মহারাজা শশাঙ্কের শাসনকালেই বঙ্গাব্দের সূচনা হয়

মহারাজা শশাঙ্কের শাসনকালেই বঙ্গাব্দের সূচনা হয়

পয়লা বৈশাখ বা নববর্ষের মাধ্যমে আপামর বাঙালির জীবনে পুনরায় হতে চলেছে নতুন দিগন্তের সূচনা। ১৪২৬ সনকে বিদায় জানিয়ে বাঙালি বরণ করে নেবে ১৪২৭ সনকে। পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ(বাংলা ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন তথা বাংলা নববর্ষ। এই দিনটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং প্রতিবেশী বাংলাদেশে বিশাল জাঁকজমক করে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নেয়। এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন উৎসব।

জীর্ণ পুরাতন সবকিছু মুছে নতুনকে স্বাগত জানাবে বাঙালি জাতি। কিন্তু এই পয়লা বৈশাখের পেছনের কাহিনী জানেন কি? কবে থেকে শুরু হল এই উৎসব?

বাংলা দিনপঞ্জি উদ্ভব হয়েছিল রাজা শশাঙ্কের সময় থেকে। পরবর্তীতে মুঘল সম্রাট আকবর এটিকে রাজস্ব বা কর আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিবর্তিত করেন। ভারতের পূর্বাঞ্চল ও উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নববর্ষের উৎসবগুলো হিন্দু বিক্রমী দিনপঞ্জির সাথে সম্পর্কিত। এই দিনপঞ্জির নামকরণ করা হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৫৭ অব্দে বিক্রমাদিত্যের নাম অনুসারে।ভারতের গ্রামীণ বাঙ্গালি সম্প্রদায়ে ভারতের অনেক অঞ্চল ও নেপালের মত বিক্রমাদিত্যকে বাংলা দিনপঞ্জির আবির্ভাবের স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু সেই অঞ্চলগুলোর মত বাংলায় বঙ্গাব্দের সূচনা ৫৭ খ্রিস্টপূর্বে হয়নি, বরং ৫৯৩ খ্রিষ্টাব্দে শুরু হয়েছিল, যা নির্দেশ করছে বঙ্গাব্দের সূচনা প্রমাণ সময়কে কোন একসময় পরিবর্তিত করা হয়েছে।মনে করা হয় শশাঙ্কের শাসনামলেই এই পরিবর্তন হয়।

আরো পড়ুন:  কচুরি রাধাবল্লভীর ফারাক বুঝতে আপনাকে একবার আসতেই হবে বাগবাজারে

সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলার ১২টি মাস বহু শতাব্দী আগে থেকেই প্রচলিত ছিল। সৌর পঞ্জিকা শুরু হতো গ্রেগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ, কারণ প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত।

আরো পড়ুন:  ছো নাচের মুখোশ তৈরীর আঁতুরঘর পুরুলিয়ার "মুখোশগ্রাম" চড়িদা

ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সঙ্গে মিলত না। তাই চাষিদের অসময়ে খাজনা পরিশোধ করতে হত। ফলে সমস্যা দেখা দিত। তাই মুঘল সম্রাট আকবরের আদেশে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহ উল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সন তৈরি করেন। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে তা “বঙ্গাব্দ” বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়।

আরো পড়ুন:  বাংলা ভাষাকে ঘিরে পৃথিবীর ইতিহাসে দীর্ঘতম ভাষা আন্দোলন জন্ম দিয়েছিল পুরুলিয়া জেলার

পয়লা বৈশাখের সঙ্গেই নাকি শুরু হয় হালখাতা। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনগদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর, বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাবের বই বন্ধ করে নতুন হিসাবের বই খোলা হয়। বাংলা নববর্ষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে হালখাতা উদযাপন। হালখাতা বাঙালি ঐতিহ্য ও ইতিহাসের একটি অংশ।

যাই হোক, সব বিপদের নাশ ঘটিয়ে নতুন বছর এই বাংলার বুকে তথা সারা বিশ্বের বুকে নতুন আশার সঞ্চার ঘটাক, এই কামনা করি। শুভ নববর্ষ।

লেখা – শ্রেয়সী সেন

 

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।