রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে বাংলায় প্রথম শুরু হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজো

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে বাংলায় প্রথম শুরু হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজো

কথায় বলে ভক্তের ভগবান। ভক্তদের মনোবাঞ্ছা মাকে সোনার টিপ দেবে, কারও নিবেদন টিকলি কারও বা নথ, আবার কেউ মানত করে রেখেছিল সোনার হার পরাবেন এবার পুজোয়। আর তাই কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই গয়নার দোকানে ভীড়, স্বর্ণালঙ্কারের ছড়াছড়ি ! পরিসংখ্যান বলছে জগদ্ধাত্রী পুজোর হিড়িকে কয়েক দিনে নদিয়ার সদর শহরে গয়না কেনার যে ধুম, তাতে কয়েক কোটি টাকার ব্যবসা হয়।

রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরে কৃষ্ণনগরে তথা বাংলায় শুরু হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজো। রাজকর দিতে না পারায় নবাব আলিবর্দি খাঁয়ের কারাগারে বন্দি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। আনুমানিক ১৭৫৪ সাল। কারাগার থেকে যেদিন তিনি বের হলেন, সেদিন দুর্গোৎসব শেষ। নৌকায় করে যখন ফিরছেন কৃষ্ণনগরে, গঙ্গার ঘাটে চলছে নিরঞ্জন পর্ব। ক্লান্ত শরীর, বিষণ্ণ মন। নৌকোতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। জনশ্রুতি, সেখানেই কৃষ্ণচন্দ্র স্বপ্নে দেখেছিলেন এক রক্তবর্ণা চতুর্ভুজা কুমারী দেবীকে। তিনি কৃষ্ণচন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্তিক মাসের শুক্লানবমী তিথিতে তাঁর পুজো করতে। সেই মতোই কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে সূচনা হয়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজোর।

আরো পড়ুন:  স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে চান,৪৫০০০ টাকার চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা দে

রাজ্যপাট না থাকলেও কয়েকটি পুজোতে খানদানি ভাব এতটুকু কমেনি। প্রাচীন এই শহরে থিমের পুজোর রমরমা হলেও, এখনও চাষাপাড়া বারোয়ারির বুড়িমা, কাঁঠালপোতা বারোয়ারির ছোটমা বা মালোপাড়া বারোয়ারির জলেশ্বরী মা নিজস্বতায় অনন্য। এই পুজোগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিমার সাজ বা অলঙ্কার। প্রায় ৫০০ ভরি অলঙ্কারের ‘মালিক’ বুড়িমা এ রাজ্যের সবচেয়ে ধনী দেবী । টিপ, নথ, টিকলি, বালা, হার…….বুড়িমাকে এই সব অলঙ্কার দিয়েই সাজান ভক্তরা। সব কিছুই সোনার। দেবীর বাহন সিংহ, সেও কিছু কম গহনা পায় না। আবার বুড়ীমার মতো এত অলঙ্কার না পেলেও খুব একটা কম যান না ছোটমা বা জলেশ্বরী মা।

আরো পড়ুন:  ভারত বিখ্যাত দুন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নৈহাটির এই বঙ্গসন্তান

অতীতের মতো আজও কৃষ্ণনগরের সব সর্বজনীন প্রতিমা রাজবাড়ির সামনে দিয়ে শোভাযাত্রা করে বিসর্জনে যায়। আগে রাজপ্রাসাদ থেকে রানিরা সেই সব প্রতিমা দেখে প্রথম দ্বিতীয় নির্ধারণ করতেন। মিলত পুরষ্কারও | তাই আজও কৃষ্ণনগর রাজবাড়ী থেকেই সৃষ্টিশীলতায় জগদ্ধাত্রী পুজো যেন খুঁজে পেয়েছে তার খ্যাতি।

আরো পড়ুন:  ভারতবর্ষের প্রথম স্নাতকোত্তর মহিলা ছিলেন এই বঙ্গকন্যা,বেথুন কলেজের প্রথম প্রিন্সিপালও ছিলেন তিনি

লেখক – স্বপন সেন

তথ্যঋণ : তন্ময় চক্রবর্তী

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।