রাস্তার অবলা জীবদের জন্য নিজের বাড়ি দান করেছেন বর্ধমানের তৃপ্তি চক্রবর্তী

রাস্তার অবলা জীবদের জন্য নিজের বাড়ি দান করেছেন বর্ধমানের তৃপ্তি চক্রবর্তী

“জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর” বলেছিলেন স্বয়ং স্বামী বিবেকানন্দ ৷ সেই বাণী বাস্তব জীবনে অক্ষরে-অক্ষরে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত পালন করে চলেছেন বর্ধমানের তৃপ্তি চক্রবর্তী,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা৷প্রাক্তন এই শিক্ষিকার বাড়ির ছাদের নীচে পরম স্নেহ,মমতায়,আদরে এক সঙ্গে বড় হচ্ছে কম-বেশি ৪০টি কুকুর,বেড়াল,হনুমান৷পশু-পাখীদের প্রতি ভাললাগাটা ছিল একেবারে ছোট থেকেই৷ছোটবেলায় দেখেছেন নিজের ঠাকুমা বাড়ির গরু,বেড়াল,কুকুরদের পরিচর্যা করতেন,সঠিক সময়ে তাদের খাবার দিতেন,তাদের প্রতি তাঁর ভালবাসায় এতটুকু খাদ ছিল না৷কার্যত ঠাকুমাকে দেখেই অবলা জীবদের প্রতি ছোটবেলায় তৃপ্তি চক্রবর্তীর প্রথম ভাললাগা৷পরে নিজেই অনুভব করেছিলেন নিজের অজান্তেই সেই ভাললাগা বদলে গিয়েছে অকৃত্রিম ভালবাসায়৷

আরো পড়ুন:  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন রাজনীতির জগতের ছোড়দা সোমেন মিত্র

রাস্তায় যাওয়া আসার সময় যখন দেখতেন অনেক কুকুর বিড়াল আহত অথবা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে,মনটা খুবই খারাপ হত৷মনে সুপ্ত ইচ্ছা বরাবরই ছিল, তিনি যদি তাদের জন্য কিছু করতে পারেন৷ সেই ইচ্ছা থেকেই অবলা জীবদের জন্যে নিজের গোটা বাড়িটাই দান করেছেন তৃপ্তি চক্রবর্তী ।

১৯৯৫ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন । তারপর তার নিজের বাড়িতে অবলা জীব পুলি,ভীম,মিনি,সফেদরাই হয়ে উঠেছে তৃপ্তি দেবীর জীবনের একমাত্র ধ্যান জ্ঞান৷ ৮৬ বছরের প্রবীণ শিক্ষিকা তৃপ্তি মিত্রের বর্ধমানের বোবেরহাটের বাড়িটি এখন একটি পশু সেবা কেন্দ্র৷সেখানেই পরম যত্নে লালিত-পালিত হচ্ছে অবলা জীবরা ৷তাদের নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য,সুচিকিৎসার জন্য ব্যয় নেহাত কম নয়৷যদিও সেইজন্য কখনও অন্যের মুখাপেক্ষী তিনি হননি৷নিজের পেনশন ও জমানো টাকা থেকেই প্রায় ৪০টি কুকুর,বেড়াল ও হনুমানের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করেন৷ দেখভালের জন্য আছেন ৫ জন কর্মী৷সবমিলিয়ে প্রতিমাসে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ৷সব ব্যয়ভার নিজেকেই বহন করতে হয়৷ রাস্তাঘাটে আহত পশু দেখলে পরম মমতায় তাদের তুলে আনেন নিজের বাড়িতে৷সেখানেই চলে তাদের চিকিৎসা৷সুস্থ হলেই তৃপ্তি দেবীর আশ্রয়ে বাকি জীবনটা নিরাপদে কাটানোর গ্যারান্টি৷

আরো পড়ুন:  ''Father of Indian Journalism'' সাংবাদিক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়

অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষিকা তৃপ্তি চক্রবর্তী সমাজের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন,অবলা জীবদের জন্য নিজের বাড়িটি দান করে অনেক পশুপ্রেমীর কাছে তিনি আজ আদর্শ৷নিখাদ পশুপ্রেমের জন্য জীবনে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার৷তার দেখানো পথেই কাজ করছে বহু পশুপ্রেমী সংগঠন ।

আরো পড়ুন:  যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হল সাঁওতালি বিভাগ,কলকাতায় প্রথম পড়ানো হবে এই উপজাতি ভাষা

-অরুনাভ সেন
(তথ্য : এবেলা – পত্রলেখা চন্দ্র)

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।