১৮৫০ টাকার চাকরি থেকে Country’s Youngest Film Producer,অরিত্র দাস অনুপ্রেরণার আরেক নাম

১৮৫০ টাকার চাকরি থেকে Country’s Youngest Film Producer,অরিত্র দাস অনুপ্রেরণার আরেক নাম

সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্মে এবং বড় হয়ে গ্ল্যামারের রোশনাই ভরা তারকাখচিত জগতে পৌঁছোনো যায় না। কিন্তু এই মিথ ভেঙে দিয়ে লড়াই করে নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়েছেন বাংলার ঘরের ছেলে অরিত্র দাস। প্রায় শূণ্য পুঁজি থেকেই অরিত্র তাঁর আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে শুরু করেন তাঁদের প্রোডাকশন হাউস Assorted Motion Pictures | কি ভাবে ?

অরিত্র দে’র জন্ম ও বেড়ে ওঠা কলকাতাতেই | সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার | জীবন কাটছিল আর পাঁচজন গড়পড়তা ছেলের মতই | ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে মাত্র ১৮৫০ টাকা মাইনের চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতায় | এর কিছুদিন পর চাকরিসূত্রে যান মুম্বাইতে | কিন্তু অরিত্র চাইতেন নতুন কিছু করতে | কিন্তু অফিসের জন্যে এতটা সময় চলে যাচ্ছিল যে নতুন কিছু করতে পারছিলেন না | শেষমেশ অফিসের শিফটের সময় বদলে নিলেন অরিত্র | রাত ১১ টা থেকে সকাল ৮ টার শিফটে কাজ করতে লাগলেন অরিত্র | আর সন্ধ্যের সময়টা অরিত্র আর তার আরেক বন্ধু দুজনে মাইল ডিজিটাল প্রোমোশনের কাজ করতে লাগলেন | কিন্তু কাজটা অতটা সহজ না | সেইসময় একটা ছোট এক কামরার ঘরে অরিত্র আর তার এক বন্ধু থাকতেন | জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য খুব একটা ছিল না |

আরো পড়ুন:  সারাদিন অভিনয় করার পর সারা রাত ধরে রাস্তায় রাস্তায় গণনাট্য আন্দোলনের পোস্টার মারতেন "সর্বজয়া"

এইসময় অরিত্রর জীবনে ঘটে যায় দুটো ঘটনা | বলা যায় টার্নিং পয়েন্ট | একবার অরিত্রর বাবা মা ভাই মুম্বাইতে তার কাছে বেড়াতে আসে | তারা ওই ছোট ঘরেই থেকেছিলেন | আর মুম্বাই থেকে কলকাতা বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় অরিত্র নিজের বাবা মা’র জন্যে ট্রেনের এসি টিকিট কিংবা ফ্লাইটের টিকিট বুক করে দিতে পারেননি,কেটে দিয়েছিলেন স্লিপার টিকিট | অরিত্র’র মনে দাগ কেটেছিল এই ঘটনাটা | যেদিন তার বাবা মা মুম্বাই থেকে ফিরে যান সেদিন অরিত্র বাবা মা কে মেসেজ করে বলে, তোমাদের এইবার ভালভাবে রাখতে পারিনি,ফ্লাইটের টিকিটও কেটে দিতে পারেনি…কিন্তু একদিন তোমাদের জন্যে আমি অনেককিছু করব | এই ঘটনার কিছুদিন পরে অরিত্রর দাদু মারা যান | কিন্তু অরিত্র নিজের অফিস থেকে ছুটি পায় না তাই নিজের দাদুর শেষকৃত্যে অরিত্র যেতে পারেনি | সেদিন অরিত্র ঠিক করে সে আর চাকরি করতে যাবে না | অরিত্র আর চাকরি করতে যায় না |

আরো পড়ুন:  আদর্শ মানতেন বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তকে,অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়

শুরু হয় মুম্বাইতে দাঁড়িয়ে আরও কঠিন লড়াই | রামকমল মুখার্জী ও শর্বানী মুখার্জী কে নিয়ে অরিত্র গড়ে তোলেন প্রোডাকশন হাউস Assorted Motion Pictures | শুরুতে বাজেটের অসুবিধা ছিল | বিভিন্ন লোকের কাছে যেতেন তারা | বেশিরভাগ লোকই কাজ দিতেন না | এভাবে যেতে যেতে একদিন পার্টনারশিপ-এ Assorted Motion Pictures একটা কাজ পায় | রাতদিন পরিশ্রম করতে লাগলেন অরিত্র,রামকমল মুখার্জী ও শর্বানী মুখার্জী | কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের পার্টনার মুখ ফিরিয়ে নেয় | থমকে যায় প্রজেক্ট | আর শুন্য থেকে শুরু করে অরিত্র,রামকমল মুখার্জী ও শর্বানী মুখার্জী | এষা দেওলকে নিয়ে তৈরী করেন ” Cakewalk ” | এই শর্ট ফিল্মটি সাফল্য পায় | OTT প্লাটফর্মে মুক্তি পায় ” Cakewalk ” | সাফল্যের স্বাদ পায় Assorted Motion Pictures | আস্তে আস্তে জীবনের চাকা ঘুরতে শুরু করে অরিত্রর। বলিউডে একের পর এক সিনেমায় প্রযোজকের কাজ করতে থাকেন তিনি। পরিচিত হন Country’s Youngest Film Producer নামে।কিছুদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে তাদের বাংলা শর্ট ফিল্ম শুভ বিজয়া,রিক্সাওয়ালা | সব বাধা পেরিয়ে অরিত্র সত্যি করলেন নিজের জীবনের স্বপ্ন | বহু প্রজেক্ট শেষ মূহুর্তে বাতিল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে, মানুষের ভরসা ও বিশ্বাস পাওয়ার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফল হয়েছে Assorted Motion Pictures | আরও এগিয়ে চলুক অরিত্র |

আরো পড়ুন:  মুক্তমঞ্চে নাটক চলাকালীন পায়ে বিঁধল পেরেক,তবুও অভিনয় থামালেন না বিজন ভট্টাচার্য

তথ্য : জোশ টক্স

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।