আজাদ হিন্দ বাহিনীর কোনও সেনা যদি নারী ঘটিত অপরাধে যুক্ত থাকে তাকে তৎক্ষণাৎ গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল

আজাদ হিন্দ বাহিনীর কোনও সেনা যদি নারী ঘটিত অপরাধে যুক্ত থাকে তাকে তৎক্ষণাৎ গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল

বানতলা থেকে কামদুনি ! দিল্লি থেকে হাতরাস….
নিছক এগুলো কোন জায়গার নাম নয়, এদের পরতে পরতে জড়িয়ে আছে ধর্ষণের ঘটনা, নৃশংসতার ঘটনা ।
প্রতিটি ঘটনায় কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আলাদা, কিন্তু তাদের চরিত্র…… একেবারে এক !
বিকৃত মানসিকতার ধর্ষক যারা এদেশের, তারাও চিনে গেছে শাসক কিংবা জনগণের চরিত্র ! সভ্য সমাজ দিনের-পর-দিন জ্ঞানে-অজ্ঞানে অসভ্যতা ও বর্বরতাকে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে । বিচারের বাণী কেঁদেই মরবে নিভৃতে….. নীরবে ।

সত্যি কথা বলতে গেলে দেশীয় ভাবনায় যদি শিক্ষাদানটা ঠিকঠাক প্রথম থেকে দেওয়া হত, তাহলে হয়ত এই ঘটনা অনেকটা কমতে পারত ।অতীতের শিক্ষা-সংস্কৃতি কোনদিনই গুরুত্ব দেয়নি এদেশের রাজনৈতিক – শিক্ষাবিদরা । আর আমাদের ভারতবর্ষ কোনোদিনও নেতাজীর আদর্শকে গুরুত্ব দেয়নি । চলুন একটু দেখে নেওয়া যাক সমাজে নারীদের গুরুত্ব নিয়ে নেতাজীর কি ভাবনা ছিল এবং কেন নেতাজীর স্বপ্নের আজাদ হিন্দ সরকারে একটিও নারীঘটিত অপরাধের ঘটনা ঘটেনি ।

আরো পড়ুন:  নিজে হাতে ব্যাঙ্ক গড়ে তুলেছিলেন নেতাজি,ব্যাঙ্ক থেকে ইস্যু করা হত কারেন্সি নোটও

 

পৃথিবীর প্রথম সশস্ত্র নারী বাহিনী গঠন করেছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজী স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরঙ্গনা ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাঈকে স্মরণ করে আজাদ হিন্দ বাহিনীর রেজিমেন্টের নাম দিয়েছিলেন রানী ঝাঁসি রেজিমেন্ট।দেশের স্বাধীনতার জন্যে যে নারীদেরও অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে তা বুঝেছিলেন নেতাজী ।ঝাঁসি রেজিমেন্টের সকল সদস্যরা শাড়ি ছেড়ে পড়লেন খাঁকি প্যান্ট ও জামা, হাতে তুলে নিলেন অস্ত্র । এমনকি নেতাজীর দেশ স্বাধীন করার আহ্বান শুনে নারীরা সাধ্যমত তুলে দিয়েছিলেন গয়না, অর্থ । ১৯৪৩ সালের জুলাই মাসে ঝাঁসি রেজিমেন্ট পথ চলা শুরু করে, এই রেজিমেন্টের নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মী সেহগল । ১৯৪৩ সালের ২৩ শে অক্টোবর প্রাথমিকভাবে এই মহিলাদের নিয়ে ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হয় সিঙ্গাপুরে । পরবর্তীতে রানী ঝাঁসি রেজিমেন্টের ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা হয় রেঙ্গুন এবং ব্যাঙ্ককে । কয়েক হাজার যুবতী পরাধীন দেশকে স্বাধীন করার ব্রত নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন এই রেজিমেন্টে । বাহিনীর বিভিন্ন পদ তৈরী হয়েছিল শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুসারে । দুর্গম জায়গায় পাহাড় ফাটানো,রুট মার্চ,অস্ত্র নিয়ে ট্রেনিং হত । বার্মার জঙ্গলে চলত অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ । ১৯৪৪ সালের ২৩ শে মার্চ বাহিনীর প্রায় ৫০০ জনের বেশী সিঙ্গাপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে রুট মার্চ করে। এর মধ্যে আবার ২০০ জন নার্সিং এর কাজে যুক্ত হয় । এই অংশের নামকরন হয় চাঁদ বিবি নার্সিং গ্রুপ।

আরো পড়ুন:  এই আশ্রমে বসে দেশকে স্বাধীন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন বিপ্লবীরা,সংরক্ষণের অভাবে ধুঁকছে বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চান্না আশ্রম

 

 

নেতাজীর স্বপ্নের আজাদ হিন্দ সরকারে একটিও নারীঘটিত অপরাধের ঘটনা ঘটেনি ?

 

 

তার মূল কারণ ছিল নেতাজীর নির্দেশ-নামা । ৪২ তম নির্দেশ নামাতে সেনা জওয়ানদের জন্য স্পষ্ট করে বলা হয়েছে মহিলাদেরকে মাতৃজ্ঞানে সম্মান করতে হবে। অন্যত্র জানা যায় কোনও আজাদী সেনা যদি কোনও নারী ঘটিত অপরাধে যুক্ত থাকতে দেখা যায় তৎক্ষণাৎ গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আরো পড়ুন:  নেতাজীর আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান, কলকাতায় এসে দেখাও করেছিলেন

 

 

নেতাজী আজও কত প্রাসঙ্গিক আজ ভীষণ ভাবে মনে হচ্ছে।

তথ্য : নেতাজী গবেষক জয়ন্ত চৌধুরীর থেকে প্রাপ্ত তথ্য

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।