উৎপলা সেনের নাক চিপে ধরে ‘চন্দ্রবিন্দু’র উচ্চারণ ঠিক করিয়েছিলেন পঙ্কজ মল্লিক

উৎপলা সেনের নাক চিপে ধরে ‘চন্দ্রবিন্দু’র উচ্চারণ ঠিক করিয়েছিলেন পঙ্কজ মল্লিক

বেশ মিশুকে স্বভাবই বলা যায়,যদিও খেয়ালি,আর একটু মুডি গোছের ছিলেন৷ প্লেনে ওঠার কথা হলে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে থাকতেন৷বোধহয় সেই কারনে বিদেশে গান গাওয়ার অনুরোধ অবলীলায় প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ একবার বাংলাদেশ গেছেন, তাও প্রায় ইষ্টনাম জপতে জপতে!গান শিখবেন নজরুলের কাছে৷রেকর্ডও করবেন৷রিহার্সালও চলছে৷কিন্তু বিপত্তি হল ড়-এর উচ্চারণ নিয়ে৷ নজরুল বললেন আগে সঠিক উচ্চারন পরে গান৷ সেই যে চলে এলেন,জীবনে আর নজরুল গীতি গাইলেন না। তবে তাঁর অভিমানে বেশ মজাই পেয়েছিলেন নজরুল। আদর করে ডাকতেন ‘বিশাখা’।সাল ১৯৪৪, ছবির নাম ‘মেরি বহেন’। ‘ম্যায় ইন ফুলো সাঙ্গ’ গানের রিহার্সাল হচ্ছে। সঙ্গীত পরিচালক পঙ্কজ মল্লিক অনেক কসরৎ করেও পূর্ব বাংলার মেয়ে উৎপলাকে দিয়ে ‘চন্দ্রবিন্দু’র উচ্চারণ করাতে পারছেন না। শেষে উৎপলার নাক চিপে ধরে ভুল শোধরালেন। এর পরও কিন্তু পঙ্কজ মল্লিক বলতে অজ্ঞান ছিলেন তাঁর মৃণাল (এই নামেই ডাকতেন উৎপলাকে৷সতীনাথে মুখোপাধ্যায়ের সুরে তাঁর প্রথম বাংলা আধুনিক ‘কত নিশি গেছে নিদ হারা’ আর ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে’ এক বার শুনেই সুর সাম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকরের পছন্দ হয়ে গিয়েছিল। সম্পর্কে কেসিস্ট্রিটা বোধহয় শুরু তখনই।
ভূপেন হাজরিকার সুরে ‘জীবনতৃষ্ণা’ ছবির ‘আবার নতুন সকাল হবে’ গানের রেকর্ডিং। উৎপলা গেলেন বম্বে। লতা মঙ্গেশকর ওঁকে নিয়ে ঘুরে বেড়ালেন জুহু বিচে। গল্প, আড্ডা, খাওয়াদাওয়া সব হল।বোধহয় এই ঘটনা থেকে বোঝা যায় লতা আর উৎপলা সেন মনের দিক থেকেও কত কাছাকাছি ছিলেন৷’

আরো পড়ুন:  গায়িকাদের মধ্যে প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলা সবচেয়ে বেশী সুরেলা,বলেছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়

বিখ্যাত বাংলা ছায়াছবি ‘সপ্তপদী’-তে গান গাওয়ার জন্য উৎপলা সেন অনুরোধ করলেন স্বয়ং সুচিত্রা সেন।— ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’।শোনা যায় এক গীতিকার ভুল বুঝিয়েছিলেন উৎপলা৷তাকে বলা হয়েছিল এই গান তুমি গাইবে কেন? এ তো শুধু লা-লা-লা করে সুর।গাওয়া হল না।হয়ত উৎপলা”র কন্ঠে “এই পথ যদি শেষ না হয়” আরও মধুর আরও কালজয়ী হত!কে বলতে পারে৷বাবা রায়বাহাদুর প্রফুল্লকুমার ঘোষ গানবাজনা জানতেন না,পছন্দ তেমন হয়ত করতেন না! তবে মা হিরণবালা হারমোনিয়াম তো বাজাতেনই, বাঁশি, এসরাজ, সেতার খঞ্জনিও বাজাতে পারতেন। মা সঙ্গীত শিক্ষার প্রথম গুরু বলা যায়৷খুব ছোট বয়স থেকে ঢাকা রেডিয়োয়,নানা ধরনের গান গাইতেন। এমনকী কবিতা পাঠ, নাটকও। রায়বাহাদুর বাবা মোটেও এসব ভাল চোখে দেখতেন না৷তবে বাবার মন গলল যে দিন দেখলেন কলকাতার এক বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিকে ছবি সমেত মেয়ের গানের বিপুল প্রশংসা ৷ব্যাস তারপর থেকে তিনি আর কিছু বলেন নি৷প্রবীন সঙ্গীতপ্রেমীরা বলেন উৎপলা যখন হারমোনিয়াম ধরতেন, মুগ্ধ হতেন অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে প্রথিতযশা মানুষরা৷ রাজেন্দ্রপ্রসাদ,সরোজিনী নাইডুর মতো মানুষ যেমন উৎপলার গানে মুগ্ধ হয়েছেন,তেমনই রানি এলিজাবেথ ভারতে এলে সরোজিনী নাইডু উৎপলাকে ডেকে গান শোনাতে বলেন।গান শুণে রানি মুগ্ধ,বিগলিত৷ রাজ্যপাল থাকার সময় পদ্মজা নাইডু, গভর্নর হাউসের একটা ঘরই ছেড়ে রেখেছিলেন,গার্স্টিন প্লেসের আকাশবাণী ভবন থেকে গান করে মাঝপথে উৎপলা যাতে বিশ্রাম নিতে পারেন৷
স্ত্রী মানুষটি যদি খেয়ালি হন, স্বামীটি ছিলেন অনেকটাই আত্মভোলা।সতীনাথ মুখোপাধ্যায় আর উৎপলা সেন বাংলা সঙ্গীত জগতে একটা মিথ৷কত অজানা গল্প,আর জানা-অজানা স্মতিকথায় ভরে আছে দুটো মানুষের জীবনের গল্প৷আমরা হয়ত ভারত মহাসাগর থেকে এক বালতি জল তুলে ধরতে পারলাম!২০০৫-এ হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় কোমার মধ্যেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে৷কাকতলীয় হলেও সত্যি বেণু সেন আর সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার দিনটির মতো সে দিনও ছিল ১৩ তারিখ!

আরো পড়ুন:  টালিগঞ্জের ষ্টুডিওপাড়ায় এক পান দোকানের কাছে মানিকবাবুর ইউনিটের পুনু সেন খুঁজে পেলেন "ক্যাপ্টেন স্পার্ক"কে

-অরুণাভ সেন

তথ্যসুত্র -আনন্দবাজার পত্রিকা

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।