মেয়র থাকাকালীন নেতাজির দুটি আগ্নেয়াস্ত্রকে নতুন করে লাইসেন্স দিতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা

মেয়র থাকাকালীন নেতাজির দুটি আগ্নেয়াস্ত্রকে নতুন করে লাইসেন্স দিতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা

দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভার করিডরে ডাঁই হয়ে পড়েছিল বস্তাভর্তি পুরোনো কাগজ | সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেইসব কাগজপত্র বিক্রি করে দেওয়ার | কিন্তু ফেলে দেওয়া পুরোনো কাগজ থেকেই উদ্ধার হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বহু দুষ্প্রাপ্য নথি | কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে শুরু হয়েছে ডিজিটাইজেশনের কাজ | এখানেই শেষ নয় | কলকাতা পৌরসভার মেয়র থাকাকালীন মেয়রের জন্য একটি কোল্ট রিভলবার, একটি দোনলা বন্দুক ও একটি তরবারির লাইসেন্স দেওয়া হয় | দীর্ঘদিন ধরে এই বস্তুগুলোর কোনো সন্ধান পাওয়া যেতনা। ২০১২ সালে পৌরসভার সংস্কার করতে গিয়ে এই অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয় | সরকারি নথির সাথে মিলিয়ে দেখা গেছে অস্ত্রগুলো নেতাজিরই | নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর স্বত্বাধিকার প্রাপ্ত একটি কোল্ট রিভলবার ও একটি দোনলা বন্দুকের লাইসেন্স দিতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা | এই অস্ত্রগুলোকে জনসাধারণের জন্য নির্দিষ্ট প্রদর্শনশালায় স্থান দেওয়া হবে। সকলে এবার থেকে স্বচক্ষে অস্ত্রগুলো দেখার সুযোগ পাবে |

আরো পড়ুন:  কলকাতা হাইকোর্টের সামনে ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির স্রষ্টা তিনি,আমরা কি মনে রেখেছি তাপস দত্তকে?

কলকাতা পৌরসভার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িয়ে ছিলেন নেতাজি | ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌর নির্বাচনে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মেয়র হন এবং সুভাষচন্দ্র বসু মাত্র ২৭ বছর বয়সে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার অর্থাৎ পৌর শাসনের সর্বপ্রধান নিযুক্ত হন। এছাড়াও সুরাবর্দী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন । সেই সময় নতুন নিয়ম অনুসারে যিনি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হবেন, তিনি হবেন পরিচালন ব্যবস্থা সর্বপ্রধান এবং যিনি মেয়র তিনি হলেন সমগ্রভাবে কর্পোরেশনের প্রধান । কলকাতা কর্পোরেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হওয়ার পরেই সুভাষচন্দ্র বসু ঘোষণা করলেন দেশবন্ধুর নির্দেশিত পথে কর্পোরেশনকে চালিত করবেন ! সেই সময় পৌরসভার কর্মচারীদের সরকারি পোশাক ছিল খদ্দর । সুভাষচন্দ্র বসু প্রতিদিন সকাল সাতটায় কর্মচারীদের নিয়ে কর্পোরেশনের বিভিন্ন কারখানা ও কর্মকেন্দ্র পরিদর্শন করতেন । সেখানে কর্মচারীদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে কিনা হাতে কলমে বুঝে নিতেন এবং সমাধান করতেন ।

আরো পড়ুন:  খাদ্য-সংস্কৃতির মেলবন্ধনে পুরোনো কলকাতার গন্ধ গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে পাইস হোটেলগুলো

আসুন দেখে নেওয়া যাক দেশবন্ধু ও নেতাজি – গুরু শিষ্য যুগলবন্দীতে কলকাতায় উল্লেখযোগ্য নতুন নতুন কি কি করেছিলেন –

১) ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানদের নামে নতুন রাস্তা ও পার্ক তৈরি করা হল।
২) কলকাতায় ছেলে মেয়েদের জন্য অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হল।
৩) শহরের প্রতিটি স্থানে স্থানে স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিকদের নিয়ে এক স্বাস্থ্য সমিতি স্থাপন করা হল যার মূল লক্ষ্য ছিল গরীব মানুষ যাতে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেতে পারে।
৪) এই সময় থেকেই জামা কাপড় কেনার ব্যাপারে স্বদেশী দ্রব্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু হল।
৫) প্রতিটি স্থানে শিশু কল্যাণের জন্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান করা হল।
৬) প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত ছিল বিনামূল্যে শিশু দুগ্ধ সরবরাহ কেন্দ্র।
৭) শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্পর্কে বেশকিছু উন্নততর পরিকল্পনা করা হয়েছিল এ কথা সত্য কিন্তু সরকারের নানা বিরোধিতার ফলে তা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি অবশেষে ১০ বৎসর পরে তা আস্তে আস্তে চালু করা হয়েছিল।
৮) বড়লাট গভর্নর ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারী কে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র সর্বভারতীয় নেতা কলকাতায় এলে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হত।
৯) নতুন কাউকে নিয়োগ করতে হলে সংখ্যালঘুদের দাবি প্রথম সারিতে রাখতে হবে এই রকম একটি নিয়ম চালু করা হয়েছিল।

আরো পড়ুন:  শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ে নেতাজির ঘোড়ায় চড়া মূর্তি এবং এক অজানা ইতিহাস

১৯২৯ সালে সুভাষচন্দ্র বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেস সম্মেলনের সভাপতি হন।তিনি ওই একই বছর নিখিল ভারত ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি ও পরের বছর ১৯৩০ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র হন।সুভাষচন্দ্র বসু এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস তৎকালীন কলকাতার যে উন্নতি করেছিলেন তা এককথায় অসামান্য ।

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।