লড়াকু মানসিকতার জন্য ব্রিটিশরা তাঁকে “Surrender Not ব্যানার্জী” বলে সম্বোধন করত

লড়াকু মানসিকতার জন্য ব্রিটিশরা তাঁকে “Surrender Not ব্যানার্জী” বলে সম্বোধন করত

১৮৬৯ সাল | জীবনের প্রথম আই. সি. এস. পরীক্ষাতে বসতে গিয়ে বয়স সংক্রান্ত এক বিবাদে জড়িয়ে পরীক্ষা দিতে পারলেন না তিনি। এই ঘটনা ওই কিশোর বঙ্গসন্তানকে বৃহত্তর লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করে দিল। পাড়ি দিলেন ইংল্যান্ড | ১৮৭১ সালে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসাবে আই. সি. এস. পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়ে দেশে ফিরে আসেন | এরপর তিনি সিভিল সার্ভিসের কর্মজীবনে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার শিলেটে কর্মভার গ্রহণ করেন। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি | তিনি তাঁর নির্ধারিত দায়িত্ব সঠিকভাবে চালাতে পারেননি এই অজুহাতে তাকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর জাতীয় নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার লক্ষ্যে তিনি পুণরায় ইংল্যান্ডে গমন করেন।

১৮৭৫ সালের জুন মাসে মাতৃভূমি বাংলায় ফিরে আসেন এবং শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে মনোনিবেশ ঘটান। ইংরেজীর প্রফেসর হিসেবে প্রথমে মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন এবং পরে ফ্রী চার্চ কলেজে নিয়োজিত ছিলেন। সর্বশেষে রিপন কলেজে যোগ দেন। পরবর্তীকালে এই রিপন কলেজই তার নামে নামকরণ করা হয় তাঁর নাম “সুরেন্দ্রনাথ কলেজ” হিসেবে।

লড়াই করার মানসিকতার জন্য ব্রিটিশ শাসকরা তাকে “Surrender Not ব্যানার্জী” বলে সম্বোধন করতেন। তিনি বাংলা ও বাঙালির গর্ব রাষ্ট্রগুরু স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় |

আরো পড়ুন:  দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি,রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন নদীয়ার তাঁতশিল্পী সরস্বতী সরকার

####

স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ব্রিটিশ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম যুগের একজন বিশিষ্ট নেতা। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর রাজনৈতিক সংগঠন ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রতিষ্ঠাতা। পরে এ দলটিকে নিয়ে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। তাঁকে রাষ্ট্রগুরু সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।

১৮৪৮ সালের ৩০ নভেম্বর কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। তাঁর বাবা দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ঐ যুগের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক।

১৮৭৬ সালের ২৬ জুলাই সুরেন্দ্রনাথ সর্ব ভারতীয় আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারতীয় সংঘ বা দি ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭৮ সাল হতে তিনি বেঙ্গলী শিরোনামে একটি কাগজ সম্পাদনা করতেন এবং জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিশেষ করে জাতীয় সংস্কৃতি, একতা, স্বাধীনতা ও মুক্তির বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন। এছাড়াও, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় বিধানসভার অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৮৭৬-১৮৯৯ সাল পর্যন্ত একাধারে তিনি কলকাতা কর্পোরেশনেরও সদস্য হিসেবে ছিলেন।

তার সুদক্ষ ও সুচারু নেতৃত্বের ফলে ভারতীয় সংঘ অল্প সময়েই বিকশিত হয়। ১৮৮৩ সাল থেকে ভারতের সকল এলাকা থেকে আগত প্রতিনিধিদের নিয়ে নিয়মিতভাবে বার্ষিক সভা পরিচালনা করতেন তিনি। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা পায় এবং এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্যও ভারতীয় সংঘের সাথে মিল থাকায় ১৮৮৬ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ২য় অধিবেশনে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় সংঘকে কংগ্রেসের সাথে একীভূত করেন।

আরো পড়ুন:  বিশ্বের বাজার ধরতে ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে পরীক্ষা দেবে বাংলার আম

খুব শীঘ্রই সুরেন্দ্রনাথ মহাশয় কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৮৯৫ সালে পুনা ও ১৯০২ সালে আমেদাবাদে কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯০৫ সালে বঙ্গ-ভঙ্গ আন্দোলনের সময় সব থেকে বেশি মুখর হয়ে কংগ্রেসের “মডারেট” তকমা লেগে যায়। মহাত্মা গান্ধীর “civil disobedience” আন্দোলনের কট্টর সমালোচনা করার জন্য তাঁকে কম অপবাদ শুনতে হয়নি ।

পরবর্তীতে তিনি ১৯১৮ সালে কংগ্রেস থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ১৯২১ সালে তিনি নাইট উপাধি লাভ করেন এবং বাংলায় তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ১৯২১ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত দেশের সেবায় মনোনিবেশ ঘটান।

১৯২১ সালে যখন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা সরকারে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করলেন তখন অনেক সমালোচনার তির হজম করতে হয়েছিল। সুরেন্দ্রনাথের নেতৃত্বে Calcutta Municipal Corporation এক গনতান্ত্রিক রূপ পেতে শুরু করে,তখন সব সমালোচনার ঝড় উধাও হয়ে যায়। তাঁর লেখা বই “A Nation in Making” বিপ্লবীদের অনুপ্রাণিত করত।

আরো পড়ুন:  অতীশ দীপঙ্করেরও আগে ভারতের বাইরে বৌদ্ধধর্ম প্রচার করেছিলেন এক বাঙালী

###

শিক্ষক হিসেবে স্যার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ছাত্রদেরকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জ্বীবিত, অনুপ্রাণিত তথা উদ্বুদ্ধ করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। ঊনবিংশ শতকে রাজা রামমোহন রায়ের নির্দেশিত সমাজ-ধর্ম বিষয়ক পুণর্জাগরণের আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বিশেষভাবে সচেষ্ট ছিলেন।

কিন্তু সুরেন্দ্রনাথ কর্তৃক অনুসৃত সামাজিক সংস্কারে সমাজ সচেতন ব্যক্তিদের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে তাঁর উদ্যোগ তেমন একটা সফলতা পায়নি। এছাড়াও, তিনি সমাজ পুণর্গঠনের অংশ হিসেবে বিশেষ করে বিধবা বিবাহ, মেয়েদের অধিক বয়সে বিবাহ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়ান।

৬ই আগস্ট, ১৯২৫ স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ৭৭ বৎসর বয়সে প্রয়াত হন।

বাংলা ও বাঙালির গর্ব এই মানুষটিকে আমাদের প্রণাম ও শ্রদ্ধার্ঘ্য !

লেখক – অভীক মণ্ডল
তথ্য – উইকিপিডিয়া

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।