বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঋতুস্রাব নিয়ে কুসংস্কার দূর করছেন হুগলির “প্যাডম্যান” সুমন্ত বিশ্বাস

বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঋতুস্রাব নিয়ে কুসংস্কার দূর করছেন হুগলির “প্যাডম্যান” সুমন্ত বিশ্বাস

বিংশ শতাব্দীতে যখন ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটস্‌অ্যাপের হাত ধরে মানুষ “অত্যাধুনিক” হয়ে ওঠার চেষ্টা চালাচ্ছে । অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলে কিছু বদ্ধমূল ধারণা, কুসংস্কার মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে পিছনের দিকে । মহিলাদের ঋতুস্রাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে রয়েছে সামাজিক ছুঁতমার্গ । স্বাভাবিক এই শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে নিয়ে রয়েছে বহু কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস । সমীক্ষায় দেখা গেছে সারা দেশে গ্রামীণ মেয়েদের ২৩ শতাংশ ঋতুস্রাবের সমস্যার জন্যে স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয় । এর পাশাপাশি হাইজেনিক প্যাড ব্যবহার না করার জন্যে বিরাট সংখ্যক নারী জননতন্ত্রের সংক্রমণ এবং বন্ধ্যাত্বের সমস্যায় ভোগে । আজও বহু মানুষ ঋতুস্রাব নিয়ে কথা বলতে সংকোচ বোধ করেন । এই ঘটনাগুলো নাড়া দিয়েছিল চন্দননগরের ভূগোল শিক্ষক সুমন্ত বিশ্বাসকে ।

আরো পড়ুন:  নয় দশক পরেও নট আউট হাওড়া স্টেশনের "বড় ঘড়ি"

সুমন্ত বিশ্বাস ঠিক করলেন বাংলার গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঋতুস্রাব নিয়ে সচেতনতার প্রচার করতে হবে । কাজ শুরু করলেন বোলপুরের প্রত্যন্ত আদিবাসী গ্রাম থেকে । বোঝালেন ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের উপকারিতা , ঋতুকালীন সমস্যা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে গড়ে তুললেন সচেতনতা । বিনামূল্যে গ্রামীণ মহিলাদের হাতে তুলে দিলেন স্যানিটারি ন্যাপকিন । পাশাপাশি চেষ্টা করেছেন গ্রামেগঞ্জে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা এই সংক্রান্ত কুসংস্কার থেকে গ্রামবাসীদের মুক্ত করতে । সেই শুরু । তারপর আর থেমে থাকেননি সুমন্তবাবু । কাজ করেছেন সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামে, পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী গ্রামে, বিভিন্ন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় । শিক্ষক সুমন্ত বিশ্বাস হয়ে উঠেছেন বাস্তবের “প্যাডম্যান” ।

আরো পড়ুন:  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গভর্নর স্ট্যানলি জ্যাকসনকে লক্ষ্য করে গর্জে উঠেছিল বীণা দাসের রিভলভার

এখন আর একা নন, এই মহৎ কাজে পাশে পেয়েছেন হৈমন্তী, মৌমিতা, অঙ্কনা, তিয়াসার মতো ছাত্রীদের । তারাও সুমন্তবাবুর সাথে বিভিন্ন গ্রামেগঞ্জে ঘুরে ক্যাম্প করছেন । সচেতন করছেন গ্রামের মহিলাদের । পাশাপাশি মহিলাদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন তুলে দিচ্ছেন । এই কাজের জন্যে অন্য কারও থেকে আর্থিক সাহায্য পাননি তিনি । গৃহ শিক্ষকতার থেকে উপার্জিত অর্থের একাংশ দিয়েই স্যানিটারি ন্যাপকিন কেনেন তিনি এবং তুলে দেন মানুষের হাতে । এর পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাইকেল করেই প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে যান সচেতনতার বাণী নিয়ে । বাল্যবিবাহ রোধের বিষয়েও জনমত গড়ে তুলেছেন সুমন্তবাবু । ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সুমন্তবাবু তৈরী করেছেন ভুসংকল্প নামের এক সংস্থা । সুমন্তবাবুর কথায়, “এটা একটা লড়াই । আমরা চেষ্টা করছি সমাজের কুসংস্কার দূর করার । আমাদের সকলের উচিত মহিলাদের পাশে দাঁড়ানো ।”

আরো পড়ুন:  মায়ের জন্যে কুয়ো কাটল মেয়ে,লকডাউনে নারীশক্তির জয় রানিগঞ্জের ছাত্রীর হাত ধরে

-অভীক মণ্ডল

তথ্য – আজকাল,নবদিগন্ত

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।