নারী দিবসে নারীর প্রতি সৌহার্দ্যতা

নারী দিবসে নারীর প্রতি সৌহার্দ্যতা

সংস্কৃত নৃ শব্দটি থেকে নারী শব্দটির উৎপত্তি (নৃ+ঈ=নারী)। সংস্কৃতে নর শব্দের অর্থ হলো পুরুষ নারী হলো পুরুষের পরিবর্তিত লিঙ্গ।
সৃষ্টির অন্তর্নিহিত অর্থই নারী। আদিশক্তি নাম নারী। অর্থাৎ সৃষ্টির মূলেই নারী। জীবনের শুরু এই নারী দিয়ে। সভ্যতার আদি যুগ থেকে আমরা নারীকে দেখেছি শক্তি রূপে পূজিত হতে কারণ নারী যে মহামায়া , নারী যে গর্ভধারিনী মা এবং সমস্ত মায়া-মমতা আচ্ছাদনের নিরিখেই এই নারী।

সমাজের এবং পুরুষের চোখে নারী-

একই ভূমিতে একদিকে নারী মা শক্তি রূপে পূজিত অন্যদিকে নরপিশাচ দ্বারা ধর্ষিত । বাহ কি সুন্দর! কি প্রশংসনীয়? এবং চর্চিত ? নারী শুধু ভোগের বস্তু নয়, নারী শুধুই বংশবিস্তারের যন্ত্র নয়‌, নারী-শরীর শুধুই উৎপাদনভিত্তিক নয়, প্রজনন ভিত্তিক নয়, আত্মবিহীন জীবন্ত পুতুল নয়, যাকে দিয়ে ইচ্ছেমতো মনের আশা পূরণ করা যায়, এবং শারীরিক সাধ মেটানো যায়। এটা কোন ব্যবহারিক পণ্য নয়।

নারী শুধুই জন্ম হওয়ার পর থেকে বাবা-মায়ের আদর আচ্ছাদনে পালিত, বিয়ের পর স্বামীর ঘরে শ্বশুরবাড়ি দ্বারা পরিচালিত এবং মা হওয়ার পর সন্তান দ্বারা পরিচালিত। নিজের বলে কিছুই নেই , সব কিছুই অন্যের দেওয়া। নাম, পদবী, সন্তান সবটা। সবটাই অন্যের। সন্তানের জন্ম নিজের গর্ভে কিন্তু সন্তানের পরিচয় স্বামীর নামে, নিজের বলে তাই আর কিছুই রইল না। এমনকি জন্মটাও সমাজ বলে বাবার ঘরে মৃত্যু সমাজ বলে স্বামীর ঘরে। তাই নিজের বলে কিছুই নেই। রইল শুধু শরীর আর মন কখনো কখনো এর মধ্যেও অন্যেরা ভাগ বসিয়ে নিজস্বতা দাবি করে।

এই সমাজে নারীর কোন অধিকার কোন স্বাধীনতা কোন ভালোলাগা থাকতে পারে না। তারা পুরুষের হাতে গড়া পুতুল। পুরুষ প্রেমিক বা স্বামীর নির্দেশে চলতে হয় তাকে। পুরুষ যেভাবে চাইবে ঠিক সেই ভাবে করতে হয় নিজেকে সাজসজ্জা থেকে আচার-ব্যবহার দোষগুণ সবকিছুই।

পুরুষকে পূজা করো, তাদের সেবা করো, যত্ন করো, তাদের শান্তিতে থাকতে দাও কারণ তারা নারীদের তুলনায় বেশি বোঝে, জগৎটাকে বেশি জানে, বেশি অর্থ উপার্জন করে , এ ধারনার শুধু পুরুষদের নয় আমরা নারীরাও নিয়ে বেঁচে আছি অর্থাৎ নারী কে ভোগের বস্তু ,যৌনবস্তু ,কৌতুকের বস্তু হিসেবে বেঁচে থাকতে শুধু পুরুষদের স্বার্থপরতায় কাজ করে না নারীদের বোকামির কাজ করে। তাই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নারী প্রসঙ্গে নারীকে জলের ন্যায় তুলনা করেন। জল অতি মূল্যবান কিন্তু জল এতটাই উপলব্ধ যে আমরা জলের মূল্য জল না থাকলে বুঝি। তেমনি সংসারে নারীও এর বিরূপ নয়, সংসারে নারী না থাকলে বোঝা যায় সংসার জীবনে নারীর গুরুত্ব ঠিক কতটা?

