কৃষ্ণনগরের আনন্দময়ী কালী মন্দিরে মা কালীকে রোজ দুপুরে নিবেদন করা হয় মাছ দিয়ে ভোগ

কৃষ্ণনগরের আনন্দময়ী কালী মন্দিরে মা কালীকে রোজ দুপুরে নিবেদন করা হয় মাছ দিয়ে ভোগ

নদীয়ার প্রতিষ্ঠিত মন্দির গুলি আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে বয়ে নিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। এরূপ একটি ঐতিহ্যশালী মন্দির হল আনন্দময়ী কালী মাতার মন্দির। এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কৃষ্ণনগর রাজবংশের রাজা শ্রী গিরীশ চন্দ্র রায়। মূলত বর্তমান কৃষ্ণনগর হিসেবে আমরা যে এলাকাকে জানি, তার পূর্বনাম ছিল রেউই। নদীয়ার বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বতন পুরুষ ছিলেন রাজা রাঘবের পুত্র মহারাজ রুদ্র। রাজা রুদ্র একজন একনিষ্ঠ কৃষ্ণ ভক্ত ছিলেন। ভক্তি পরবশত তিনিই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রেউইয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখেন কৃষ্ণনগর।

মাতা আনন্দময়ী নামানুসারে এই এলাকার নাম আনন্দময়ী তলা। এই মন্দিরের প্রাঙ্গণে চারিদিকে প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। মূলত মন্দিরে প্রধান দরজা দিয়ে ঢুকলেই ডান পাশে মা অন্নপূর্ণা ও গৌরাঙ্গ দেবের মন্দির, এবং বাম পাশের মন্দিরে সিংহাসনে নাড়ু হাতে নিয়ে বসে আছেন গোপাল। এই গোপাল মন্দির এর ওপরে দোতালায় রয়েছে আনন্দময় শিব মন্দির। এই মন্দিরগুলি সবই গম্বুজাকৃতি ও সূক্ষ্ম কারুকার্যে দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরগুলি চার চালা বিশিষ্ট। আবার মন্দিরটি ছাঁদ কড়ি বরগায় তৈরি। গর্ভগৃহের সামনে সমতল বারান্দা, দক্ষিণ মুখী এই মন্দিরটি সাধারণ দোতলা বাড়ি থেকে একটু উঁচু। মন্দিরের চূড়ায় রয়েছে তিনটি ধাতুনির্মিত ফলক। আর তাছাড়া মন্দিরটির শিল্পশৈলী আদিম ও প্রাচীন।

আরো পড়ুন:  ১৮৮১ সালে নয়,১৮৭৭ সালেই কলকাতা প্রথমবার শুনেছিল টেলিফোনের শব্দ

শ্রী শ্রী কালী মাতার গর্ভগৃহে মাতৃমূর্তি রাজরাজেশ্বরী বেশে শোভিত। পঞ্চমুন্ডির আসন এর উপর পাথরের বেদিতে হাঁটুমুড়ে যোগাসনে শুয়ে আছেন মহাদেব। আর মহাদেবের বুকের উপরে পদ্মাসনে বসে আছেন দেবী চতুর্ভূজা। আনন্দময়ী কালী মাতা দেবীর হাতে, গলায় স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এই মন্দিরটি ১৮০৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্র শ্রী গিরিশচন্দ্র।

আরো পড়ুন:  কলকাতাই গোটা বাংলা না !

শোনা যায়, রাজা গিরিশচন্দ্র ছিলেন একজন তন্ত্রসাধক। রাজা গিরিশচন্দ্র রায় কে দেবী আনন্দময়ী স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বলে বলেছিলেন তার প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করতে।বর্তমানে যেখানে বিগ্রহ স্থাপিত করা হয়েছে সেখানে একটি বিরাট কষ্টি পাথর পাওয়া যায়। সেই কষ্টিপাথর থেকে তৈরি করা হয় এই মূর্তি। মূলত কষ্টিপাথর থেকে দুটি মূর্তি তৈরি করা হয় একটি আনন্দময়ী কালী মাতা ও অপরটি ভবতারিণী কালী |

এই ভবতারিণী কালী মূর্তিকে নবদ্বীপ ধামের পোড়ামাতলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই মন্দিরের পুজো প্রত্যেকদিন একই রকম ভাবেই হয়। প্রত্যেকদিন সকালে পুজো, আর দুপুরে মাছ দিয়ে ভোগ এবং রাতে ফল দিয়ে মায়ের পুজো হয়। এই পুজো চলে আসছে দীর্ঘ দুশো বছর ধরে। এছাড়াও মন্দির অলংকৃত দেবী শীতলা ও অন্যান্য দেব দেবীর বিগ্রহে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের স্মৃতিফলক গুলি মায়ের মূর্তির গর্ভগৃহে স্থাপন করা হয়েছে। আর তাছাড়া কালী পূজার সময় এখানে খুব ভিড় হয়।

আরো পড়ুন:  কলকাতার চাইনিজ কালীমন্দিরে মা কালীকে নিবেদন করা হয় নুডলস ভোগ

মন্দিরের পাদপীঠে নিবন্ধ প্রস্তর লিপিতে উৎকীর্ণ আছে–
“বেদাঙ্গেক্ষণগোত্রকৈরবকুলাধিপে শকে শ্রীযুতে/
কৈলাসপ্রতিরূপ কৃষ্ণনগরে শ্রীমদগিরীশোৎসবে/
নাম্নানন্দয়ী শুভেহহনি মহামায়া মহাকালভৃৎ/
রাঞ্জা শ্রীলগিরীশচন্দ্র ধরনীপালেন সংস্থাপিতা।।”
অর্থাৎ”কৈলাস তুল্য কৃষ্ণনগরে শ্রীমান গিরিশের শুভ উৎসব দিনে ১৭২৬ শকাব্দে মহাকাল ধারিণী আনন্দময়ী নামে দেবী মহামায়া কে রাজা গিরিশচন্দ্র স্থাপন করেন।”
রাজা শ্রী গীরিশ চন্দ্র রায়ের সময়কাল থেকে পূজিত মূর্তি আজও অমলিন ও অবিচল।

-রিয়া দাস(রাই),ইতিহাস স্নাতকোত্তর ছাত্রী

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।