মুক্তমঞ্চে নাটক চলাকালীন পায়ে বিঁধল পেরেক,তবুও অভিনয় থামালেন না বিজন ভট্টাচার্য

মুক্তমঞ্চে নাটক চলাকালীন পায়ে বিঁধল পেরেক,তবুও অভিনয় থামালেন না বিজন ভট্টাচার্য

নাটককে তিনি তুলে ধরেছিলেন সমাজ বদলের হাতিয়ার রূপে। তাঁর নাটকে দর্শকও হয়ে উঠতেন গল্পের এক একটি চরিত্র। তিনিই প্রথম বাংলা রঙ্গমঞ্চকে  পুরাণ ও ইতিহাসের রোম্যান্টিক প্রভাব থেকে মুক্ত করেন। নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম এই সৈনিকের নাটকে উঠে এসেছিল গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ। তিনি ‘ভারতীয় গণনাটকের প্রথম সার্থক স্রষ্টা’ বিজন ভট্টাচার্য।

১৯০৬ সালের ১৭ জুলাই ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য এবং তাঁর স্ত্রী সুবর্ণপ্রভার পুত্র বিজনের জন্ম। ঠাকুরদা রাসবিহারী ছিলেন জমিদার। কিন্তু খানখানাপুর সুরাজমোহিনী ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক ক্ষীরোদবিহারীর জমিদারিতে অবশ্য খুব বেশি উৎসাহ ছিল না। দেশ ভাগের অনেক আগেই বিজনকে নিয়ে তিনি চলে এসেছিলেন অধুনা উত্তর ২৪ পরগনার আড়বেলিয়ায়। তবে পিতার কর্মসূত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করার সুবাদে তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন; ফলে তাদের সংগ্রামী জীবন ও আঞ্চলিক কথ্য ভাষা বারবার উঠে এসেছিল তাঁর নাটকে।

প্রাথমিক স্কুলের পাঠ শেষ করার পরে বিজন জড়িয়ে পড়েন অসহযোগ আন্দোলনে। কিছুদিন জেলে বন্দিও হয়েছিলেন। পরে ১৯৩০-এ কলকাতায় এসে প্রথমে আশুতোষ কলেজ এবং পরে রিপন কলেজে পড়ার সময়ে লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন আর সেই সূত্রেই জড়িয়ে পড়েন জাতীয় আন্দোলনে। তবে সম্ভবত পড়াশোনা শেষ করেননি কারণ ততদিনে তিনি সন্ধান পেয়েছেন বামপন্থী রাজনৈতিক আদর্শের। ফলে লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৪-৩৫ সালের ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হিসেবে তিনি বিভিন্ন কর্মকান্ডে যুক্ত হয়ে পড়েন।

এরই মধ্যে বিজন ভট্টাচার্য ১৯৩৮-এ আনন্দবাজার পত্রিকায় যোগদান করলেন সাংবাদিক হিসাবে। আলোচনা, ফিচার ও স্কেচ লেখার কাজও করেছিলেন ১৯৩৮-৩৯ সাল নাগাদ। ১৯৪০-এ ‘সরণী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হল তাঁর প্রথম গল্প—’জালসত্ত্ব’। আনন্দবাজার পত্রিকায় কার্যকালীন সময়ে রেবতী বর্মণের সাম্যবাদ সম্পর্কিত গ্রন্থগুলি আলোচনার সময়ে তাঁর যোগাযোগ ঘটে মুজাফফর আহমেদের সঙ্গে। ইতিমধ্যে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। এইসময় প্রথমদিকে তিনি মাতুল সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ‘অরণি’ পত্রিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন এবং বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতে থাকেন। অন্যদিকে ১৯৪২-এ শুরু হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন এবং একই সময়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে গঠিত হয় ফ্যাসিবিরোধী লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪৪-এ সম্পর্ক-ছেদ ঘটে আনন্দবাজারের সাথে। ১৯৪২ সালে সক্রিয় কর্মী হিসেবে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। এছাড়া তিনি  ভারত ছাড়ো আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ঠিক এইসময়ই, যখন ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন আর যুদ্ধের ভয়াবহতায় বিশ্ব বিপর্যস্ত, তখনই, ১৯৪০ এর দশকে বিজন ভট্টাচার্যের নাট্যজীবনের সূত্রপাত। প্রচলিত বাণিজ্যিক থিয়েটারের ধারার বাইরে স্বতন্ত্র নাট্য আন্দোলনের সূচনা করেন কিছু ফ্যাসিবাদ বিরোধী লেখক-শিল্পী গোষ্ঠী । এঁদেরই সাংস্কৃতিক শাখা ছিল ‘ভারতীয় গণনাট্য সংঘ’ বা ‘ইণ্ডিয়ান পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েসন’ যা আইপিটিএ নামে বেশি পরিচিত। বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন এই গণনাট্য সঙ্ঘের প্রথম সারির নাট্যকর্মী। চিন্তা, চেতনা এবং সংগ্রামের প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনার দিশারী ছিল ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ। বিজন ভট্টাচার্যের নাটক রচনা, অভিনয় এবং নির্দেশনা সাফল্য লাভ করেছিল এই গণনাট্য আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

