বালিকাবধূ থেকে সুগার অ্যান্ড স্পাইসের কর্ণধার,সুপ্রিয়া রায় অনুপ্রেরণার আরেক নাম

বালিকাবধূ থেকে সুগার অ্যান্ড স্পাইসের কর্ণধার,সুপ্রিয়া রায় অনুপ্রেরণার আরেক নাম

পুতুলখেলা নয়, পড়ার বইগুলো বড্ড প্রিয় ছিল ছোট্ট মেয়েটির। ক্লাস নাইনে পড়ার সময়তেই স্কুলজীবনকে ছুটি দিয়ে মাত্র ১৩ বছর বয়সে কাশিমবাজার রাজ পরিবারের বউ হয়ে চলে আসতে হয় শ্বশুরবাড়ি৷ ১৪ বছরেই মা। রক্ষণশীল পরিবারের বউ হলেও মনে মনে পুষে রেখেছিলেন নিজে কিছু একটা করার ইচ্ছে। স্বনির্ভর হবেন, উপার্জন করবেন এমন ইচ্ছে সযত্নে বেড়ে উঠছিল মনের কোণে। তাই মা হওয়ার পরও ছেলের দায়িত্ব সামলে বাড়িতেই ফের শুরু পড়াশোনা। শ্বশুরের কড়া হুকুম। বাইরে যাওয়া চলবে না। তাই বাড়িতেই আসতেন মাস্টারমশাই। প্রইভেটে স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা দিলেন। স্কলারশিপ পেলেন। মেয়েটির জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা এই স্কলারশিপ পাওয়া। জীবন বইতে শুরু করল অন্য ধারায়। এরপর গ্র্যাজুয়েশন।

‘বিয়ের পরই শ্বশুরমশাই জানিয়ে দেন, বাড়ির বাইরে পা রাখা চলবে না৷ কথা মেনে উনি বাড়িতেই থাকতেন । ব্যবসার কথা যখন বাড়িতে প্রথম বললেন তখনও শ্বশুরমশাই একটাই কথা বললেন, যা করবে, বাড়িতে থেকে করবে…… বাড়ির বাইরে যাওয়া যাবে না ।

ব্যবসায়ী পরিবারে বড় হয়েছেন। অবচেতন মনে সবসময় ভাবতেন বাবা-দাদার মতো ব্যবসায়ী হবেন নিজেও। ৩৬ বয়সে এসে স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপে পা রাখলেন। শুরু করলেন নিজের ব্যবসা। প্রথমে একটা কুকারি ক্লাস খোলেন। নিজেই শেখাতেন। নিজের কুকারি ক্লাসে কেক তৈরি শিখিয়ে ৭০ টাকা পান ৷ ওটাই ছিল তার প্রথম উপার্জন’। দশ বছর ওই ব্যবসা চালানোর পর ১৯৯০ সালে একটা ফাস্টফুড আর কেকের দোকান দেন। কুকারি ক্লাসে আইসক্রিম আর কেকের ক্লাস করিয়ে যে টাকাটা উঠেছিল সেটা দিয়েই দোকান করেন। সেখান থেকে ধীরে ধীরে কনফেকশনারিজের ব্যবসায় চলে আসা।

কেক খেতে খুব ভালোবাসতেন ৷ বাড়িতে বাবা কখনও কেক আনলে চুরি করে খেতেন সেই কেক, এতো পছন্দের ছিল৷ সেই কারণেই এককথায় কনফেকশনরিজের বিজনেস করার কথা মাথায় আসে ।
ব্যবসা করতে গিয়ে পরিবারকে চোখের আড়াল হতে দেননি। সমানতালে সামলেছেন দুই দিক। বিশ্বাস করেন ভাগ্যে। বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকা ছোট্ট মেয়েটার মনে জেদ ছিল, স্বপ্ন ছিল একদিন নিজের পায়ে দাঁড়াবেই৷ সে স্বপ্ন সার্থক হয়েছে৷ শুধু নিজের পায়েই দাঁড়াননি, প্রায় ২০০ জনের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন৷

তিনি অহংকারী, ভগবানে বিশ্বাসী, ভাগ্য মানেন, অসম্ভব জেদী। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বালিকা বধূ হয়ে এসেছিলেন রক্ষণশীল পরিবারে। ১৪ বছরে মা। তারপরের গল্পটা ছাপিয়ে যেতে পারে যে কোনও সিনেমাকেও। তিনি সুপ্রিয়া রায়, শহরের অন্যতম কনফেকশনারিজ সংস্থা ‘দ্য সুগার অ্যান্ড স্পাইস’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর৷ ‌‌🏵️🏵️

~Swapan Sen

আরো পড়ুন:  মাত্র ২ লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে চন্দ্রশেখর ঘোষ চালু করেছিলেন বন্ধন ব্যাঙ্ক
বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।