কলকাতার আইন দেবতা,মামলা-মোকদ্দমার সময় উকিল থেকে মক্কেল “হাইকোর্টেশ্বর শিব” এর সামনে মাথা ঠেকান অনেকেই

কলকাতার আইন দেবতা,মামলা-মোকদ্দমার সময় উকিল থেকে মক্কেল “হাইকোর্টেশ্বর শিব” এর সামনে মাথা ঠেকান অনেকেই

শাস্ত্রমতে হিন্দু দেবদেবীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ কোটি | বিভিন্ন মানুষের বিশ্বাস বিভিন্ন দেবদেবীর উপর | অনেক দেবদেবীর নামকরণও হয়েছে তাদের কাছে আবদারের ধরণ অনুযায়ী | আবার কিছু আধুনিক ঠাকুরের আবির্ভাব ঘটে চলেছে | যেমন অনেকেই জানেন বিধাননগর স্টেশন থেকে শিয়ালদার দিকে এগোলে কাঁকুড়গাছির কাছে দেখা পাওয়া যায় লাইনেশ্বর শিবের | ট্রেন দুর্ঘটনার থেকে রক্ষা করার জন্যই এই শিবঠাকুরের উৎপত্তি | রোজ পুজো হয় এই মন্দিরে | ভক্তও অনেক | সেইরকমই হিন্দমোটরে দেখা পাওয়া যায় ‘বেকারেশ্বর শিব’ – এর | দেশে বেকার সমস্যা প্রবল | আর বেকার যুবকদের মনস্কামনা পূরণ করার জন্যেই বেকারেশ্বর শিব মন্দির নির্মিত | স্থানীয়দের বিশ্বাস এখানে পুজো দিলে কেউ নাকি আর বেকার থাকে না | এছাড়াও কলকাতায় আছে গ্র্যাজুয়েটেশ্বর শিব | কলকাতায় গ্রাজুয়েটদের ইচ্ছাপূরণের জন্যেই এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে |

আরো পড়ুন:  গান শুনে মুগ্ধ কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হাতে দিলেন পাঁচ টাকার নোট,ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য পেলেন জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার

কলকাতা হাইকোর্ট | মামলা মোকাদ্দমার জন্যে উকিল আর বাদী-বিবাদী দু’পক্ষের ভিড় লেগেই থাকে | আর কলকাতা হাইকোর্টের কাছেই রয়েছে হাইকোর্টেশ্বর শিব | মামলা-মোকদ্দমার সময় উকিল থেকে মক্কেল এই দেবতার কাছে মাথা ঠেকিয়ে যান | অনেকে মানতও করেন | পুজোও হয় |

আরো পড়ুন:  ব্রিটিশ আমলে কুকুরকে ধমকানোর জন্যে মামলা হয়েছিল কলকাতায়,কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিল আসামিকে

এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনেও রয়েছে এক ইতিহাস | প্রায় একশো বছর আগে উড়িষ্যার থেকে আসা জগদীশ চন্দ্র গিরি নামক জনৈক ব্যক্তি হাইকোর্ট অঞ্চলের একটি গাছের তলায় একটি শিবলিঙ্গ খুঁজে পান | তখন থেকেই শুরু হয় পুজো | নাম রাখা হয় হাইকোর্টেশ্বর নাথ মহাদেব | তবে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় অনেক পরে,১৯৫৬ সালের কাছে | মন্দিরের গায়ে ফলকে হাইকোর্টেশ্বর মহাদেবের নাম বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি তিনটি ভাষাতেই লেখা আছে | সাহিত্যিক শংকরের লেখাতেও উঠে এসেছে হাইকোর্টেশ্বর শিবের কথা | তিনি লিখেছেন,“আইনপাড়ায় একজন ‘হাইকোর্টেশ্বর’ ছিলেন, কিন্তু তাঁর দাপট তেমন নয়। তিনি বাদী-বিবাদী দু’পক্ষের কাছ থেকেই আগাম পুজো নিতে আপত্তি করতেন না।”

আরো পড়ুন:  কালিতলায় জল জমেছে,গামবুট পড়ে ড্রেনে নামলেন কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার সুভাষচন্দ্র বসু

জয় বাবা হাইকোর্টেশ্বর |

তথ্য : জিয়ো বাংলা

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।