আরো পড়ুন:  কামু মুখোপাধ্যায় বিদেশে জন্মালে তাঁর সঠিক মূল্যায়ন হত, বলেছিলেন সত্যজিৎ রায়

১৯৪৩-এ বাংলা প্রত্যক্ষ করল ভয়াবহ মন্বন্তর। একটু ফ্যানের জন্য কলকাতার পথেঘাটে কঙ্কালসার মানুষের হাহাকার। মনুষ্যসৃষ্ট সেই দুর্ভিক্ষের বিরুদ্ধে গর্জে উঠল বিজনের কলম। ‘অরণি’ পত্রিকায় ১৯৪৩-এর ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত হল বিজন ভট্টাচার্যের প্রথম নাটক ‘আগুন’; বিষয় পঞ্চাশের মন্বন্তরের জীবনব্যাপী মর্মস্পর্শী হাহাকার; চিত্রিত হল দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে পিষ্ট সাধারণ মানুষের প্রাণান্তকর লড়াই। ১৯৪৩ সালেই নাট্যভারতীতে মঞ্চস্থ হয়েছিল আগুন। এরপরে ১৯৪৩-এরই ২৮ অক্টোবর ‘অরণি’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় বিজনের দ্বিতীয় নাটক ‘জবানবন্দী’, যেটি পরে নেমিচাঁদ জৈন হিন্দিতে অনুবাদ করেন ‘অন্তিম অভিলাষ’ নামে। এই নাটকেরও উপজীব্য পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিতে গোটা গ্রামবাংলায় আছড়ে পড়া দুর্ভিক্ষ। এই নাটকদুটি ছিল কার্যত মহড়া কারণ এই দুটি নাটকের অভিজ্ঞতা থেকেই দুর্ভিক্ষ, শোষণ আর বুভুক্ষু মানুষের লড়াই-এর প্রেক্ষাপটেই মাত্র নয়দিনে লেখা হল যুগান্তকারী ‘নবান্ন’; বিজন ভট্টাচার্যের তৃতীয় নাটক। কিছু দিনের মধ্যেই ১৯৪৪ সালে ২৪ অক্টোবর শম্ভু মিত্রের নির্দেশনায় যা মঞ্চস্থ হবে শ্রীরঙ্গম মঞ্চে। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করবেন স্বয়ং নাট্যকার। দেশ জুড়ে সাড়া ফেলে দেবে সেই নাটক। কয়েক বছরের মধ্যে ‘নবান্ন’ হয়ে উঠবে নতুন ধারার সাহিত্য রচনা এবং নাট্যশিল্পের দিকনির্দেশিকা। ‘নবান্ন’ অবলম্বনে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ছবি ‘ধরতি কে লাল’ তৈরি হবে হিন্দিতে। আর নাটকের অনুকরণে ‘প্রগতিশীল’ সাহিত্যে লাগবে জোয়ার। তৈরী হয়ে যাবে গণনাট্য সঙ্ঘের ভিত্তি।

গণনাট্যের সাথে যুক্ত থাকার সময়েই বিজন ভট্টাচার্যের সঙ্গে আলাপ হয় মহাশ্বেতার। শোনা যায়, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় রচিত বিজনের নাটক ‘জিয়ন কন্যা’য় অভিনয়ও করেছিলেন লেখিকা। ১৯৩৬ সালে নির্মিত প্রগতিশীল লেখক সঙ্ঘেরও অংশ ছিলেন তাঁরা। সেই পরিচয়ই ১৯৪৩ সালে পরিণতি পায় বিবাহে। যদিও পরবর্তীকালে বিবাহ-বিচ্ছিন্ন হন তাঁরা। তবে সে কাহিনী ভিন্ন। মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে লেখেন ‘অবরোধ’ নাটকটি ১৯৪৭ সালে।

