২০২০ সালের দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান সম্মান পেলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তনী

২০২০ সালের দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান সম্মান পেলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রাক্তনী

শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার | দেশের সর্বোচ্চ বিজ্ঞান সম্মান | ‘শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার’-এর মঞ্চে ফের অব্যাহত থাকল বাঙালির জয়পতাকা | কিছুদিন আগেই দিল্লিতে কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর)-এর ৭৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সেখানেই কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান মন্ত্রক এই বছরের শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার জয়ীদের নাম ঘোষণা করে | বিজ্ঞানের সাতটি শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবছর দেশের ১৪ জন কৃতীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।মোট ১৪ জন পুরস্কারজয়ীর মধ্যে ৬ জনই বাঙালি | অধ্যাপক রজতশুভ্র হাজরা (গণিত), অধ্যাপক অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় (ভূবিজ্ঞান), অধ্যাপক সূর্যেন্দু দত্ত (ভূবিজ্ঞান), অধ্যাপক সুরজিৎ ধাড়া (পদার্থবিজ্ঞান), বিজ্ঞানী কিংশুক দাশগুপ্ত (ইঞ্জিনিয়ারিং), অধ্যাপক শুভদীপ চট্টোপাধ্যায় (জীববিজ্ঞান) এই ছয় বাঙালি এই বছর এই সম্মান পেয়েছেন । এর পাশাপাশি আরও একজনের (অধ্যাপিকা জ্যোতির্ময়ী দাস) কর্মস্থল কলকাতা এবং তিনিও বিবাহসূত্রে বাঙালি পরিবারের |

আরো পড়ুন:  সংসদীয় রাজনৈতিক দলের ছাতার তলায় না থেকেও ট্রেড ইউনিয়ন করা যায়,প্রথমবার দেখিয়েছিলেন শঙ্কর গুহনিয়োগী

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার ভারতের বিজ্ঞানে সর্বাধিক সম্মানজনক পুরস্কার | জীববিজ্ঞান, কেমিস্ট্রি, এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাথামেটিক্স, মেডিসিন এবং ফিজিক্স – বিজ্ঞানের এই সাতটি ক্ষেত্র ভাটনগর পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয়।৪৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যে কোনও ক্ষেত্রে গবেষণায় নিযুক্ত ভারতের যে কোনও নাগরিক পুরস্কারের জন্য যোগ্য।

এদের মধ্যে অধ্যাপক সূর্যেন্দু দত্ত ও অধ্যাপক কিংশুক দাশগুপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ।

আরো পড়ুন:  নাসায় বাঙালি বিজ্ঞানীর জয়,"মঙ্গল মিশন"র সদস্য হলেন কলকাতার চিরঞ্জিত মুখার্জী

ভূবিজ্ঞানে ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি বোম্বে)-র অধ্যাপক সূর্যেন্দু দত্ত এইবছর শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পেয়েছেন | সূর্যেন্দু দত্ত ১৯৯৯ সালে ভূবিজ্ঞানে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BSc এবং ২০০১ সালে MSc করেন । তিনি কাজ করেছেন খনিজ তেল,পাথরে হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি নিয়ে | এর পাশাপাশি সমুদ্র, পরিবেশ নিয়েও বিস্তারিত গবেষণা করেছেন তিনি ।

 

অধ্যাপক সূর্যেন্দু দত্ত

মুম্বইয়ের ‘ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার (বার্ক)’-এর অধ্যাপক কিংশুক দাশগুপ্ত এই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার পেয়েছেন | তিনি গবেষণা করেছেন ন্যানোসাইন্স, ন্যানোমেটেরিয়াল নিয়ে | কিংশুক দাশগুপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটালার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৯৯৯ সালের স্নাতক । বেশ কিছু বছর আগে কার্বন ন্যানোটিউব, পলিমার, সিরামিক দিয়ে ‘Bhabha Kavach’ নামে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বানিয়ে শিরোনামে আসেন কিংশুক দাশগুপ্ত । এই জ্যাকেটটির ওজন মাত্র ৬.৮ কেজি ।কিংশুক দাশগুপ্তর জানান বর্তমানে সেনাবাহিনীতে যে জ্যাকেট ব্যবহার করা হয় তার ওজন ১০ কেজির কাছাকাছি ।

আরো পড়ুন:  একসময় লোকের বাড়ি বাসন মাজতেন,তিনিই পরবর্তীতে পাঁচবার নোবেলের জন্যে মনোনয়ন পেলেন
অধ্যাপক কিংশুক দাশগুপ্ত

শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কারের নগদ অর্থ ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।এছাড়াও পুরস্কার প্রাপকরা ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি মাসে ১৫,০০০ টাকা পেয়ে থাকেন। অধ্যাপক সূর্যেন্দু দত্ত ও অধ্যাপক কিংশুক দাশগুপ্তর এই সাফল্যে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ।

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।