বাংলার রাবড়ি গ্রামের রাবড়িতে মুগ্ধ মিষ্টি প্রেমিকরা !

বাংলার রাবড়ি গ্রামের রাবড়িতে মুগ্ধ মিষ্টি প্রেমিকরা !

হুগলীর চণ্ডীতলা ব্লকের আঁইয়া গ্রাম | রাস্তা এঁকেবেঁকে গ্রামের মধ্যে চলে গিয়েছে | দু’পাশে ধানের গোলা | চারিদিকে সবুজ ক্ষেত | গ্রামে রয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টি পরিবার | তবে এই গ্রামটির একটি বিশেষত্ব আছে | এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই তৈরী হয় রাবড়ি | প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিবারগুলি রাবড়ি তৈরিতে মশগুল | প্রতিটি বাড়িতেই আছে বিরাট বড় বড় উনুন | ভোর হলেই প্রতিটি ঘরে জ্বলে ওঠে উনুন | শুরু হয় বিশাল বিশাল কড়ায় দুধ ঢেলে ফোটানোর কাজ | প্রত্যেকটি বাড়িতে রোজ ৮০ থেকে ৯০ লিটার দুধ লাগে | আঁইয়া লাগোয়া পাশের লক্ষণপুর গ্রাম থেকে গরুর দুধ আসে | দুধ ফোটানোর কাজ চলে দিনভর | শিল্পীর এক হাতে হাতপাখা আর এক হাতে নারকেল কাঠি | দুধ ফুটে কমে আসতেই বাড়ির মহিলারা তালপাতার পাখা হাতে জোরে বাতাস দেন দুধের কড়াইয়ে।হাওয়া পেয়েই ঘন দুধে মোটা সর পড়তে শুরু করে | ফুটন্ত দুধ থেকে কাঠি দিয়ে সর লেপে দিতে হয় কড়াইয়ের গায়ে। সবশেষে একটুখানি দুধ কড়াইয়ে রেখে নামিয়ে নেওয়া হয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে সরগুলো চৌকো করে কেটে কড়াইয়ের দুধে ফেলে দেওয়া হয় | তারপর হাঁড়িতে জমিয়ে তৈরী হয় রাবড়ি | কড়ায় যে দুধে জাল দেওয়া হয় তার নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে | সাধারণত একটা কড়ায় ৭ লিটার দুধ ফোটানো হয়, দুধ ফুটিয়ে দেড় থেকে দু’লিটারে নামিয়ে আনা হয় |

আরো পড়ুন:  কৃষ্ণনগরের এই রেস্তোরাঁয় রান্না থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ পরিচালনা পুরোটাই করেন মায়েরাই

 

 

আঁইয়া গ্রাম এখন রাবড়ি গ্রাম বলেই খ্যাত | কলকাতা এবং শহরতলির সমস্ত মিষ্টির দোকানে এই গ্রাম থেকেই সরবরাহ করা হয় রাবড়ি | গ্রামে অধিকাংশ মানুষের কৃষিজমি আছে | কিন্তু গ্রামের বাসিন্দারা বেশিরভাগ জমিতেই বাইরের খেতমজুর দিয়ে চাষ করান আর নিজেরা রাবড়ি তৈরী করেন |

আরো পড়ুন:  এক হাতের তালুতেই রাখা যাবে ৫২টি তাস,অভিনব খুদে তাস বানিয়ে চমক বাঙালি শিল্পীর

 

বাঙালি মিষ্টি প্রেমী | আর রাবড়ির প্রতি বাঙালির একটা বিশেষ ভালোবাসা আছে | চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক | এখন গ্রামের বাসিন্দারা কিলো প্রতি রাবড়ির দাম পান ২৫০ টাকা | মাসে রোজগার তিরিশ হাজার টাকার কাছাকাছি | উৎসবের মরসুমে রোজগার আরও বাড়ে |

আরো পড়ুন:  ভারতের প্রথম টেস্ট পাইলট উইং কমান্ডার ছিলেন তিনি,দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল ককপিটের মধ্যেই

কিভাবে যাবেন রাবড়ি গ্রামে ?
বালি থেকে 26C বাসে সোজা আঁইয়া | হাওড়া থেকে ট্রেনে এলে ডানকুনি জংশন থেকেও ২৬সি বাস ধরতে পারবেন | আবার ডানকুনি থেকে বাসে মশাট বাজার গিয়ে টোটো করে আঁইয়া মোড় যেতে মিনিট কুড়ি লাগবে | সেখান থেকে রাবড়ি গ্রাম হেঁটে পাঁচ মিনিট |

রাবড়ি বানানো দেখতে আর সুস্বাদু রাবড়ির স্বাদ পেতে একবার চলেই আসুন রাবড়ি গ্রামে !

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।