১৯৪৮ সালটি বিজন ভট্টাচার্যের জীবনে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ একটা সময়। একদিকে সেইসময়ই তাঁর পুত্র নবারুণের জন্ম আর অন্যদিকে তিনি আদর্শগত বিরোধের কারণে ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন গণনাট্য সঙ্ঘ। মহাশ্বেতা-বিজন তখন ভাড়াবাড়িতে। এক চিলতে ঘরে অভাব নিত্যদিনের সঙ্গী। অথচ শিল্প-সংস্কৃতির খিদে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে বিজনকে। নিত্যকার এই প্রয়োজন আর শিল্পের দ্বন্দ্বের মাঝে ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন স্ত্রী মহাশ্বেতাকে। সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত পঞ্চাশের দশকের শেষ পর্বে সেই দূরত্ব ডেকে আনল বিচ্ছেদ। এক কাপড়ে বাড়ি ছাড়লেন মহাশ্বেতা। দক্ষিণ কলকাতার ভাড়া বাড়িতে ছেলে নবারুণকে নিয়ে সংসার পাতলেন বিজন ভট্টাচার্য। একদিকে খাবার জোগানোর চিন্তা আর অন্যদিকে দুচোখ ভরা দিনবদলের স্বপ্ন – নাটকের সংলাপ একদিন হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের বিপ্লবের ভাষা।

আরো পড়ুন:  মানিকবাবু ও হাতলহীন রিকশা,সঙ্গে 'ওরা তিনজন' : পর্দার আড়ালের টুকরো কথা

গণনাট্য ছাড়ার পর ১৯৪৮-এ তিনি বোম্বাই চলে যান। হিন্দি চলচ্চিত্রে চিত্রনাট্য লেখার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৫০-এ আবার ফিরলেন বাংলায় এবং প্রতিষ্ঠা করলেন নিজের নাটকের দল ক্যালকাটা থিয়েটার। এখানেও তিনি নাট্যকার, প্রধান অভিনেতা এবং নির্দেশক। সেই গণনাট্যের আমল থেকেই তিনি বিশ্বাস করতেন নাটক আসলে ‘ইন্টার‌্যাকশন’। দর্শকও যার অংশ। সংলাপের মধ্য দিয়ে সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া যায়। সেই আদর্শেই রচিত হল ‘কলঙ্ক’, ‘গোত্রান্তর’, ‘মরাচাঁদ’, ‘দেবীগর্জন’, ‘গর্ভবতী জননী’ প্রভৃতি। এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘জনপদ’ এবং দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘রাণী পালঙ্ক’।

বিজন ভট্টাচার্য স্বপ্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা থিয়েটার দলে ইস্তফা দিয়ে ১৯৭০ সালে গড়ে তুললেন ‘কবচকুন্ডল’ নাট্যপ্রতিষ্ঠান। শেষ অবধি এর সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। তিনি চলচ্চিত্রেও দক্ষতার সঙ্গে অভিনয় করেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলি হলো: বাড়ি থেকে পালিয়ে, মেঘে ঢাকা তারা, সুবর্ণরেখা, পদাতিক, যুক্তি তক্কো গপ্পো ইত্যাদি। এছাড়াও লিখেছিলেন নাগিন, সাড়ে চুয়াত্তর, বসু পরিবার, তৃষ্ণা, ডাক্তারবাবু প্রভৃতি ছবির চিত্রনাট্য।

বস্তুতঃ, বিজন ভট্টাচার্য যখন বাংলা রঙ্গমঞ্চে অবতীর্ণ হচ্ছেন, তখন বাংলা নাটক মূলত গতানুগতিক ঐতিহাসিক, পৌরাণিক এবং উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের সমাজজীবনের রঙিন ছবির আবর্তে সীমিত। সেখানে নেই বাস্তব সমাজের প্রতিচ্ছবি; নেই কোন দর্শন বা মানুষের লড়াই-এর প্রতিফলন। অথচ বাংলার সমাজ তখন মন্বন্তর, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, বিভেদকামী রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের সম্মিলিত ফাঁসে নাভিশ্বাস তুলছে। সেই বীভৎস সময়ে শিল্পী সাহিত্যিকরাও দলমত নির্বিশেষে পথে নেমে পড়েছেন। বিজন ভট্টাচার্যই প্রথম দেখালেন কি করে জনতার প্রতি দায়িত্বশীল সম্মিলিত অভিনয়-ধারার প্রবর্তন করা যায় এবং কি করে বাস্তবকে মঞ্চের উপর তুলে ধরা যায়। ঋত্বিক ঘটকের ভাষায়, ”হঠাৎ একটা প্রচণ্ড আলোড়ন বাংলার একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ঠবৎ শিহরিত করে তুলল।” সেই বিদ্যুৎশিখার নামই ‘নবান্ন’। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন নাটকের দ্বারা সামাজিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী ক্ষমতাসীন সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে – এমন নজির নবান্ন ছাড়া দ্বিতীয়টি নেই। ‘নবান্ন’ নাটক সেই অর্থে বিরলতম এক কৃতিত্বের অধিকারী।

