ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদ আবুল বরকত ছিলেন এপার বাংলার মানুষ

ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদ আবুল বরকত ছিলেন এপার বাংলার মানুষ

‘মোদের গরব মোদের ভাষা,
আ মরি বাংলা ভাষা……’

আজকাল আমাদের, অনেক বাঙালিদেরই ঠিক বাংলাটা আসে না। যদিও ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঘটা করে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস পালন করি। কিন্তু জনসমক্ষে আবার বাংলা বলতে অনেকেই লজ্জা পাই। অথচ কত কষ্ট করে, কত শহীদের রক্তের বিনিময়েই হয়তো আমরা নিজেদের ভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। ভাষা আন্দোলনের এমন একজন ভাষা শহীদ হলেন আবুল বরকত।

১৯২৭ সালের ১৬ জুন পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার বাবলা গ্রামে ভাষা শহীদ আবুল বরকতের জন্ম। ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন তালেবপুর হাইস্কুল থেকে। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পড়েন বহরমপুরের কৃষ্ণনাথ কলেজে।

আরো পড়ুন:  চায়ে চুমুক দিয়ে মুগ্ধ নেতাজি বললেন,তোকে আশীর্বাদ দিলাম ভুলু একদিন তোর বোস কেবিনের সুনাম ছড়াবে

কিন্তু ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় চলে আসেন। ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে। আজও এই ডিপার্টমেন্টে আবুল বরকতের নামটি খুব পরিচিত। ১৯৫১ সালে এখান থেকেই অনার্স পরীক্ষায় পাস করেন। সেই সময় তিনি থাকতেন ঢাকার পুরানা পল্টন লাইন এলাকার ‘বিষ্ণুপ্রিয়া ভবন’এ মামার সঙ্গে।

আর পাঁচজন ছাত্রের মত নিজেকে নিয়ে, কেরিয়ার নিয়ে, দেশকে নিয়ে হয়তো অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন আবুল বরকত। কিন্তু তার আগেই শেষ হয়ে যায় সবকিছু। শোনা যায়, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা আন্দোলনের দিন তিনিও ছিলেন সেখানে। সেদিন বিকেলের দিকে পুলিশ যখন লাঠিচার্জ আর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ শুরু করল, তখন অনেকেই সেই আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের প্রাঙ্গণে আশ্রয় নিয়েছিল। বরকত মেডিক্যাল কলেজের ১২ নম্বর শেডের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। বেলা তিনটার দিকে পুলিশের ছোড়া বুলেটের আঘাতে তিনি লুটিয়ে পড়েন। কয়েকজন ছাত্র তাঁকে মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু বরকতকে বাঁচানো যায়নি। রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে বরকত মারা যান।

আরো পড়ুন:  শিকাগো ধর্ম মহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের ভাষণ

সেদিন পুলিশের গুলিবর্ষণে আব্দুল জব্বার এবং রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন।এছাড়া আব্দুস সালামসহ আরও অনেকেই নিহত হন। ঐদিন অহিউল্লাহ নামের একজন ৮/৯ বছরেরে কিশোরও নিহত হয়।

২১ফেব্রুয়ারিই রাত ১০টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদ বরকতকে সমাধিস্থ করা হয়। এই ভাষা আন্দোলন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলেও এর বীজ কিন্তু অনেক আগেই রোপণ করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন:  ভাষা আন্দোলনে বিশ্বের প্রথম মহিলা শহীদ কমলা ভট্টাচার্য,বাঙালি মনে রাখেনি
Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।