করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বাঙালিত্ব গবেষণা উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ভাষাযোদ্ধা কবি পার্থসারথি বসু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন বাঙালিত্ব গবেষণা উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ভাষাযোদ্ধা কবি পার্থসারথি বসু

আমাদের পেজে বেশ কিছুদিন আগে একটি লেখা দিয়েছিলাম বাঘাযতীন ও বাগনান স্কুল সম্পর্কে । ওই লেখাটি ছিল পার্থসারথি বসুর লেখা । গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর বেলা বারোটায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন পার্থসারথি বসু । বেশ কিছুদিন আগেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি ।

কিন্তু কে এই পার্থসারথি বসু ?
কবি পার্থ বসু, পুরো নাম পার্থসারথি বসু । ব্যক্তিগতভাবে আমি ওনাকে চিনতাম না । কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই আমি জানতে পারি কবি পার্থসারথি বসুর সম্পর্কে । অসম্ভব ভাল কবিতা লিখতেন তিনি । যদিও বর্তমান যুগের অনেক কাব্যপ্রেমীই কবি পার্থ বসুকে চেনেন না । বাংলার প্রতি ছিল তাঁর অন্তরের টান ।

আরো পড়ুন:  আর যেন কন্যাসন্তান না জন্মায় তাই ঠাকুমা নাম রাখলেন আশাপূর্ণা

বাঙালিত্ব গবেষণা উদ্যোগ (যা সারা বিশ্বের বাঙালিদের নিয়ে করা একাডেমিক গরুপ) এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন পার্থসারথি বসু । বাংলা সংস্কৃতি রক্ষার বিশেষ অবদান রাখায় বিশ্ব বাঙালি সংঘ (বিবাস) বিশ্ব বাঙালি ২০১৯ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি ।

পার্থসারথি বসুর জন্ম ১৯৪৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভাটপাড়ায় । বাবা নিত্যদাস বসু ছিলেন ডাক্তার । মা ছিলেন বিশিষ্ট গায়িকা হেমলতা বসু । ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি টান ছিল পার্থসারথি বসুর । লিখতেন কবিতা । কলেজে পড়ার সময় নকশাল আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছিলেন । কিন্তু তখনও সাহিত্য সাধনা বন্ধ হয়ে যায়নি । পেশায় ছিলেন ব্যাংকার । একটি কাব্য উপন্যাস, একটি গদ্যসংকলন সহ আরও এগারােটি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন পার্থ বসু । লিখেছেন বহু বাণিজ্যিক পত্রিকায় ও লিটল ম্যাগাজিনে । অখিল ভারতীয় সাহিত্য সম্মান, পূর্ণেন্দু পত্রী স্মৃতি পদক, সুকান্ত পুরস্কার প্রভৃতি বিভিন্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন কবি পার্থসারথি বসু ।সম্পাদনা করেছেন প্রতিবিদ্ব, তপন করের সাথে যৌথভাবে শিল্পী, আফসার আহমেদের সাথে জাগর ইত্যাদি নাটকও লিখেছেন, মঞ্চস্থ করেছেন তিনি ।

আরো পড়ুন:  কোঁচড়ে মাত্র পাঁচ টাকা আর দু'চোখে দুঃস্থ মানুষদের সেবার স্বপ্ন

তবে কবি পার্থসারথি বসুর প্রধান পরিচয়- ভাষাযােদ্ধা । বাংলাভাষার তথা মাতৃভাষার যে আন্দোলন গড়ে উঠছে ভূভারতে,তাঁর অন্যতম প্রধান কান্ডারি ছিলেন পার্থসারথি বসু । তাঁকে দেখেই বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু মানুষ ।

আরো পড়ুন:  পেটের টানে চায়ের দোকানে কাপপ্লেট ধোঁয়ার কাজ করতেন,তিনিই হয়ে উঠলেন ভারতবর্ষে মাইমের পুরোধা

হাওড়ার স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মুখে মুখে ফিরত পার্থ বসুর কবিতা । তিনি লিখেছিলেন :

” তেল টিম টিম কুপির আলোয়
গা ছম ছম গাঁ
এখন তেলও মেলেনা।
রাত গহীনের ভেংচি কাটে
সাত সন্ধ্যের হাঁ,
বাছা কদম কদম পা
একটু সাবধানেতে যা।
নক্ষত্রের রোদের আলোয়
পা মচকাস না।…”

অথবা

” শিবো আর কবে ঘুম ভাঙ্গবে
দিবো আর কতো মণ দুগ্ধ…
মোর গাইগরুটি রুগ্ন
তার নিংড়ানো বাঁট শুখনো….”

পার্থসারথি বসু আজও বিপ্লবের অপর নাম। তাঁর মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হল বাঙালি জাতির ।

-অভীক মণ্ডল

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।