মাতঙ্গিনী হাজরার মুখের শেষ উক্তি অনুসারে এই গ্রামের নাম হল “পিছাবনী”

মাতঙ্গিনী হাজরার মুখের শেষ উক্তি অনুসারে এই গ্রামের নাম হল “পিছাবনী”

গাড়িতে বা বাসে দীঘা গেছেন কোনদিন ?
যাওয়ার সময় খেয়াল করলে দেখতে পেতেন একটা অদ্ভুত নামের গ্রামের পাশ দিয়ে যেতে হয়….. “পিছাবনী”। বড় অদ্ভুত নাম তাইনা ? তার চাইতেও অদ্ভুত এই নামের পিছনের ইতিহাস। জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ৭৭ বছর ……..!

১৯৪২-এর ২৯ সেপ্টেম্বর, বেলা তিনটে। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতার দাবিতে জনতার মিছিল এগিয়ে চলেছে তমলুক থানা ও আদালতের দিকে। গান্ধীজীর ডাকে দেশজুড়ে চলা এই অহিংস আন্দোলন কে আখ্যা দেয়া হয়েছিল Quit India বা ভারত ছাড়ো আন্দোলন।
তমলুক শহরের চারটে প্রধান প্রবেশপথে সেই মিছিল আটকানোর জন্য সেদিন মোতায়েন করা হয়েছিল সশস্ত্র পুলিশ। মিছিলে মানুষের মুখে স্লোগান, ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’, ‘বন্দেমাতরম’, ‘গান্ধীজি কি জয়’।

আরো পড়ুন:  কাশীরাম দাসেরও আগে বাংলায় অনূদিত হয়েছিল 'মহাভারত',পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এক মুসলমান শাসক

রূপনারায়ন নদের তীর ধরে আসা নিরস্ত্র মিছিল টি প্রথমে বৃটিশ পুলিশের রাইফেল ও বেয়নেটের মুখোমুখি হলো । মিছিলে সবার আগে রয়েছেন মাতঙ্গিনী হাজরা যাকে সম্মান করে গ্রামের লোকজন বলতো “গান্ধী বুড়ি” ।
ইংরেজ পুলিশ সুপারের “stop” এবং “go back” ঘোষণা শুনে ইংরাজী না জানা মাতঙ্গিনী হাজরা এটুকু বুঝেছিলেন যে সাহেব তাঁদের পিছিয়ে যেতে বলছে। আদেশ অমান্য করতে চললো গুলি…….
দুহাতে গুলি লাগা অবস্থাতেও তেরঙ্গা ধরে চীৎকার করে বলেছিলেন “বন্দেমাতরম”। ইংরেজ পুলিশ কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্থানীয় ভাষায় বলেছিলেন পিছাবনী, যার অর্থ পিছিয়ে যাবো না । এই ধ্বনি দিতে দিতে তিনি এগোতে থাকেন যতক্ষণ না পর্যন্ত বৃটিশ পুলিশের বুলেট তাঁর কপাল ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়………. শহীদ হলেন মেদিনীপুরের গান্ধী বুড়ি …….🏵️

আরো পড়ুন:  তরুণ বিপ্লবী খুঁজতেই মেদিনীপুরে শুরু হয়েছিল কর্নেলগোলা আদি সার্বজনীন দুর্গোৎসব

মাতঙ্গিনী হাজরার মুখের এই শেষ উক্তি অনুসারে গ্রামের লোকেরা তাদের গ্রামের নাম বদলে রাখেন “পিছাবনী”। স্থানীয়দের মুখে মুখে চালু আছে এই ইতিহাস, কোন পাঠ্য বইতে পাওয়া যাবেনা ।

লেখক – স্বপন সেন

আরো পড়ুন:  চৈতন্যলীলা নাটক দেখে ভাবস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ বিনোদিনীর মাথায় হাত রেখে বললেন,‘চৈতন্য হোক’
বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।