সতীর কণ্ঠনালী পড়েছিল এই স্থানে,৫১ সতীপীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ নলাটেশ্বরী

সতীর কণ্ঠনালী পড়েছিল এই স্থানে,৫১ সতীপীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ নলাটেশ্বরী

সংস্কৃত ‘নলক’ শব্দের অর্থ ‘নলের মতো লম্বা অস্থি’ যার মানে নুলো বা কনুইয়ের নিম্নভাগ। আবার শিবচরিত মতে এটি উপপীঠ। গোটা ভারতের সার্বিক ঐক্য চিত্র এই পীঠে দেখা যায়। যেখানে একসাথে মা কালী, ভৈরব শিব আর ভগবান বিষ্ণুর একসাথে পূজা হচ্ছে।নলহাটি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় অবস্থিত একটি শহর। অনেকেই হয়তো এই মন্দিরটির নাম শুনে থাকবেন আবার অনেকেই হয়তো এই মন্দিরে গেছেন। একমাত্র মা নলাটেশ্বরীর জন্য অতি পরিচিত এই নলহাটি শহর। দেবী নলাটেশ্বরীর মন্দির হল ৫১ সতীপীঠের অন্যতম।

বীরভূম জেলার এই অঞ্চলে সতীর কণ্ঠনালী বা গলার নলি পড়েছিল বলে, সেই থেকে নলহাটির নামকরণ হয়েছে। বীরভূমের বিখ্যাত এই মন্দিরে কালীপুজোয় ভিড় জমান বহু ভক্ত। পাথরের ওপর বসানো ত্রিনয়নী মায়ের মুখ। মায়ের জিভটি সোনার।মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করলে মায়ের মূর্তি দিকে সকলের তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মসৃণ কষ্টিপাথরের তৈরি সত্যি কি অপরূপ এই মায়ের মূর্তি। সাধারণত মুণ্ডমালা পরিহিতা, চতুর্ভূজা শিবের বুকে পা রেখে দাঁড়ানো মায়ের মূর্তি দেখতে সকলে অভ্যস্ত। আর তাছাড়া এখানে মায়ের রূপ একেবারেই আলাদা। মা এখানে বস্ত্র পরিহিতা এবং দ্বি- ভূজা। এখানে তিনি বিনাশকারিনী নন। তাই হাতে কোন খড়গ নেই। হাতে শুধু বর ও অভয় মুদ্রা যুক্ত দুই হাতে মা জীবজগতকে লালন পালন করেছেন। বলা হয়ে থাকে, এখানে মায়ের গলার নলি পড়েছিল। কথিত আছে, মূর্তির নিচে পাথরের মধ্যে মা নলাটেশ্বরী জলের স্তর সব সময় একই রকম থাকে। যতই জল দেওয়া হোক, তা কম বা বেশি হয় না। ভক্তি আর নিষ্ঠার মিশেলে তৈরি হয় এই পবিত্র কালীমন্দির। সারাবছর কালী রূপে পুজো হলেও দুর্গাপুজোয় দুর্গা রূপে পূজিত হন দেবী। এই রকমই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য এই পুজোর নিয়ম রীতিতে।

আরো পড়ুন:  ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ লীলা নাগই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী

নলাটেশ্বরী মন্দির এর স্থাপত্য শিল্প বহু প্রাচীন।গর্ভগৃহে ঢোকার পথে গণেশ ঠাকুর বিরাজমান এবং তাকে ঘিরে রয়েছে আটটি সাপ। মন্দিরের উত্তর দিকে পঞ্চমুন্ডির আসন অবস্থিত। মূলত সেখানে ব্রাহ্মণী নদীর তীরে প্রায় ২৩০ বছরের পুরনো গুহ্য কালীর মন্দির আছে। ব্রাহ্মণ নদীর তীরে বিশাল মাঠের মাঝখানে এত পুরনো মন্দিরটির নির্মাণশৈলী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মূলত দুই শতকের প্রাচীন এই মন্দির যা এখনও মজবুত। মন্দিরের পুরোহিত এবং স্থানীয় মানুষজনদের জিজ্ঞাসা করে মন্দিরের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়, তা কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। স্বপ্নাদেশে কামদেব উদ্ধার করেন সতীর কণ্ঠনালী। ব্রাহ্মণী নদী তীরে ললাট পাহাড়ের নীচে সেই কণ্ঠনালীর ওপর বেদি করে প্রতিষ্টিত হন দেবী নলাটেশ্বরী। এক সময়ে এই জায়গাতে মানুষ আসতো না, পাহাড়ের ওপরে এমনকি আশেপাশে ঘন জঙ্গলে ঢাকা ছিল। দিনের বেলাতেও অন্ধকার হয়ে থাকতো এই স্থান। মায়ের পিঠে কেবল যেতেন নির্ভয় বীরাচারী তান্ত্রিকেরা। আর কাপালিকরাও আসতেন। তারা সেখানে গিয়ে তাদের তন্ত্র সাধনা করতেন। তবে বর্তমানে জঙ্গল, জংলি পশু একটাও নেই।

আরো পড়ুন:  বাংলার প্রাচীন নৃত্যশিল্পের উৎস সন্ধানে

মা নলাটেশ্বরীর নিত্য অন্নভোগ হয়। নিশি অমাবস্যায় মায়ের মন্দিরে হোম যজ্ঞ করা হয়। ভক্তি আর ইতিহাসের মাহাত্ম্য নিয়ে দাঁড়িয়ে একান্ন পীঠের এক পীঠ।

-রিয়া দাস(রাই)

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।