আদি গঙ্গাকে পাশে রেখে গড়ে উঠেছিল টালিগঞ্জ,এলাকা দিয়ে চলাচল করত জাহাজ

আদি গঙ্গাকে পাশে রেখে গড়ে উঠেছিল টালিগঞ্জ,এলাকা দিয়ে চলাচল করত জাহাজ

টালিগঞ্জ নাকি টলিগঞ্জ, কলকাতা মেট্রো রেলের নাম অনুযায়ী স্টেশনের নাম ‘মহানায়ক উত্তমকুমার’ সেই এলাকার সঠিক নামটি কি? ট এর সঙ্গে “আকার” আছে না নাকি টালিগঞ্জের ‘ট’ নিরাকার সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ঘাঁটতে শুরু করেছিলাম এলাকার ইতিহাস। একসময় আদি গঙ্গাকে পাশে রেখেই গড়ে উঠেছিল এই অঞ্চল। যদিও একদিকে মেট্রো রেলের প্রকাণ্ড থামগুলি আর এলাকার নাগরিকদের প্রবল অসচেতনতায় বর্তমানে মৃত খালে পরিণত হয়েছে। আদি গঙ্গার এই প্রবাহ টালি নালা ছাড়াও আরও দুটি নামে পরিচিত ছিল সেই দুটি হলো গোবিন্দপুর খাঁড়ি, সুরমানের খাঁড়ি । যদিও গোবিন্দপুর খাঁড়ি এবং সুরমানের খাঁড়ি নাম দুটি সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে গেছে। জানা যাচ্ছে এক সময় এই টলি নালা ছিল হুগলী নদীর মূল ধারা । কিন্তু ১৭ শতাব্দীর পরের সময় থেকে ক্রমে তা শুকিয়ে যেতে থাকে। অতীতে আদি গঙ্গা কালীঘাট, বারুইপুর হয়ে মগরা বা আজকের মগরা হাট হয়ে সমুদ্রে মিশত। মনসা বিজয়ের লেখক বিপ্রদাস পিপলাই চাঁদ সদাগরের যাত্রা পথের যে বর্ণনা দিয়েছেন সেখানে চিতপুর, কালীঘাট, বারুইপুর হয়ে সাগরসঙ্গমের(সাগর দ্বীপ) কথা বলা আছে। দেজ পাবলিশিং থেকে প্রকাশিত নীহার রঞ্জন গুপ্তের ‘বাঙালির ইতিহাস’ –এ ১৬৬০ সালে আঁকা ভ্যান ডেন ব্রুকের যে ম্যাপে যে তথ্য দেওয়া আছে বিপ্রদাস পিপলাই-এর বর্ণিত চাঁদ সদাগরের যাত্রা পথের সঙ্গে সেটি প্রায় হুবহু মিলে যায়।

আরো পড়ুন:  গলার আওয়াজ শুনে প্রথমে সবাই বলল মেয়েলি আওয়াজ,বরফ গিলে গিলে গলা ঠিক করেছিলেন অশোক কুমার

কি ভাবে শুকিয়ে গেল আদি গঙ্গা? আদি গঙ্গার ধারাটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দুটি তথ্য পাওয়া যায় । প্রথমত ,আদি গঙ্গা যেখানে গঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় সেখানে গঙ্গা ও সরস্বতী নদীর জোয়ারের জলে পুষ্ট একটি খাঁড়ি ছিল। কিন্তু জাহাজ চলাচলের সুবিধের জন্য ওলন্দাজ নাবিকরা জন্য খাঁড়িটি বিভক্ত করে দিয়েছিল। অপর একটি ধারণা পাওয়া যায় যে, আদি গঙ্গার এই ধারাটি প্রাকৃতিক কারণে শুকিয়ে যায়। ভারতী বুক স্টল থেকে প্রকাশিত দিলীপ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাঙলার নদী’ বই থেকে জানা যায় , এই ধারাটিকে সরস্বতীর নিম্ন প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যাতে জাহাজ চলাচলের সুবিধা হয়। সময়টি আলিবর্দি খানের রাজত্বের সমসাময়িক।

আরো পড়ুন:  "ক্ষুদিরামের ভূত এসে আমায় জেলের ভিতর রিভলবার দিয়ে গেছে" বিচারককে বলেছিলেন কানাইলাল

টালি নালার বা টলি নালার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। আগেই বলা হয়েছে এই খাঁড়ির নাম ছিল গোবিন্দপুর খাঁড়ি। ১৭১৭ সালের আশেপাশের কোন সময়ে এডওয়ার্ড স্যারমন নামে এক সাহেব এই খাঁড়িটির সংস্কার করেন। তার নামেই এই খাঁড়িটির নাম হয় স্যারমনের খাঁড়ি বা সুরমানের খাঁড়ি। এর পর ১৭৭৩ সালে কাজ শুরুর করেন টলি সাহেব। তিনি খাঁড়িটিকে সংস্কার করে ১৭৭৫ সালে বিদ্যাধরী নদীর সঙ্গে যোগ করেন। উইলিয়াম টলির নাম অনুসারে তখন থেকে এই খাঁড়ির নাম হয় টলির নালা বা টালি নালা।

আরো পড়ুন:  শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, হরিদার চা বাঙালির বড় ভরসা !

তবে টলি সাহেবার নামে বিখ্যাত হওয়া খাল থেকেই এলাকার নাম টালিগঞ্জ হয়েছে এমন তথ্যে আংশিক সত্যতা থালেও পুরোপুরি সত্যি খুঁজতে আরও একটু গভীরে যাওয়া দরকার। মেজর টলি সাহেব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে একটি লাইসেন্স আদায় করেন একটি নতুন ‘গঞ্জ’ স্থাপন করার জন্য। গঞ্জ বা বাজার স্থাপন করে সেখান থেকে খাজনা তোলার ব্যবসা করাই ছিল সাহেবের উদ্দেশ্য। টলি সাহেবের এই গঞ্জের নাম টলি গঞ্জ থেকে টালিগঞ্জ নামে পরিচিত হয়। বর্তমানে একাধিক স্টুডিও থাকায় এই এলাকাকে সিনেমা পাড়াও বলা হয়, যার পোশাকি নাম ‘টলিউড’। তবে ইতিহাস ঘেঁটে যা দেখা যাচ্ছে তাতে দুটি উচ্চারণের কোনটিই ভুল বলা যায় না । তবে এলাকার পুরনো মানুষরা কিন্তু টালিগঞ্জ বলতেই অভ্যস্ত কিন্তু নতুন প্রজন্মের অনেকেই টালি থেকে “আকার” টি বাদ দিয়ে টালিগঞ্জ বলে থাকেন।

-অরিন্দম চ্যাটার্জী

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।