পুরুষেরা স্ত্রীকে পরম বন্ধু এবং প্রেমিকা ভাবতে দ্বিধাবোধ করে। তারা স্ত্রীকে কিছু স্বাধীনতা দিয়ে মনে করে যে তারা জগতের সকল সুখ বোধহয় দিয়ে ফেলেছে। কিন্তু স্বাধীনতা যে কোন মানুষের জন্মগত অধিকার সেটা তারা ভুলে যায়। এবং আধুনিক যুগে বিশেষ করে বাঙালি সমাজে পুরুষেরা শিক্ষিত হয়েও, শিল্পী হয়েও , সাহিত্যিক হয়েও, বুদ্ধিজীবী হয়েও পুরুষতন্ত্রের আরাম ভোগ করে।

আরো পড়ুন:  আন্টার্কটিকায় পাড়ি দেওয়া প্রথম ভারতীয় নারী বঙ্গকন্যা সুদীপ্তা সেনগুপ্ত

এমনিতেই পুরুষদের বিভিন্ন ফুলের মধু খাওয়ার প্রবণতা বরাবরের। আর এই পরকীয়া বা দ্বিচারিতার প্রকাশ হয় মেয়েদের হিংসেমির মাধ্যমে। তাও আবার অনর্থক আরেক মেয়ের বিরুদ্ধে। পুরুষেরা এক শিকার থেকে আরেক শিকারের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে লাগে। শিকারী পুরুষ বসে বসে গোটা ঘটনা উপভোগ করে। জনগণ হাসাহাসি করে মেয়েদের নিয়ে। সমাজ ছি ছি করে আর মেয়েদের কথা শোনায় একটা মাত্র পুরুষ মানুষকে ধরে রাখতে পারলে না। পুরুষটি মাটির পুতুল নাকি যে নিজের সমস্ত ক্ষমতা দিয়ে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা যায়। অন্যদিকে লেখকরা গল্প উপন্যাস লিখে ফেলে, সিনেমা তৈরি হয়ে যায় মেয়েদের অতি নির্বুদ্ধিতা এবং কূটনৈতিক মনোভাব নিয়ে। অথচ কূটনীতির মূল উদঘাটন খুঁজে বার করার চেষ্টা কেউ করে না। ফলে মেয়েরা হয়ে ওঠে কৌতুকের বস্তু। একে যৌনবস্তু তার ওপর কৌতুকের বস্তু কালে কালে মেয়েদের স্থান নিচে নামতে নামতে তলায় ঠেকে গিয়েছে। তাই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নারী প্রসঙ্গে নারীকে জলের ন্যায় তুলনা করেন। জল অতি মূল্যবান কিন্তু জল এতটাই উপলব্ধ যে আমরা জলের মূল্য জল না থাকলে বুঝি। তেমনি সংসারে নারীও এর বিরূপ নয়, সংসারে নারী না থাকলে বোঝা যায় সংসার জীবনে নারীর গুরুত্ব ঠিক কতটা?

