ছো নাচের মুখোশ তৈরীর আঁতুরঘর পুরুলিয়ার “মুখোশগ্রাম” চড়িদা

ছো নাচের মুখোশ তৈরীর আঁতুরঘর পুরুলিয়ার “মুখোশগ্রাম” চড়িদা

পুরুলিয়ার চোখ ধাঁধানো ছো নাচ আজ বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে সারা ভারতে ও পৃথিবীর নানা দেশে সমাদৃত। অসাধারণ রঙিন সব মুখোশ পড়ে নৃত্য পরিবেশন- এ ব্যাপারটা একেবারে পুরুলিয়ার নিজস্ব। মন ভোলানো ছো এর ছন্দে বিভোর হয়ে যায় দর্শক।

অযোধ্যা পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছোটো শহর বাগমুণ্ডি, তবে ঠিক শহর বলা যায় না। পাহাড়, জঙ্গল, জলাধার, লেক ও ঝরনার ভরপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অমোঘ আকর্ষণে মানুষ ভিড় জমায় এ অঞ্চলে। আবহাওয়ার কারণে ‘রুপসী বাংলা’র রূপ দর্শণে পর্যটকরা মূলত অক্টোবর থেকে মার্চ মাসকেই বেছে নেয়। সে কারনে বেশ কটা হোটেল ও লজ গজিয়ে উঠেছে, বেশিরভাগই নতুন। দোকান আছে বেশকিছু। রোজকার বাজার সেভাবে নেই, পাহাড়ের কোলে কিষাণ মাণ্ডিতে বুধবার ও শনিবার জমজমাট হাট বসে। বাগমুণ্ডির অযোধ্যা মোড় থেকে বড় রাস্তা বরাবর মোটামুটি তিন কিলোমিটার এগোলেই একটা বাজার চোখে পড়ে। জায়গাটির নাম চড়িদা (স্থানীয় মানুষ ‘চড়দা’ বলেই ডাকে)। রাস্তার দুদিকে সারি সারি দোকান, ছো নাচের সব মুখোশ বিক্রি হচ্ছে। জায়গাটি অবশ্য ‘মুখোশগ্রাম’ নামেই বেশি পরিচিত।

আরো পড়ুন:  সমস্ত মণ্ডপ কনটেনমেন্ট জোন,সমস্ত পুজো প্যান্ডেলে দর্শক প্রবেশ নিষিদ্ধ-রায় কলকাতা হাইকোর্টের

প্রায় শ’ দেড়েক দোকান। চারিদিকে মুখোশ সাজানো, মুখোশ তৈরিও হচ্ছে দোকানে বসেই। শুধু ছো নাচের না, আরও নানা ধরনের মুখোশের সম্ভার। মুখোশগুলো কাগজের তৈরি। মাটির ছাঁচের উপর কাগজ ও হালকা মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি হয় এগুলি। তারপর রঙ করা হয়, চোখ ফোটানো হয় এবং নানা রকমের সাজে সাজানো হয়। অবাক করার মত কারুকার্য।

প্রায় দু-তিন হাজার মানুষ এই মুখোশ শিল্পের সাথে সরাসরি যুক্ত। শিল্পীদের মাসিক আয় গড়ে প্রায় ৫-১২ হাজার টাকা। ছৌ নাচের জন্য ব্যবহৃত বড় মুখোশগুলির মূল্য গড়ে ১৪০০-২৫০০ টাকা, দাম নির্ভর করে কাজের উপর। একটা বড় মুখোশ তৈরি করে শিল্পী পান ২০০ টাকা। দক্ষ শিল্পীরা দিনে দুটো বড় মুখোশ তৈরি করতে পারেন। ছোটো মুখোশগুলির দাম মোটামুটি ৫০ টাকা থেকে শুরু। নানান দামের, নানান ডিজাইন ও সাইজের মুখোশ পাওয়া যায়। মুখোশ গুলি প্রধানত নানান দেব-দেবী, পশুপাখি ও সাঁওতাল নারী-পুরুষদের। সারা বছরই মুখোশ তৈরির কাজ চলে, তবে শীতকালে চাহিদা বাড়ে। কারণ শীতেই পর্যটকরা ভিড় জমায়, কেনাকাটাও করেন। এছাড়া শীতেই নানা প্রান্তে ছো’এর আসর বসে।

আরো পড়ুন:  দেশত্যাগ করার পূর্বে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের মায়ের পায়ের ফুল নিয়ে গিয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

সাম্প্রতিক কালে ছো নাচের প্রচলন বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে মেলায়, পুজোর সময় ছো নাচের আসর বসছে। রাজ্য সরকার নানা অনুষ্ঠানে ছো শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। বাংলার বাইরেও আজকাল ছো’এর চল শুরু হয়েছে। তাই ছো নাচ, নৃত্য শিল্পী থেকে মুখোশ শিল্পী সবকিছুরই কদর বাড়ছে। উপার্জনও বাড়ছে। নতুন করে আরও বেশি বেশি মানুষ এই পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। এছাড়া নানান পূজোয় মন্ডপ সজ্জায় মুখোশের ব্যবহার বাড়ছে, বিশেষ করে দুর্গাপূজোর সময় শহরের নানা মণ্ডপে মুখোশের বরাত পায় এই চড়িদার শিল্পীরা। একটা বড় মণ্ডপ সাজাতে নূন্যতম এক লাখ টাকার মুখোশ লাগে।

আরো পড়ুন:  মহানগরী কলকাতার বুকে এক টুকরো তিব্বতের স্বাদ

সরকারি আর্থিক অনুদান নেই, তবে রাজ্য সরকার পুরুলিয়ার পর্যটনে ব্যাপক জোর দিচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়নও হয়েছে ব্যাপক, রাস্তাঘাট খুব সুন্দর। মাওবাদী আতঙ্কের অতীত ভুলে অযোধ্যা আবার হাতছানি দিচ্ছে ভ্রমণপিপাসু বাঙালিকে। ফলে শেষ কবছরে জন সমাগম বহুগুণ বেড়েছে। তাই মুখোশশিল্পীদের আর সমস্যা নেই, বিক্রিও বাড়ছে প্রতি বছর। ২০০১-০২ সালে পুরুলিয়া এসেছিলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ বিভাগের এক আধিকারিক। তিনি চড়িদা গিয়ে শিল্পীদের নিখুঁত হাতের কাজ দেখে মোহিত হন। 

হাওড়া থেকে ট্রেনে খড়গপুর হয়ে পুরুলিয়া স্টেশন কিমবা বলরামপুর স্টেশনে নেমে বাগমুণ্ডি বাসে যাওয়া যায় অনায়াসে। কলকাতা থেকে পুরুলিয়া বা বলরামপুরের বাসও আছে। বাগমুণ্ডিতে থেকে অযোধ্যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সাথে সাথে ঢুঁ মারতে পারেন ‘মুখোশগ্রাম’এ। কিছু মুহূর্ত মুখোশের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন একথা হলফ করে বলছি।

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।