জন গণ মন গানটিকে ভারতবর্ষের জাতীয় সংগীতের জন্যে প্রথম প্রস্তাব করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

জন গণ মন গানটিকে ভারতবর্ষের জাতীয় সংগীতের জন্যে প্রথম প্রস্তাব করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

১৯১১ সালের ২৭ ডিসেম্বর | ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ২৬তম বার্ষিক অধিবেশনে | সেদিন সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এক গান – জন গণ মন অধিনায়ক…… | দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের নেতৃত্বে গানের রিহার্সাল হয়েছিল ডক্টর নীলরতন সরকারের হ্যারিসন রোডস্থ (বর্তমানে মহাত্মা গান্ধী রোড) বাসভবনে | পরদিন দ্য বেঙ্গলি পত্রিকায় গানটির ইংরেজি অনুবাদসহ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় |

জন গণ মন অধিনায়ক গানটির কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি।সেই কারণে জন গণ মন গানটি কোথায় কবে রচিত হয়েছিল তা নিশ্চিত জানা যায় না | গানটি প্রথম প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় | ১৯১৮-১৯ খ্রিষ্টাব্দে বেসান্ত থিওজফিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেমস এইচ কাজিনস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সেখানে কয়েকদিন অতিবাহিত করার আমন্ত্রণ জানান | ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি ছাত্র সম্মেলনে তিনি কাজিনস-এর অনুরোধে বাংলায় গানটি গেয়ে শুনিয়েছিলেন | এরপর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মদনপল্লীতে গানটির ইংরেজি অনুবাদ করেন | পাশ্চাত্য সংগীত বিশেষজ্ঞা কাজিনস-পত্নী মার্গারেট গানটির স্বরলিপি রচনা করেন। এই স্বরলিপিটি আজও অনুসরণ করা হয়ে থাকে | মদনপল্লীর বেসান্ত থিওজফিক্যাল কলেজের লাইব্রেরিতে আজও সেই মূল ইংরেজি অনুবাদটি ফ্রেমবন্দি হয়ে আছে |

আরো পড়ুন:  পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্যে হোটেলে বাসন মাজতেন, তিনিই হয়ে উঠলেন ভারতবর্ষের দন্তচিকিৎসার জনক

১৯৩০ সালে কবিগুরু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণে যান | সেখানে মস্কোয় পাইয়োনিয়ার্স কমিউনের অনাথ বালক-বালিকারা রবীন্দ্রনাথকে একটি গান গাইতে অনুরোধ করলে, তিনি তাদের জনগণমন গেয়ে শোনান | ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় সংগীত হিসাবে প্রথম জন গণ মন গানটিকে প্রস্তাব করেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু | ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ৫ জুলাই আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের কথা ঘোষণা করা হয় এবং সেই দিনই প্রথম জাতীয় সংগীত হিসাবে জন গণ মন গাওয়া হয় | এরপর ওই বছরের ২৫ আগস্ট নেতাজি আনুষ্ঠানিকভাবে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতির পদ গ্রহণ করেন ও ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে আরজি হুকুমৎ-এ-হিন্দ প্রতিষ্ঠা করেন | নেতাজি আজাদ হিন্দ সরকারের সেক্রেটারি আনন্দমোহন সহায়ের উপর দায়িত্ব দেন গানটির হিন্দুস্থানী অনুবাদের জন্য | তিনি লয়ালপুরের তরুণ কবি হুসেনের সাহায্যে কাজটি সম্পাদন করেন। অনুবাদের সময় মূল গানের সামান্য পরিবর্তন সাধিত হলেও তার ভাব ও সুর অক্ষুণ্ণ থাকে | পরবর্তীকালে আনন্দমোহন সহায়ের লেখা থেকে জানা যায়, এই গান সেই সময় ভারত ও ভারতের বাইরেও বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল এবং জাপান ও জার্মানির বিদ্বান সমাজ এই গান শুনে অভিভূত হয়েছিলেন। ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে আজাদ হিন্দ ফৌজ মৌডক রণক্ষেত্রে জয়লাভ করে ভারতের মাটিতে প্রবেশ করে ও সেই দিনই প্রথম ভারতের মাটিতে জনগণমন ভারতের জাতীয় সংগীতরূপে বাজানো হয় |

আরো পড়ুন:  শুটিং শেষে শক্তিগড়ে পৌঁছে ইউনিটের সকলের উদ্দেশ্যে মানিকবাবু বললেন "যার যত খুশি ল্যাংচা খাও''

তথ্য : উইকিপিডিয়া

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।