ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম এশীয় মহিলা খেলোয়াড় এই বঙ্গতনয়া,খেলেছেন অ্যাসেজ সিরিজ-ও

ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম এশীয় মহিলা খেলোয়াড় এই বঙ্গতনয়া,খেলেছেন অ্যাসেজ সিরিজ-ও

বিশ্ব ক্রিকেটে যতগুলো জনপ্রিয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম “দ্য অ্যাসেজ” সিরিজ। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়া | বস্তুত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৮৮২-৮৩ মরশুমে শুরু হয় এই ঐতিহাসিক ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতার। তবে মহিলা বিভাগে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার শুরু ১৯৩৪-৩৫ মরশুম থেকে। এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিয়েছেন এক বাঙালী। তিনি ঈশা গুহ । ২১ শে মে ১৯৮৫ সালে এক প্রবাসী বাঙালী পরিবারে তার জন্ম। ১৯৭০ এর দশকে তার বাবা মা কলকাতা ছেড়ে ইংল্যান্ডে চলে যান। সেখানেই স্থানীয় ওয়েকম্বে হাই স্কুল পড়াশোনা করেন | এরপর ইউনিভার্সিটি কলেজ থেকে স্নায়ুবিজ্ঞানে এম. ফিল করেন।

ঈশা গুহ তার দাদার সাথে আট বছর বয়স থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করেন । ১৩ বছর বয়সে ইংল্যান্ড দলের বয়স ভিত্তিক প্রতিভা বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন ঈশা | ২০০২ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে ঈশার টেস্টে অভিষেক ঘটে ভারত,ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে এক ত্রিমুখী সিরিজে । ফাইনালে যদিও ইংল্যান্ড হেরে যায় নিউজিল্যান্ড এর কাছে | ঈশা সেই সিরিজে ভালো খেলে নেন তিনটি উইকেট।

আরো পড়ুন:  এশিয়া তথা ভারতের প্রথম বিশ্বশ্রী ছিলেন বাংলার গৌরব মনোতোষ রায়

প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল, ঈশা’ই কিন্তু প্রথম এশীয় মহিলা খেলোয়াড় যিনি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ৮টি টেষ্ট, ৮৩টি একদিনের ম্যাচ ও ২২ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ৮ টি টেষ্ট ম্যাচে তিনি শিকার করেন ২৯টি উইকেট, ৮৩ টি একদিনের ম্যাচে তিনি শিকার করেন ১০১ টি উইকেট এবং ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার শিকার ১৮টি উইকেট। ২০০৯ সালে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ঈশা | ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ই তিনি তার ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মূহুর্ত বলে স্বীকার করেছেন। ২০০৮ সালের ৩১ শে ডিসেম্বরের তালিকা অনুযায়ী ঈশা আইসিসি’র বিচারে মহিলাদের একদিনের ক্রিকেটের একনম্বর বোলার নির্বাচিত হন। তবে ব্যাট হাতে তিনি খুব একটা সফল না হলেও একটি একদিবসীয় ম্যাচে তিনি ও ল্যানসে অ্যাস্কেউ মিলে নবম উইকেটে ৭৩ রান যোগ করেন যা মহিলা একদিবসীয় ক্রিকেটে এখনও একটি নজির। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাসেজ সিরিজে এক ম্যাচে ঝলসে ওঠেন ঈশা | তার টেস্ট কেরিয়ারের সেরা বল করেন এই ম্যাচে বস্তুত এটি ছিল তার সপ্তম টেষ্ট। এক ইনিংসে ৪০ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেটে, দুই ইনিংস মিলিয়ে নেন ৯টি উইকেট |এর ওপর ভর করেই ম্যাচ জিতে যায় ইংল্যান্ড, ঈশা ছিনিয়ে নেন ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার । ঈশা জীবনের শেষ টেষ্ট’টিও খেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই ২০১১ সালে। ২০১২ তে ঈশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন | শেষ হয় এক স্বপ্নের দৌড়। ভাবতে অবাক লাগলেও এটা মানতে হবে যে এই স্বপ্নের রূপকার এক বঙ্গতনয়া |

আরো পড়ুন:  দেশের প্রথম মহিলা ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন তিনি,সিঙ্গেলসে আটবার জাতীয় খেতাব জয়ী "আয়রন লেডি"কে আমরা কি মনে রেখেছি?

-কৌস্তভ বিশ্বাস

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।