রোনাল্ড ফিশারের সঙ্গে যৌথভাবে গণিতের পিয়ারসন সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক নির্ণয় করেন অনিল কুমার গায়েন,বাঙালি মনে রাখেনি

রোনাল্ড ফিশারের সঙ্গে যৌথভাবে গণিতের পিয়ারসন সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক নির্ণয় করেন অনিল কুমার গায়েন,বাঙালি মনে রাখেনি

১৯৪৭ সাল । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তরে স্বর্ণ পদক লাভ করে PHD ডিগ্রী লাভের উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান এক বঙ্গসন্তান । কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের পরিসংখ্যান বিভাগে শিক্ষা গ্রহণকালে তিনি হেনরি এলিস ড্যানিয়েলের তত্ত্বাবধানে তাঁর বেশীরভাগ গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন । তাঁর গবেষণায় মুগ্ধ হন স্যার রোনাল্ড ফিশার । এরপর দুজনে মিলে একসাথে গবেষণা শুরু করেন । তিনি স্যার ফিশারের সঙ্গে ফলিত পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করেন। দুজনে যৌথভাবে ফলিত পরিসংখ্যানের ক্ষেত্রে পিয়ারসন সহসম্বন্ধ গুণাঙ্ক নির্ণয় করেন । বিজ্ঞানমহলে সাড়া পড়ে যায় । কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেনরি এলিস ড্যানিয়েলের তত্ত্বাবধানে PHD ডিগ্রী লাভ করেন এবং রয়্যাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল সোসাইটি এবং কেমব্রীজ ফিলোসফিক্যাল ফেলো হিসাবে সন্মানিত হন সেই বঙ্গসন্তান । সেই বঙ্গসন্তান হলেন অনিল কুমার গায়েন ।

আরো পড়ুন:  দেশের করোনা পরিস্থিতিতে গেমচেঞ্জার হতে চলেছে কোভিড টেস্ট কিট ‘ফেলুদা’

অনিল কুমার গায়েন । জন্ম ১৯১৯ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী পূর্ব মেদিনীপুর জেলার লক্ষ্মীগ্রামে এক অতি সাধারণ পরিবারে । বাবার জীবনকৃষ্ণ গায়েন, মা পঞ্চমী দেবী । ছোটবেলাতেই হারিয়েছিলেন বাবাকে । বিধবা মা তাকে ও তার ভাইবোনদের অতি কষ্টে মানুষ করেন । ছোটবেলা থেকেই অনিলকুমার গায়েন ছিলেন মেধাবী । বিদ্যালয় শিক্ষার পর তিনি কলকাতায় এসে গণিত নিয়ে পড়াশুনা করার জন্য সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে স্নাতক হবার পর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৪৩ সালে স্নাতকোত্তরে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণ পদক লাভ করেন।এরপর কেমব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেনরি এলিস ড্যানিয়েলের তত্ত্বাবধানে PHD ডিগ্রী লাভ করেন । সেখানেই স্যার ফিশারের সঙ্গে কাজ করেন তিনি ।

আরো পড়ুন:  পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্যে হোটেলে বাসন মাজতেন, তিনিই হয়ে উঠলেন ভারতবর্ষের দন্তচিকিৎসার জনক

এরপর ভারতে ফিরে আসেন তিনি । কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন । এর কিছুদিন পর অনিল কুমার গায়েন Indian Statistical Institute এ যোগ দেন । সেখানে দীর্ঘদিন গবেষণা ও অধ্যাপনা করেন । এরপর আই আই টি খড়্গপুরে যোগ দেন । সেখানেই অবশিষ্ট কর্মজীবন কাটিয়েছিলেন অনিল কুমার গায়েন । সেখানে থাকাকালীন তিনি ন্যাশানাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন্যাল রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (NCERT) এর মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গেও কাজ করেন। তিনি দীর্ঘদিন আই আই টি খড়্গপুরের গণিত বিভাগের প্রধান ছিলেন ।

আরো পড়ুন:  প্রবাদপ্রতিম গণিতজ্ঞ অয়লারের পৌনে দুশতকের পুরোনো তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তিনি

পরবর্তীকালে অনিল কুমার গায়েন ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেস এ্যাসোশিয়েশনের পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি হন । বাংলার ছাত্রছাত্রীদের জন্যে মেদিনীপুরে শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯০ সালের ১লা মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি দেন । সারাজীবন বাংলার শিক্ষার উন্নতির জন্যে কাজ করে গিয়েছেন তিনি । ২০১২ সালে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে ‘অনিলকুমার গায়েন মেমোরিয়াল লেকচার’ চালু করে । ১৯৭৮ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী ৫৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন অনিল কুমার গায়েন ।

বাঙালি মনে রাখেনি অনিল কুমার গায়েনকে । গতবছর নীরবেই চলে গেল অনিল কুমার গায়েনের জন্মশতবার্ষিকী ।

-অভীক মণ্ডল
তথ্য – উইকিপিডিয়া

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।