শ্বশুরবাড়ির চোখে নারী-

এরপরও গর্ভাবস্থায় কন্যাভ্রুন হত্যা করে। বাড়ির বউদের অকথ্য নির্যাতন করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মেয়ে সন্তান হলে নাকি বাড়ির বড়রা বলে থাকেন যে লবণ গালে দিয়ে মেরে ফেলবে। বাড়ির অমঙ্গল থেকে বন্ধ্যাত্বতা এই সব কিছুর জন্য জন্য কেবল নারীরাই দায়ী। বন্ধ্যাত্ব তা যে এক ধরনের রোগ সেটা কেবল নারী নয় পুরুষেরও হতে পারে প্রগতিশীল সমাজে একথা জানলেও মাঝে মাঝে ভুলে যায়।

এইরকম মনোভাবাকারী মানুষদের শুধু ধিক্কার জানাই। ছিঃ শব্দটি তাদের জন্য যথোপযুক্ত। আরে মূর্খ এভাবে যদি নারীকে ক্ষতবিক্ষত করে দিস? নিশ্চিহ্ন করে দিস তো জীবন চলবে কি করে? জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারী ছাড়া গতি নেই, বাড়ির কাছ থেকে শুরু করে, স্ত্রীর ভালোবাসা, মেয়ের ভালোবাসা, এই সবকিছুই নারীকে কেন্দ্র করে।আসলে মানুষ দিনে দিনে নৃশংস হয়েছে বুদ্ধিমান হয়নি। একমাত্র মেয়েরাই শত জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করেও অন্যের সংসার কে নিজের বলে ভাবে। গোত্র থেকে গোত্রান্তর হয়ে সমস্ত নিজস্ব সম্পর্ক বিসর্জন দিয়ে অন্য সম্পর্ক গুলো নিজের সাথে বাঁধনে বাঁধে যাদের সাথে কোনদিন সম্পর্ক ছিলনা। ভাবতেও অবাক লাগে এ কেমন জীবন নারীর? এরপরও শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কখনো কখনো শুনতে হয় তোমার বাবা-মা কি শিক্ষা দিয়েছে ?

নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সামান্য সচেতন হলে মেয়েরা নিশ্চয়ই বুঝে জগতে যত নির্যাতন আছে মেয়েদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় নির্যাতন হলো মেয়েদেরকে সুন্দরী হওয়ার জন্য লেলিয়ে দেওয়া। আমি একজন নারী হিসেবে সুশীলা এবং সুন্দরীও। কিন্তু মন থেকে কতটা সুন্দরী সেটা কিন্তু কেউ কখনই বুকের বাঁ দিকে দুই ইঞ্চি গভীরে গিয়ে অবচেতন মনে বিচার করে দেখেনি। সকল শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে সমালোচনা করেছে। সেটা নিয়ে বিচার বিবেচনা করেছে। মনকে বোঝাবার চেষ্টা কেউ কখনো করেনি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখতে পছন্দ করি। এক্ষেত্রে আমায় নিজেকে এ প্রসঙ্গে অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। কিন্তু আমি জনে জনে বোঝাতে পারিনি যে আমি কাউকে দেখানোর জন্য বা বিশেষ কাউকে আকর্ষণ করার জন্য সাজি না। ব্যক্তিগত ভাবে সাজতে ভালোবাসি তাই সাজি।

আরো পড়ুন:  একদিকে ইন্দিরার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ ও কারাবাস অন্যদিকে নারীজীবনের আধুনিকতার অগ্রদূত,বর্ণময় জীবন ছিল "রাজমাতা" গায়ত্রী দেবীর

ধর্ষণ-

সভ্যতার আদিম যুগ থেকে মানুষ বাঁচার তাগিদে একে অপরের সাথে লড়াই করে এসেছে। খিদের টানে , জীবিকার টানে, নিজেদেরকে প্রতিরক্ষা করার টানে লড়াই করে এসেছে। সেদিন আদিম যুগে থেকে মানুষের মধ্যে রূপান্তর না ঘটলেও, সেদিন মানুষ শিক্ষিত না হলেও ধর্ষণের মত বর্বর আচরণ থেকে নিজেকে বিরত রাখত। আজ শিক্ষিত সমাজে বসবাস করেও আমরা এই ধরনের নিম্নতম কাজ করতে দ্বিধাবোধ করিনা। সেদিন মানুষের পরনের কাপড় না থাকলেও গাছের ছাল পরে লজ্জা-নিবারণ করত। কিন্তু আজ সভ্য সমাজে বসবাস করে পরনের মতন কাপড়ের অভাব না থাকলেও মেয়েদের সকলের সামনেই পরনের কাপড় টেনে খুলে দিতে পিছপা হই না কিন্তু আমরা? কি নিষ্ঠুর আমরা? কতটা বিবেকহীন কতটা পৈশাচিক?