আরো পড়ুন:  বঙ্গললনা সমদীপ্তা মুখোপাধ্যায়ের সুরের জাদুতে মুগ্ধ হলেন লতা মঙ্গেশকর, পেলেন প্রশংসা

বাংলায় ব্যবসায়িক থিয়েটারে তারকাদের একচেটিয়া আধিপত্য ভেঙে দিল ‘নবান্ন’। প্রতিষ্ঠিত হল গ্রুপ এ্যাক্টিং বা সম্মেলক অভিনয়ের নতুন রীতি, নতুন ধারা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বিশ্লেষণে দ্বিধাহীনভাবে বলেছেন, “নবান্ন বাংলাদেশের হৃদয় থেকে উঠে আসা কাহিনি, চিরকালীন গ্রামবাংলার ছবি। শুধুমাত্র সময়ের দাবি মিটিয়ে কি একটি নতুন যুগের হোতা হওয়া সম্ভব? বিজন ভট্টাচার্য না থাকলে পরবর্তীকালে আইপিটিএ তো বটেই, ‘বহুরূপী’ ও আসত না।” আর সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ও পরিস্থিতির নির্মমতার বিরুদ্ধে মানুষের এই চিরকালীন সংগ্রামের ছবিই উঠে এসেছে তাঁর পরবর্তী সব নাটকেই।

জীবন, সমাজ ও সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে বিজন ভট্টাচার্য কখনোই সংগ্রামের রাস্তা থেকে বিচ্যুত হননি আর এর পশ্চাতে তাঁর প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল সাম্যবাদের প্রতি অবিচল বিশ্বাস। তবুও ভালো নাটক এবং অসাধারণ অভিনয় সত্ত্বেও শেষরক্ষা হল কি? তাহলে বিজন ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরে তাঁর নাটক কেন অনেকটাই বিস্মৃতির অন্তরালে চলে গেল? তিনি যতটা আলোচিত ততটাই কিন্তু বিস্মৃত। অথচ তিনিই তো রূঢ় বাস্তবকে প্রথম প্রদর্শিত করেছিলেন গণমঞ্চে। এই বিস্মৃতির কারণ সম্ভবত তিনি জীবনযাপন আর নাট্যদর্শনের মধ্যে কোন বিভেদ করেননি কোনদিন। আর হয়তো খানিকটা প্র্যাকটিকাল বুদ্ধির অভাব; বলা ভাল সাংগঠনিক দক্ষতার অভাব। বোধহয় দল গোছাতে চাননি। বরং সংগ্রামের পথটাই ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। যাতে থিয়েটার বিশুদ্ধ ‘প্রগতিশীল’ গণনাট্যেরই রূপ হয়ে ওঠে। হয়তো সে জন্যই ১৯৭৮ সালে মুক্তমঞ্চে নাটক চলাকালীন যখন পায়ে পেরেক ফুটে গিয়েছিল, তিনি অভিনয় বন্ধ করেননি। পেরেক বিদ্ধ রক্তাক্ত পায়ে শেষ হয় শেষ অভিনয়। রাতে বাড়ি ফিরে রক্ত বমি। দু’বার। পরদিন মৃত্যু। দিনটা ছিল ১৯ জানুয়ারি। চলে গেলেন সেই মানুষটি, নাট্যজগতে বিশেষ অবদানের মূল্যায়নস্বরূপ কেন্দ্রীয় সঙ্গীত নাটক আকাদেমি, পশ্চিমবঙ্গ সঙ্গীত নাটক আকাদেমি এবং  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় যাঁকে পুরস্কৃত করে।

বিজন ভট্টাচার্য – একটি প্রতিবাদের নাম – যিনি ভারতীয় নাটককে চিনিয়েছিলেন নতুন ভাষা। নাটকের রঙিন মোহাবরণকে পরিবর্তিত করেছিলেন সত্যের কষাঘাতে! দেখিয়েছিলেন পথে নেমে কি করে নাটকের মাধ্যমে গণচেতনার জাগরণ ঘটাতে হয়! বুঝিয়েছিলেন বাংলা ভাষার বিভিন্ন গ্রাম্য কথনকে কি করে সুনিপুণ ভাবে নাটকের সংলাপ করে তুলে দর্শককে একধাক্কায় এক কাল্পনিক রঙিন দুনিয়া থেকে এনে ফেলতে হয় কঠিন বাস্তবের সামনে! আধুনিক বাংলা নাট্যজগত আজও তাঁর কাছে চিরঋণী।

-শ্রেয়সী সেন

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।