু । রাষ্ট্রতন্ত্রের চিন্তায় তিনি বললেন — ভারতবর্ষ হবে সেবামূলক রাষ্ট্র সেইজন্য সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে রাষ্ট্রকে সেবামূলক আদর্শে গড়ে তুলে ! এটি হবে একটি নতুন সৃষ্টির আহ্বান !

আরো পড়ুন:  টালা সেতুর নাম হেমন্ত সেতু হল কেন?

নেতাজি সুভাষচন্দ্র ভারতের স্বাধীনতা ও সেইসঙ্গে জনগণের দারিদ্রমোচন করে সাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে গিয়েছেন সারাজীবন ।

১৯২৪ সালে কলকাতা পৌর নির্বাচনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মেয়র হন এবং সুভাষচন্দ্র বসু মাত্র ২৭ বছর বয়সে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অর্থাৎ পৌর শাসনের সর্বপ্রধান নিযুক্ত হন। এছাড়াও সুরাবর্দী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন । সেই সময় নতুন নিয়ম অনুসারে যিনি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হবেন, তিনি হবেন পরিচালন ব্যবস্থা সর্বপ্রধান এবং যিনি মেয়র তিনি হলেন সমগ্রভাবে কর্পোরেশনের প্রধান । কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হওয়ার পরেই সুভাষচন্দ্র বসু ঘোষণা করলেন দেশবন্ধুর নির্দেশিত পথে কর্পোরেশনকে চালিত করবেন ! সেই সময় পৌরসভার কর্মচারীদের সরকারি পোশাক ছিল খদ্দর । সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিদিন সকাল সাতটায় কর্মচারীদের নিয়ে কর্পোরেশনের বিভিন্ন কারখানা ও কর্মকেন্দ্র পরিদর্শন করতেন । সেখানে কর্মচারীদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা হাতে কলমে বুঝে নিতেন এবং সমাধান করতেন ।

আরো পড়ুন:  দুর্ঘটনা না আত্মহত্যা - কবি জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু নিয়ে আজও রয়ে গেছে বহু প্রশ্ন

আসুন দেখে নেওয়া যাক দেশবন্ধু ও নেতাজি – গুরু শিষ্য যুগলবন্দীতে কলকাতায় উল্লেখযোগ্য নতুন নতুন কি কি করেছিলেন –

১) ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে নতুন রাস্তা ও পার্ক তৈরি করা হল।
২) কলকাতায় ছেলে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হল।
৩) শহরের প্রতিটি স্থানে স্থানে স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের নিয়ে এক স্বাস্থ্য সমিতি স্থাপন করা হল যার মূল লক্ষ্য ছিল গরীব মানুষ যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে পারে।
৪) এই সময় থেকেই জামা কাপড় কেনার ব্যাপারে স্বদেশী দ্রব্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু হল।
৫) প্রতিটি স্থানে শিশু কল্যাণের জন্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান করা হল।
৬) প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিল বিনামূল্যে শিশু দুগ্ধ সরবরাহ কেন্দ্র।
৭) শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশকিছু উন্নততর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এ কথা সত্য কিন্তু সরকারের নানা বিরোধিতার ফলে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি অবশেষে ১০ বৎসর পরে তা আস্তে আস্তে চালু করা হয়েছিল।
৮) বড়লাট গভর্নর ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারী কে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র সর্বভারতীয় নেতা কলকাতায় এলে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হত।
৯) নতুন কাউকে নিয়োগ করতে হলে সংখ্যালঘুদের দাবি প্রথম সারিতে রাখতে হবে এই রকম একটি নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন:  গাছ থেকে সার দিয়ে ঝুলছে মৃতদেহ,প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হত কলকাতার এই রাস্তায়

১৯২৯ সালে সুভাষচন্দ্র বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্মেলনের সভাপতি হন।তিনি ওই একই বছর নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি ও পরের বছর ১৯৩০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হন।সুভাষচন্দ্র বসু এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস তৎকালীন কলকাতার যে উন্নতি করেছিলেন তা এককথায় অসামান্য ।

Avik mondal

Avik mondal

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।