প্রগতি ও রাজনৈতিক তকমা-

আজ একবিংশ শতাব্দীতে পদার্পন করেছি আমরা। কিন্তু আদিম যুগের চালচুলো আজও কাটিয়ে উঠতে পারিনি। হয়ত বর্তমানে আমরা আদিম যুগে থেকেও নিম্ন-জঘন্য,খারাপ মানসিকতার রুপান্তর হয়েছি।কোন দেশে বাস করছি আমরা? যে দেশে ধর্ষণের শাস্তি অপেক্ষার ধর্ষণকারীর ক্ষতিপূরণ কে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় তাও আবার টাকার বিনিময়। যারা এই সকল পদক্ষেপ নিচ্ছেন তাদের কাছে আমার ব্যক্তিগতভাবে বিনীত প্রশ্ন যে টাকা দিয়ে কি কোন নারীর সম্মান কেনা যায়? যদি তাদের বাড়ির মেয়েদের সাথে এরূপ আচরণ হয়ে থাকে তাহলেও কি তারা একই ভাবে পদক্ষেপ নেবেন? নিজের ঘরের মেয়েদের সাথে যদি তা না হয় তো অন্যের বাড়ির মেয়েদের সাথে এরূপ বিরূপ আচরণ কেন? এটা কি কি প্রগতি বলে? যে দেশে টাকার বিনিময়ে নারীর সম্মান কেনার কথা বলা হয়? এই পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপেক্ষা ধর্ষকদের অপরাধ করাতে ইন্ধন যোগায় নাকি ? ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় যে এরা ধর্ষণকারী অপেক্ষা বড় ক্রিমিনাল যেখানে ধর্ষণের মতো আচরণ কে পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়ে শুধুই ধর্ষণকারী ক্ষতিপূরণ কে বেশি প্রাধান্য দেয়। বলি নারী সম্মান কি বাজারের আলু বেগুনের ন্যায় যে অর্থের বিনিময়ে সচরাচর পাওয়া যায়?

লজ্জা থাকা দরকার এইরকম চিন্তাভাবনা প্রকাশের জন্য। মানুষের মধ্যে মানসিকতার বিভিন্ন রকম ফারাক থাকতে পারে কিন্তু এইরকম নরকের কীট গুলোকে মানুষ বলতে বিবেকে বাধে। আসলে দেখতে এরা মানুষ মানুষ হলেও এরা আসলে মানুষ নয়। এরা নরকের কীট অপেক্ষা নিম্নস্তরে। প্রগতি তখনি আসে যেখানে সমাজে নিরাপত্তা থাকে। যে রাজ্যে সদ্যজাত কন্যাসন্তান থেকে মৃত্যুর পথযাত্রী ঠাম্মা দিদিমারাও সুরক্ষিত নয় সে রাজ্যে প্রগতি কথাটি নিছকই স্বপ্ন। যে রাজ্যে অসহায় মেয়েদেরকে কুকুর শিয়ালের ন্যায় ছিলে খায়, সেখানে প্রগতি শব্দটি হাস্যকর। আগে মানুষ বাঁচবে, পেট ভরে দুবেলা-দুমুঠো খাবার খাবে, সম্মান নিয়ে থাকবে তারপরে প্রগতির দিকে হাঁটবে। এই রাজ্যে এমনই প্রগতি যেখানে ধর্ষণের শাস্তি তারিখের পর তারিখে থেমে থাকে। এরকম অপরাধীদের তৎক্ষণাৎ গুলি করে শাস্তি প্রদান করলে দ্বিতীয়বার কেউ পুনরায় এরূপ ঘটনা ঘটাতে বিরত থাকতে পারবে ।

আরো পড়ুন:  মা-বাবার মