তিনিই প্রথম দ্বিঘাত সহসমীকরণ সমাধান করেছিলেন,প্রাপ্য সম্মান পাননি গণিতজ্ঞ শ্রীধর আচার্য

তিনিই প্রথম দ্বিঘাত সহসমীকরণ সমাধান করেছিলেন,প্রাপ্য সম্মান পাননি গণিতজ্ঞ শ্রীধর আচার্য

ভূগোল, বিজ্ঞান সবই চলে যায়। ইংরেজিতেও সমস্যা নেই। কিন্তু অঙ্ককে ভয় পায় না এমন শিক্ষার্থী খুবই কম মেলে। ইতিহাসকে পাতিহাঁস করেও যদি বা সামলে নেওয়া যায়, কিন্তু অঙ্ক যেন নৈব নৈব চ ! তবে যারা অঙ্ককে ভালোবাসে তাদের কাছে গণিত খুব প্রিয় বিষয়।

জানেন কি, পৃথিবীর অন্যতম সেরা গণিতজ্ঞ এই বাংলাতেই জন্ম নিয়েছেন। হ্যাঁ, প্রায় ১১৫০ বছর আগে রাঢ়বঙ্গের ভুরিশ্রেষ্ঠ গ্রামে (বর্তমানের হুগলী জেলার ভুরশুট) জন্মেছিলেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গণিতজ্ঞ শ্রীধর আচার্য। পিতা বলদেব, মাতা অচ্ছোকা। কিন্তু আমাদেরই দুর্ভাগ্য, এত বড়মাপের গণিতজ্ঞর কথা আমরা সেভাবে কেউ জানিই না।

পাটিগণিত, বীজগণিতের ব্যবহারিক দিক নিয়ে তিনি আলোকপাত করেন। এছাড়া শূণ্য নিয়েও ছিল তাঁর কাজ। লিখেছেন গবেষণামূলক বই, যা ভবিষ্যতের গনিতজ্ঞদের কাজে আসতে পারে। কিন্তু এত কিছু করেও তিনি প্রাপ্য সন্মান পাননি। আমাদের আত্মবিস্মৃতি তাঁকে যোগ্য সম্মান দেয়নি। অথচ গণিত শাস্ত্রে তাঁর অবদান কিন্তু নেহাত কম নয়….

আরো পড়ুন:  রোগীর এক ফুঁ’তেই ধরা পড়বে পাকস্থলির ক্যান্সার,অভিনব আবিষ্কার বাঙালি বিজ্ঞানীর

১) শ্রীধর দুটি বিখ্যাত গবেষণামূলক বই লেখেন। বইদুটি হল ত্রিশতিকা (পাটিগণিতসার নামেও পরিচিত এই বই) এবং পাটিগণিত। তাঁর প্রধান বই ‘পাটিগণিতাসার’ কে ‘ত্রিশতিকা’ বলা হয় কারণ এই বইটিতে তিন শত শ্লোক আছে! এই বইটিতে সংখ্যা গণনা, পরিমাপ, প্রকৃত সংখ্যা, শূন্য, গুণন, ভাগ, বর্গ, ঘন, ভগ্নাংশ, তিন-এর নিয়ম (রুল অফ থ্রি), সুদকষা, অংশিদারিত্বের ব্যবসা, ক্ষেত্রফল ও আয়তন নির্ণয় সহ গণিতের বিভিন্ন তাত্ত্বিক  বিষয় আলোচনা করা আছে।

২) এছাড়া তিনি অন্তত আরও তিনটি বই লেখেন। যেগুলোর নাম ‘বীজগণিত’, ‘নবশতি’ এবং ‘বরাহপতি’। দ্বিতীয় ভাস্কর (১১৫০ সালের কাছাকাছি) , মাক্কিভট্টের (১৩৭৭সালের কাছাকাছি) এবং রাঘবভট্টের (১৪৯৩ সালে) লেখা থেকে এইসব তথ্য পাওয়া যায়।

৩) আজ থেকে হাজার বছর আগেই তিনি শূণ্য নিয়ে আলোকপাত করেন। ‘শূন্য’ (০) সম্পর্কে ব্যখ্যা দিয়ে বর্ণনা করেন যে, “যদি কোনও সংখ্যার সাথে শূন্য যোগ করা হয় তাহলে যোগফল ওই সংখ্যার সমান থাকবে, আর যদি কোনও সংখ্যা থেকে শূন্য বিয়োগ করা হয় তাহলেও ওই সংখ্যার কোন পরিবর্তন হবে না। এছাড়া যদি কোন সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে গুণ করা হয় তাহলে তার ফলাফল শূন্য হবে।” তবে কোনও সংখ্যাকে শূন্য দিয়ে ভাগ করলে কী হবে সে সম্পর্কে তিনি অবশ্য কিছু বলেননি।

আরো পড়ুন:  ভারতবর্ষে অস্থি সংক্রান্ত চিকিৎসায় এক্স-রশ্মির ব্যবহার প্রথম করেন নীলরতন সরকার

৪) পাশাপাশি ভগ্নাংশের ভাগ নিয়েও গবেষণা চালান। লক্ষ্য করেন ভাজকের সাথে সাথে ভগ্নাংশটিও বৃদ্ধি পেতে থাকে। এজন্য শ্রীধর আচার্য কোন ভগ্নাংশকে ভাগের প্রসঙ্গে ভাজকের অন্যোন্যক দ্বারা গুণ করার প্রণালীও বলে দিয়েছেন।

৫) তিনি বীজগণিত ও পাটিগণিতের ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি পাটিগণিত ও বীজগণিত কে আলাদা বিষয় রূপে গণ্য করে পৃথক বই লেখেন।

আরো পড়ুন:  বাঙালি মনে রাখেনি প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা চিকিৎ‍সককে,ডুডল প্রকাশের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাল গুগুল

৬) গণিতের ইতিহাসে দ্বিঘাতসহ সমীকরণ সমাধানেও তাঁর অবদান অস্বীকার করা যায় না। এই বিষয়ে তিনি প্রথম কয়েকজন গণিতজ্ঞের মধ্যে একজন। তিনি দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধানে গাণিতিক সূত্রটি প্রতিপাদন করেন। এই সূত্র ‘শ্রীধর আচার্যে’র সমীকরণ নামে পরিচিত। দ্বিঘাত সমীকরণের মাত্রা নির্ণয়ের এই সূত্রটি ‘শ্রীধর আচার্যের উপপাদ্য’ নামেও প্রচলিত।

৭) পাটিগণিত এর বর্গমূল ঘনমূল নির্ণয়ের পদ্ধতি এবং ত্রৈরাশিক পদ্ধতি তে সমস্যার সমাধান সম্পর্কে তার অবদানের কথাও বিভিন্ন পুস্তক পাওয়া যায়।

কিন্তু দুঃখের বিষয় তার লেখা মূল পাটিগণিত বই এর অংশবিশেষ খুঁজে পাওয়া গেলেও গণিত বীজগণিত বইটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এত বড় গণিতজ্ঞের গবেষণার ঠিক করে সংরক্ষণ না থাকা আমাদেরই ব্যর্থতা আর ভবিষ্যতের গনিতজ্ঞদের দুর্ভাগ্য!

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।