ব্রিটিশদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লিখেছিলেন “আনন্দমঠ”

ব্রিটিশদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লিখেছিলেন “আনন্দমঠ”

কাগজ ছাপার সময় একদিন ম্যাটার কম পড়ল | কাগজের সম্পাদক তাঁকে বললেন পাতা ভরানোর জন্যে কিছু একটা লিখে দিতে | এই অভিজ্ঞতা তাঁর প্রথমবার নয় | এর আগেও তাঁকে অনেকবার পাতা ভরানোর জন্যে লেখা দিতে হয়েছে |
একদিন তিনি ছাপানোর জন্যে একটা কাগজে একটা গান লিখে দিলেন | ছাপাখানার পণ্ডিত ছিলেন রামচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় | তিনি সেই লেখা দেখে খুব খুশী হলেন | বললেন, পাতা ভরানোর জন্যে এটি মন্দ নয় |
এবার তিনি সামান্য রেগেই বললেন “এই গান ভাল কী মন্দ তা আজ বুঝতে পারবে না। বুঝতে পারবে পরে। তখন হয়ত আমি বেঁচে থাকব না। কিন্তু হয়ত তুমি বেঁচে থাকবে তখন |”
যাইহোক এই গানটি নজরে পড়ল যদুভট্ট মহাশয়ের | তিনি গানটিতে সুর দিলেন | যদুভট্ট মহাশয়ের বাড়ির কাছেই ছিল তাঁর বাড়ি | যদুভট্ট মহাশয় তাঁকে আমন্ত্রণ জানালেন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে | ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যদুভট্ট মহাশয় সেই গান শোনালেন উপস্থিত সকলকে | কিন্তু কারও সে গান ভাল লাগল না | এবার কিছুটা দুঃখ পেলেন তিনি | বলে ওঠেন, ‘‘ভাল না লাগলে শুনো না।’’

আরো পড়ুন:  নেতাজীর চিঠি ও স্মৃতিবিজড়িত চেয়ার আজও সযত্নে রক্ষিত আছে আসানসোলের রায় পরিবারে

তাঁর বড় মেয়ে শরৎকুমারী সেদিন তাঁর সাথেই ছিলেন | মেয়ে তাঁকে বলল ‘‘বাবা, গান তো কারও পছন্দ হল না?’’
এবার তিনি রেগেই গেলেন | বললেন,”আজ এদের কারও ভালো লাগেনি | আমি মানছি | কিন্তু এই গান নিয়ে একদিন গোটা বাংলা মেতে উঠবে |”
বেশীদিন অপেক্ষা করতে হয়নি যদিও | কিছুদিনের মধ্যেই এই গান হয়ে ওঠে বাংলার জাতীয় মন্ত্র |
গানটি ছিল “বন্দেমাতরম”|

আরো পড়ুন:  দেশভাগ মানতে পারেননি অন্নদাশঙ্কর রায়,প্রথম কবিতা লিখেছিলেন ওড়িয়া ভাষায়

তখন তিনি যশোরে | পঞ্চম শ্রেণির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর। মাঝে কিছুদিনের জন্যে হয়েছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি | এই সময় বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় তাঁর লেখা উপন্যাস “আনন্দমঠ” | ক্ষুব্ধ হল ব্রিটিশ শাসক | চাপ আসতে থাকে লেখা ও প্রকাশনা বন্ধ করার | কিন্তু তিনি সংকল্পে অটল | লেখা বন্ধ করবেন না | ঠিক হল পদচ্যুত করা হবে তাঁকে | কিন্তু তাতে ঝামেলা বাড়তে পারে এই বুঝে ব্রিটিশরা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির পদটাই উঠিয়ে দেয় | তাতেও নিস্তার পাননি তিনি | ক্রমাগত বদলি হতে থাকেন | বছরে দু’তিন বার করে বদলি | শেষমেশ তিনি চাকরি ছেড়ে দেন |

আরো পড়ুন:  শুধু মাঠ নয়,চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পর্দাও কাঁপিয়েছিলেন "ফিল্মস্টার" গোষ্ঠ পাল

প্রসঙ্গত আনন্দমঠ উপন্যাস রচনার অনেক আগেই লেখা হয়েছিল বন্দেমাতরম গানটি | পরবর্তীতে আনন্দমঠ উপন্যাসে বন্দেমাতরম গানটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল |

নিজের প্রতি এমনই গভীর বিশ্বাস ছিল যে মানুষটির তাঁর নাম সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় |

লেখক – অভীক মণ্ডল

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।