তার লিখিত বই “ফার্স্ট বুক” বাঙালিকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করিয়েছিল

তার লিখিত বই “ফার্স্ট বুক” বাঙালিকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করিয়েছিল

তিনি লিখেছিলেন ‘ফার্স্ট বুক’, উনিশ শতকে যে কিংবদন্তি বই পড়ে রবি ঠাকুরেরও ইংরেজিতে হাতেখড়ি। তার পাঠ্যবই বাঙালির এক সমগ্র প্রজন্মকে ইংরেজি ভাষায় পরিচিত করেছে। তার পাঠ্যবইসমূহ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে এবং অধিকাংশ ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মশাই এর অভিন্ন হৃদয় বন্ধু, সমস্ত রকম সমাজ সংস্কারে যাঁর অগ্রণী ভূমিকা, যিনি নিঃশর্তে এবং নিঃশব্দে বিদ্যাসাগর মশাইকে আর্থিক ও মানসিক ভাবে সাহায্য করে গেছেন, যিনি নিজে এক অসাধারণ দানবীর ও কর্মবীর সেই প্যারীচরণ সরকার আজ বিস্মৃতপ্রায়। কেউ মনে রাখেনি।

১৮২৩ সালের ২৩শে জানুয়ারি কলকাতার চোরবাগানে তিনি জন্মগ্রহণ করে। অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র প্যারীচরণ এর সহপাঠী ছিলেন ভূদেব মুখোপাধ্যায়, মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রমুখ। কিন্তু শীর্ষস্হান দখল করে বরাবর সরকারী বৃত্তি ও সরকারী স্বর্ণপদক লাভ করেন প্যারীচরণ সরকার। ১৮৪৩ খৃষ্টাব্দে পারিবারিক বিপর্যয়ের কারণে হিন্দু কলেজ ত্যাগ করলেও ১৮৬৭ খৃষ্টাব্দে এই হিন্দু কলেজেই যোগ দেন হিন্দু কলেজের ইতিহাসে প্রথম বাঙালী ইংরেজির স্হায়ী অধ্যাপক হিসেবে। সুনামের সঙ্গে সম্পাদনা করেন এডুকেশন গেজেট। শুধু ইংরেজিভাষা নয় মাতৃভাষা, ভূগোল, অঙ্কেও তাঁর অসাধারণ ব্যুৎপত্তি ছিল। খুব ভালো মানচিত্র অঙ্কন করতেন তিনি। ছাত্রদের জন্য লিখেছিলেন ” Outlines of the Geograpgy of India”(1860), “Second Geography”(1869), “Primary Geography, “Geography of India,.(1872),” Historical chart of England”, “Native Child’s Arithmetical Table(1874, “The Tree of Intemperance” প্রভৃতি।

আরো পড়ুন:  ফুটবল খেলতে মাঠে নামলেন ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ,গর্জে উঠল অনাথবন্ধু ও মৃগেনের রিভলভার

দরিদ্র ছাত্র, নিঃসহায় বিধবা, দরিদ্র পিতা কে প্যারীচরণ অর্থসাহায্য করতেন। ১৮৬৬ সালে বাংলা এবং উড়িষ্যায় প্রবল দুর্ভিক্ষ শুরু হলে তিনি শুধু এই ভয়াবহ সমস্যা “Well Wisher” পত্রিকায় লিখে ক্ষান্ত হলেন না, মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটে নিজের বাড়ির সামনে ” চোরবাগান অন্নছত্র ” নামে একটি অন্নছত্র স্হাপন করেন। প্রতিদিন প্রায় নশো লোককে প্যারীচরণ নিজে তদারকি করে খাওয়াতেন। বিধবাবিবাহ আন্দোলন, কৌলীন্যপ্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের অন্যতম সহকারী ছিলেন প্যারীচরণ। বিধবাবিবাহ তহবিলে প্যারীচরণ মাসিক দশটাকা ছাড়াও ১৮৬৯ সালে এককালীন আড়াই হাজার টাকা দান করেন। বিধবাবিবাহের ফলে যখন বিদ্যাসাগর ঋণের দেনায় ডুবে যান বিদ্যাসাগর এর অজান্তেই বিদ্যাসাগরকে রক্ষা করার জন্য তিনি অর্থসংগ্রহ করতে শুরু করেন। এজন্য তাঁর সঙ্গে বিদ্যাসাগরের মনোমালিন্য হয় এবং পরে বিদ্যাসাগর তার ভুল বুঝতে পারেন। প্রসঙ্গত কলকাতায় প্রথম ছাত্রাবাস প্যারীচরণ সরকারের অবদান। দূরদূরান্তের ছাত্রের জন্য ভাবনা তাঁর মাথাতেই আসে প্রথম।

আরো পড়ুন:  গোপনাঙ্গে ঢোকানো হল চারটি সেদ্ধ গরম ডিম,তবুও মুখ খুললেন না ইলা মিত্র

স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বারাসতে কালীকৃষ্ণ মিত্রের সহযোগিতায় বালিকাদের বিদ্যালয় গড়ে তোলার পর কলকাতার চোরবাগানে নিজের বাড়িতে গড়ে তোলেন “চোরবাগান বালিকা বিদ্যালয় ” (১৮৬৮) যেটি কোন বাঙালি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কলকাতার প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। চেয়েছিলেন যাতে সাধারণ বাড়ির মহিলারা এবং বিবাহিত মহিলারা যাতে পড়তে পারে। অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে প্যারীচরণ এই বিদ্যালয়টির তদারকি করতেন। জাস্টিস ফীয়ার সাহেব আসতেন এই বিদ্যালয়ের পারিতোষিক বিতরণ উৎসবে। এই বিদ্যালয় থেকেই ১৮৭৫ সাল থেকে বেরোতে শুরু করে বাংলার রমণীদের জন্য ” বঙ্গমহিলা ” পত্রিকা। প্যারীচরণ সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হত এ পত্রিকা।

আরো পড়ুন:  গীতা দে'র অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা ও চিত্র পরিচালক লরেন্স অলিভার

যথেষ্ট সুনামের সঙ্গে কাজ করেন হুগলী ব্রাঞ্চ স্কুলে, বারাসত সরকারী স্কুলে, কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুলে( তিনিই এই স্কুলের নাম পাল্টে রাখেন হেয়ার স্কুল) ও পরে হিন্দু কলেজে। ক্ষণজন্মা এই ব্যক্তি , বাংলায় স্ত্রীশিক্ষা আন্দোলনের এই পথিকৃৎ খুব অল্প বয়সে ১৮৭৫ সালের ৩০সেপ্টেম্বর পরলোক গমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে” বঙ্গমহিলা ” লিখল — ” বঙ্গদেশের একটি অমূল্য রত্ন অপহৃত হইল। বঙ্গসমাজ প্যারীচরণের শোকে আকুল। দীন দরিদ্র লোকেরা তাঁহার অপার দয়ার কথা স্মরণ করিয়া সকৃতজ্ঞচিত্তে কাঁদিতেছে!… বঙ্গমহিলাগণ! তোমাদিগের একটী প্রধান সহায় ও প্রকৃত মিত্র হারাইলে |

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।