সুরেন্দ্রমোহন বসু ,স্বদেশী যুগ এবং শতবর্ষ পার করেও বাঙালির ভরসার “ডাকব্যাক”

সুরেন্দ্রমোহন বসু ,স্বদেশী যুগ এবং শতবর্ষ পার করেও বাঙালির ভরসার “ডাকব্যাক”

এবার বাংলায় বর্ষার ঘনঘটা একেবারে সঠিক সময়ে,কখনও অল্প,কখনও মূষলধারে অবিরাম বারিধারা ৷ অনেকে রসিকতা করে বলছেন এবারের মত ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে বর্ষা তেমন আসেই না এই বঙ্গে ! আর বর্ষা থেকে বাঁচতে রেনকোটের বিকল্প নেই | বাজারে অনেক কোম্পানির হাজারো রকমের রেনকোট আছে কিন্তু আপনার সঙ্গে যদি থাকে ডাকব্যাকের তৈরি রেনকোট,তাহলে সঙ্গে কিছুটা যেন বাড়তি আত্মবিশ্বাস ৷ কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই অতীতের মত আজও ডাকব্যাকের রেনকোটের প্রতি অসংখ্য মানুষের অলিখিত দুর্বলতা সর্বজনবিদিত ৷ জন্মলগ্ন থেকেই গুণমানের সাথে কোনও আপোষ না করে অসাধারণ পণ্য মানুষকে উপহার দিয়েই এসেছে ডাকব্যাক, হয়ে উঠতে পেরেছে মানুষের আস্থা আর বিশ্বাসের প্রতীক ৷ ডাকব্যাক নামটায় একটু ইংরেজির গন্ধ পাচ্ছেন? না একটুও বিভ্রান্ত হবেন না,বরং গর্বিত হবেন আপনিও ,সংস্থাটি কিন্তু একজন আপাদমস্তক জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ বাঙালির উদ্ভাবণী শক্তি আর মেধার ফসল ৷ বিখ্যাত সেই বাঙালি সুরেন্দ্রমোহন বসু। পড়তে গিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ! তীব্র জাতীয়তাবোধ আর স্বদেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষটা হয়ত সেই কারণে পড়ার জন্য ইংল্যাণ্ড না গিয়ে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর কিছুদিন উত্তরপ্রদেশের এক জেলে বন্দির দিন যাপন করেছেন ব্রিটিশদের রোষে পড়ে ৷ জেল থেকে মুক্তি পেতেই তৈরি হল ইতিহাস ৷ এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে (পরে যেটি ডাকব্যাক পদ্ধতি বলে খ্যাত হয়) ওয়াটার-প্রুফ সামগ্রী তৈরী করা শুরু করে দিলেন ৷ ডাকব্যাকের আসল ইউএসপি স্থায়িত্ব। যার জন্য মানুষের মনে আজও ডাকব্যাকের প্রতি আলাদা সম্ভ্রম,আলাদা ভালবাসা আছে |

আরো পড়ুন:  কলকাতার প্রথম বন্দুকের দোকানের সঙ্গে রয়েছে প্রায় দুশো বছরের ইতিহাস,ক্রেতা ছিলেন স্বয়ং জিম করবেট

কার্যত ব্রিটিশদের চ্যালেঞ্জ করেই ১৯২০সালে প্রতিষ্ঠা করেন নিজের সংস্থা। কিন্তু হঠাৎ করে জন্ম নেয়নি এই সংস্থা। সংস্থার জন্মের ইতিহাসে ছিল প্রবল জাতীয়তাবাদী ভাবধারা আর ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব ৷ পরিকল্পনা রচিত হয়েছিল জেলের অভ্যন্তরে ৷ জেল থেকে বেরিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবে রূপদানের পর্ব হল শুরু ৷ ভাইদের সহযোগিতায় তৈরি করে ফেললেন ডাকব্যাক ৷ মানের দিক থেকে সেরা ওয়াটার প্রুফ। শুরু হল ডাকব্যাকের যাত্রা। সংস্থার শুরুর দিকে ঠিকানা ছিল সুরেন্দ্র মোহনের পৈতৃক বাড়ি। ১৯৪০ সালে অবশ্য ডাকব্যাকের নতুন নামকরন হয়,নাম হল বেঙ্গল ওয়াটার প্রুফ লিমিটেড। কিন্তু আজও মানুষ মনে রেখেছে ডাকব্যাককে ৷ বর্ষার দিনে যদি সঙ্গে থাকে ডাকব্যাকের রেনকোট,মনে থাকে আলাদা ফুরফুরে আবহ,আর বর্ষায় না ভেজার একশো শতাংশ গ্যারান্টি ৷ শুধু রেনকোট নয় আরও বেশ কিছু পণ্যে চোখবন্ধ করে ডাকব্যাকের ভরসা করেন সাধারন মানুষ ৷ সারা ভারত জুড়ে তাদের অসংখ্য শাখা ৷ ১৯২০ সালে জাতীয়তাবাদের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সুরেন্দ্রমোহন বোসের তৈরি ‘ডাকব্যাক’ খ্যাত বেঙ্গল ওয়াটারপ্রুফ লিমিটেড শতবর্ষে পদার্পন করল ৷ এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র সুরেন্দ্রমোহন বোসের নয় বরং এই গৌরবের ইতিহাস গোটা বাঙালি জাতির ৷ যে সব নিন্দুক বলেন বাঙালি ব্যবসায়ে পিছিয়ে আছে, দশটা,চারটের অফিস আর কেরানির চাকরিই নাকি বাঙালির জীবনের আসল টার্গেট,তাদের ডাকব্যাকের জন্ম থেকে অশ্বমেধের ঘোড়ায় মত টগবগিয়ে ছুটে চলার ইতিহাস জানা থাকলে লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখতে হবে ৷

আরো পড়ুন:  ইলেকট্রিক বাস পরিষেবায় বিশ্বে তৃতীয় স্থানে কলকাতা,টেক্কা লন্ডনকেও

লেখক – অরুনাভ সেন

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।