বিলাসপুর জেলে ৭৮ দিন অনশন করেছিলেন,২৫ বছর বিনা বিচারে জেলে কাটিয়েছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত

বিলাসপুর জেলে ৭৮ দিন অনশন করেছিলেন,২৫ বছর বিনা বিচারে জেলে কাটিয়েছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত

Reading the Ramayana as a child, he learned the story of Lakshmana’s heroism and his interest in celibacy increased. He later learned the details of celibacy from his mother and decided to serve the country from unmarried for the rest of his life. He is the revolutionary Bhupendra Kumar Dutta.

ভূপেন্দ্র কুমার দত্তের জন্ম ১৮৯২ সালের ৮ অক্টোবর যশোর জেলার ঠাকুরপুর গ্রামে । পিতা কৈশাল চন্দ্র দত্ত এবং মাতা বিমলাসুন্দরী দেবী । ফরিদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময়ে তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন এবং বিভিন্ন বিপ্লবী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন । কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে ওঠেন বিপ্লবী বাঘাযতীনের মন্ত্রশিষ্য । জার্মান অস্ত্রসাহায্যে ভারতে সশস্ত্র বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভূপেন্দ্র কুমার দত্তের । অনুশীলন সমিতির খুলনা ও যশোর কেন্দ্রের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি । বাঘাযতীনের মৃত্যুর পরেও আত্মগোপন অবস্থায় কাজ চালিয়ে যান ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত । কিন্তু ১৯১৭ সালে ধরা পড়েন । তাঁকে বিলাসপুর জেলে বন্দি রাখা হয় । ঐ বছরের শেষে ভারত সচিব মন্টেগু সাহেব ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করার জন্য আগমন করলে রাজবন্দীরা একযোগে অনশন ধর্মঘট করেন। সেই সময় বিলাসপুর জেলে ৭৮ দিন অনশন করেছিলেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত । তাকে দেশের মধ্যে রাখা বিপজ্জনক মনে করে কিছুদিনের মধ্যে তাকে বার্মার ইনসিন জেলে স্থানান্তরিত করা হয় । ১৯২০ সালে মুক্তি পেয়ে গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন । সংগঠনের ভিত্তি দৃঢ় ও প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে বিপ্লবী কিরণ মুখার্জীর সঙ্গে দৌলতপুরে সত্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। খুলনা সেনহাটের রবি রায় ও রসিক দাস এবং সেই সাথে চারু ঘোষ, কুন্তল চক্রবর্তী প্রমুখেরা সেই আশ্রমে যোগ দেন । ১৯২৩ সালে তাঁকে আবার বন্দি করা হয় । ১৯২৮ সালে মুক্তি পেয়ে আবার স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন । ১৯৩০ সালে বিপ্লবী সূর্য সেনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের ঘটনা নিয়ে ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ‘ধন্য চট্টগ্রাম’ নামের একটি প্রবন্ধ লেখেন । এই কারণে তাঁকে আবার বন্দি করা হয় । সেইসময় টানা ৮ বছর জেল খাটেন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত । পুনরায় ১৯৪২ সালে ভারত ছাড় আন্দোলনের সময় ধরা পড়েন এবং ১৯৪৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কারাবাস করেন । দেশবিভাগের পর পাকিস্তানের নাগরিক হয়ে সেখানে আন্দোলন সংগঠনে সচেষ্ট হন। পাকিস্তান পার্লামেন্টের সদস্যও হয়েছিলেন । ১৯৬১ সালে রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ রোধকারী সামরিক আইন জারি হলে তিনি কলকাতায় চলে যান । কলকাতায় কংগ্রেসের কাজে ও পড়াশুনা নিয়ে জীবনের শেষ কয়েকটি দিন কাটিয়ে দেন। ব্রিটিশ সরকার তার বিরুদ্ধে কখনও কোনও মামলা দায়ের করেনি। তবু তাকে জীবনের ২৫ বছর বিনা বিচারে জেলখানায় কাটাতে হয় ।

আরো পড়ুন:  বুকে বুলেট বিঁধল নির্মল সেনের, তবুও থামল না তার রিভলভার

ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত সুলেখক ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থ ‘বিপ্লবের পদচিহ্ন’, ‘ইণ্ডিয়ান রেভলিউশন এন্ড দ্যা কনস্ট্রাকটিভ প্রোগ্রাম’ স্বাধীনতা আন্দোলনের জীবন্ত দলিল । ১৯৭৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় প্রয়াত হন ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত ।

আরো পড়ুন:  মাত্র ১২ বছর বয়সে ব্রিটিশদের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বাজি রাউত

তথ্য : উইকিপিডিয়া

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।