জাতীয় সংগীত গাওয়ার অপরাধে খুন হতে যাচ্ছিলেন, সেই মাসুম আখতার-ই পরবর্তীতে পেলেন পদ্মশ্রী

জাতীয় সংগীত গাওয়ার অপরাধে খুন হতে যাচ্ছিলেন, সেই মাসুম আখতার-ই পরবর্তীতে পেলেন পদ্মশ্রী

গোটা বাংলাকে তোলপাড় করেছিল ২০১৫ সালের ২৬ মার্চের একটি ঘটনা। সেই সময় মৌলবাদীদের হাতে খুন হতে যাচ্ছিলেন যাদবপুর কাট জুননগর স্বর্ণময়ী স্কুল এর বর্তমান প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আখতার। কিন্তু কেন এরকম ঘটনা ঘটেছিল? যা গোটা বাংলাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

মাসুম আখতার চাইতেন ,ছাত্ররা ভারতীয় সংবিধান কে যথাযথ ভাবে যেন মেনে চলে। তাই দেশের ও দশের কথা ভেবে ভারতবর্ষের জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’ একসঙ্গে গাইছিলেন। আর ঠিক তখনই মৌলবাদীরা তাকে আক্রমণ করেন।তিনি নিজেকে সমাজসেবামূলক কাজে নিয়োগ রাখতে চাইতেন। তাই এলাকার বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে বিশেষভাবে উদ্যোগী হয়েছিলেন। ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই তিনি অনেক লেখালেখি করেন। মুসলিমদের তিন তালাকের চরম বিরেধিতা করেন।তাই তিনি প্রায় এক লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর গ্রহণ করে রাষ্ট্রপতি -প্রধানমন্ত্রী দপ্তর তথা সুপ্রিমকোর্ট পর্যন্ত দৌড়ে ছিলেন। তখনও মৌলবাদীরা চরম ভাবে তাঁকে আহত করেন । জানা যায় লোহার রড দিয়ে তার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মাসুম বাবুর স্বাধীন মতামতকে মেনে নিতে পারেনি তখনকার মৌলবাদীরা। মাসুম আখতার চাইতেন ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিকভাবে শিক্ষিত করে জ্ঞানের আলোয় পৌঁছে দিতে। তাই তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া চরম ঘটনায় পুলিশের সেইরকম তৎপরতা তিনি দেখতে না পাওয়ায় আলিপুর আদালতে বারংবার দ্বারস্থ হন।

আরো পড়ুন:  সংসদীয় রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় না থেকেও ট্রেড ইউনিয়ন করা যায়,প্রথমবার দেখিয়েছিলেন শঙ্কর গুহনিয়োগী

মাসুম আখতার শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। সরকার তার নিরাপত্তার কথা ভেবে কলকাতার ওই মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালের মে মাসে যাদবপুরের কাঠজুননগর স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে বদলি হন। তারপর ২০১৭,২০১৮ ও ২০১৯ সালে পরপর এই রুগ্ন দশার স্কুলকে কলকাতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্কুলের পরিচয় দেন। তার মত শিক্ষকের জন্য প্রতি ক্লাসে ছাত্র সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

আরো পড়ুন:  গোপনাঙ্গে ঢোকানো হল চারটি সেদ্ধ গরম ডিম,তবুও মুখ খুললেন না ইলা মিত্র

শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০২০ সালের পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রধান শিক্ষক কাজী মাসুম আখতার। পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি নিজের মুখে বলেন,”এই সম্মান আমাকে দিলো আমার দেশ । যতোই হুমকি বা হামলা হোক দায়িত্বপালন থেকে এক মুহূর্ত সরব না।” তিনি পেয়েছেন মানুষের কাছে ভালোবাসা এবং অনেক অভিনন্দন।তাঁর অনেকদিনের বন্ধু গোপাল মন্ডল লিখেন, ২০১৭ সালের শিক্ষক দিবসে মাসুম ভাইকে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষারত্ন সম্মান প্রদান করেছেন । হ্যাঁ ইনি সেই জাতীয়তাবাদী শিক্ষাব্রতী,যিনি তালপুকুর আরা উচ্চ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক থাকাকালীন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত গাওয়ার কারণে কিছু নির্বোধ মানুষের হাতে নিদারুণভাবে প্রহৃত হন। তিনি আরো বলেন, ওই মাদ্রাসায় নাকি ৫০ বছরের মধ্যে কোন দিন জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়নি।

শিক্ষক মাসুম আখতার রবীন্দ্র জয়ন্তী, বিবেকানন্দ ও নেতাজির জন্ম দিবস পালনের পাশাপাশি নারী দিবস পালনের ব্যবস্থা করেন। তিনি ইসলামী সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তাই বাল্যবিবাহ রোধ করার বিশেষ ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আর এই কারণেই মৌলবাদীদের রোষের মুখে পড়েন ।

আরো পড়ুন:  বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঋতুস্রাব নিয়ে কুসংস্কার দূর করছেন হুগলির "প্যাডম্যান" সুমন্ত বিশ্বাস

বর্তমানে মাসুম ভাই যাদবপুরের এক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাঁর উদ্যোগে বর্তমানে এই স্কুলের পঠন পাঠন সহ সামগ্রিক উন্নতি প্রশংসনীয়। ছাত্রছাত্রীদের মতে, মাসুম স্যারের মতো উদার মানুষেরা কোন সম্মানের জন্য দেশসেবা করেন না। তিনি যেন সারা জীবন এই ভাবেই সমাজের জন্য এগিয়ে যেতে পারেন। তাঁর আদর্শে আদর্শিত হয়ে ছাত্রসমাজ যেন এগিয়ে যেতে পারে। তিনি দীর্ঘজীবী হোন এই কামনা করি। তার মত মনের জোর, আদর্শ ,জেদ ও নিজস্বতা দেখে সত্যিই এখনকার যুবসমাজের অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত।

মাসুম স্যার আমাদের বাংলার গর্ব। আপনাকে স্যালুট জানাই।

Tripti Das Roy

Tripti Das Roy

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।