প্রথম ভারতীয় হিসেবে লন্ডনের ‘রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টস’ এর ‘ফেলো’ নির্বাচিত হয়েছিলেন অসিতকুমার হালদার,বাঙালি মনে রাখেনি

প্রথম ভারতীয় হিসেবে লন্ডনের ‘রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টস’ এর ‘ফেলো’ নির্বাচিত হয়েছিলেন অসিতকুমার হালদার,বাঙালি মনে রাখেনি

অনেক পুরোনো দিনের কথা | কবিগুরু বিশ্বভারতীর আশ্রমে ছাত্র মুকুল দে’কে বললেন মা সরস্বতীর ছবি আঁকতে | মুকুল আঁকলেন কিন্তু কবিগুরুর সেই ছবি পছন্দ হল না | আরেক ছাত্র আঁকলেন মা সরস্বতীর ছবি | সেই ছবি দেখে মুগ্ধ হলেন কবিগুরু | সঙ্গে সঙ্গে লিখলেন, ‘তুমি যে সুরের আগুন লাগিয়ে দিলে মোর প্রাণে’ | কবিগুরু ডেকে পাঠালেন সেই ছাত্র | প্রশংসাও করলেন খুব | কে ছিল সেই ছাত্র ?

সেই ছাত্রটি ছিলেন চিত্রশিল্পী অসিতকুমার হালদার | অসিতকুমার হালদার প্রথম ভারতীয় যিনি লন্ডনের ‘রয়্যাল সোসাইটি অব আর্টস’-এর ‘ফেলো’ নির্বাচিত হয়েছিলেন,বাঙালি মনে রাখেনি | অসিতকুমার হালদারের জন্ম জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে ১৮৯০ সালে ১০ সেপ্টেম্বর | মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের কন্যা শরৎকুমারী দেবীর কন্যা সুপ্রভা দেবীর পুত্র ছিলেন তিনি | ঠাকুরদা রাখালদাস হালদার ও বাবা সুকুমার হালদার দুজনেই চিত্রশিল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন |

আরো পড়ুন:  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হল সাঁওতালি বিভাগ,কলকাতায় প্রথম পড়ানো হবে এই উপজাতি ভাষা

ছোট থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসতেন অসিতকুমার হালদার | সময় পেলেই বসে পড়তেন রং তুলি নিয়ে | চোদ্দ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে | দুই বিখ্যাত ভাস্কর যদু পাল ও বক্রেশ্বর পালের ছাত্র ছিলেন তিনি | এর পাশাপাশি বিখ্যাত ভাস্কর Leonard Jennings এর কাছেও ছবি আঁকা শিখেছিলেন তিনি | এরপর অসিতকুমার হালদার বিশ্বভারতীতে ভর্তি হন | পরে তিনি কলাভবনেও যোগ দেন। নন্দলাল বসু ছিলেন তাঁর সহপাঠী | ১৯০৯ থেকে ১৯১১ পর্যন্ত অজন্তার গুহা চিত্র নিয়ে কাজ করার জন্য অসিতকুমার হালদার অজন্তায় ছিলেন | নন্দলাল বসু,লেডি হ্যারিংটন ও অন্যান্য বেশ কিছু শিল্পীর সঙ্গে এই কাজ করেছিলেন অসিতকুমার হালদার | গুহা চিত্রকে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরেছিলেন তারা | ১৯১১ থেকে ১৯১৫ পর্যন্ত তিনি শান্তিনিকেতনে শিল্প শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন অসিতকুমার হালদার । ১৯১১ থেকে ১৯২৩ পর্যন্ত তিনি শান্তিনিকেতনে কলাভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন | শান্তিনিকেতনের নানা অনুষ্ঠানে মঞ্চসজ্জা ও আলপনার কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল | ইংরেজি ‘গীতাঞ্জলি’র বিশেষ সচিত্র মুদ্রণে অসিতকুমার হালদারের আঁকা ছবি ছিল | কবিগুরুকে নানান শিল্প এবং সংস্কৃতি সংক্রান্ত কাজে সাহায্য করতেন অসিতকুমার হালদার | ১৯২৩ সালে তিনি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও জার্মানীতে শিক্ষামূলক ভ্রমণে যান | ফিরে আসার পর তিনি জয়পুরের মহারাজার আর্টস এ্যান্ড ক্রাফ্টস স্কুলের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন | লক্ষ্মৌতে মহারাজার আর্টস এ্যান্ড ক্রাফ্টস স্কুলের অধ্যক্ষও ছিলেন তিনি |

আরো পড়ুন:  রেস্তোরাঁয় পর্দার জুটি,কম্বো মেনুর নামকরণের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে ট্রাইব ক্যাফে

গৌতম বুদ্ধের জীবনী নিয়ে ৩২ টি ছবি ও ভারতের ইতিহাস ভিত্তিক ৩০ টি ছবি এঁকেছিলেন | যশোদা ও কৃষ্ণ,ভারত মাতার জাগরণ,কুণাল ও অশোক,রাসলীলা,প্রণাম ছবিগুলি তাঁর অন্যতম সেরা শিল্পকর্ম | অসিতকুমার হালদার ছিলেন সরকারী আর্টস স্কুলের প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ। ১৯৩৮ সালে তাঁর শিল্পকীর্তি নিয়ে এলাহাবাদ মিউজিয়মে “হালদার হল” নামে এক বিশাল প্রদর্শনশালা খোলা হয় |

আরো পড়ুন:  প্রবাদপ্রতিম গণিতজ্ঞ অয়লারের পৌনে দুশতকের পুরোনো তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলেন রাজচন্দ্র বসু

চিত্রকলা ও ভাস্কর্য ছাড়াও বহু গ্রন্থ লিখেছেন অসিতকুমার হালদার | তিনি কবি কালীদাসের “মেঘদূত” ও “ঋতুসংহার” এর অনুবাদ করেন | ‘রুবায়েৎ-এ- ওমর খৈয়ামে”র ১২ টি শ্লোকের‌ও বঙ্গানুবাদ করেন অসিতকুমার হালদার | এছাড়াও তিনি বাংলায় অনেকগুলি ব‌ইও লেখেন। অজন্তা (অজন্তা গুহায় ভ্রমণ কাহিনী), হো দের গল্প (হো উপজাতিদের জীবন ও সংস্কৃতি) , বাঘগুহা ও রামগড় (বাঘ গুহায় ভ্রমণ কাহিনী) অসিতকুমার হালদারের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যসৃষ্টি | শেষ বয়সে লক্ষ্মৌতে কাটিয়েছিলেন তিনি । লক্ষ্মৌতে আর্ট কলেজেই রয়েছে বেশিরভাগ কাজ | অসিতকুমার হালদার ১৯৬৪ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী প্রয়াত হন |

তথ্য : উইকিপিডিয়া,আনন্দবাজার

Avik mondal

Avik mondal

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।