প্রিন্সেপ ঘাটের প্রিন্সেপের গল্প

প্রিন্সেপ ঘাটের প্রিন্সেপের গল্প

কলকাতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ প্রিন্সেপ ঘাট আর তার সাথে রয়েছে প্রিন্সেপ ঘাট সৌধ | প্রিন্সেপ ঘাটের নাম শোনেননি , এরকম মানুষের সংখ্যা হয়তো খুবই কম। প্রিন্সেপ ঘাটের মতো সুদৃশ্য ও সুবৃহৎ ঘাট কলকাতায় আর দ্বিতীয় নেই।প্রিন্সেপ ঘাট কলকাতার সবচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি। প্রিন্সেপ ঘাট ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের ওয়াটার গেট ও সেন্ট জর্জেস গেটের মাঝে অবস্থিত। ঘাটটি মহান সম্রাট অশোকের শিলালিপির পাঠোদ্ধারকারী জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতিতে তৈরি করা হয়েছিল আর এর ঠিক পাশেই রয়েছে মাথার উপর দিয়ে বিশালাকার বিদ্যাসাগর সেতু।

আরো পড়ুন:  যতীন দাসের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কবিগুরু লিখলেন "সর্ব খর্বতারে দহে তব ক্রোধদাহ । হে ভৈরব ! শক্তি দাও..... ভক্তপানে চাহো..."

এখানে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও তাঁর স্বর্গীয় জনক, সম্রাট সপ্তম এডওয়ার্ড কলকাতায় আসার সময়, এই ঘাটেই নেমেছিলেন।বহুমুখী প্রতিভা সম্পন্ন বিখ্যাত ভারততত্ত্ববিদ জেমস প্রিন্সেপ ১৮১৯ সালে ভারতবর্ষে আসেন। ১৮২৯ সালে কলকাতা ট্যাঁকশালের অ্যাসেমাস্টার হিসাবে যোগদান করেন এবং একই সঙ্গে এশিয়াটিক সোসাইটির বাংলা শাখার সচিব পদে কার্যভার গ্রহণ করেন। এই সময়কালে তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজগুলি হল, ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী ভাষা পড়ার লিপিমুদ্রা আবিষ্কার, একই রকম ওজন ও মাপের ধাতু মুদ্রা প্রচলন, হুগলি নদী ও সুন্দরবনের সংযোগরক্ষাকারী সার্কুলার ক্যানেল খনন ইত্যাদি। জেমস প্রিন্সেপের মৃত্যুর পর ১৮৪১ সালে কলকাতা নাগরিকদের দানে ১২০০০ টাকায় হুগলি নদীর পূর্ব তীরে তাঁর স্মরণে এই দৃষ্টি নন্দন সৌধ তৈরি হয়, বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কলকাতায় জাহাজে করে এলে এই ঘাটেই পদার্পন করতেন। প্রিন্সেপ গ্রিক হরফ জানতেন, ব্রাহ্মী লিপিতে তাঁর যথেষ্ট দক্ষতা ছিল। তাঁর পরিশ্রমের ফলেই বিশ্বের মানুষ প্রাচীন ভারতের শক্তিশালী শাসক বিহারের অশোক সম্পর্কে জানতে পারে। আবার গৌতম বুদ্ধের সম্পর্কে জানা যায় এই লিপি থেকে । জেমস প্রিন্সেপ ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব কে নতুন জীবন দিয়েছিলেন। মুদ্রার প্রতি প্রিন্সেপের প্রবল আগ্রহ ছিল। তিনি কুষাণ আমলের মুদ্রার পাঠোদ্ধার ও বিশ্লেষণ করেন প্রিন্সেপ ই প্রথম ‘ পাঞ্চ মার্কড ‘ বা ছাপঙ্কিত কথাটি প্রথম চালু করেন।

আরো পড়ুন:  কলকাতার একমাত্র মহিলা টু-হুইলার মেকানিক তিনি,‘মেকানিক দিদি’ সোনালি মিস্ত্রি অনুপ্রেরণার আরেক নাম

জেমস প্রিন্সেপ ১৮৪০ সালে ২২ শে এপ্রিল ইংল্যান্ডে মারা যান। পরিণীতা ছবির একটি গানের শ্যুটিং এ প্রিন্সেপ ঘাট রয়েছে। এছাড়া প্রিন্সেপ ঘাটের পাশেই কলকাতা শহরকে আবর্তিত রয়েছে একটি স্টেশন, প্রিন্সেপ ঘাট স্টেশন। ঘাটের কাছে যে ম্যান অ ওয়ার জেটিটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কলকাতা বন্দরের ভূমিকা স্মৃতি নিয়ে আছে।

আরো পড়ুন:  ৫৬ জন বাঙালি যুবকের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে আছে এই স্মৃতিসৌধ

-রিয়া দাস(রাই)

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।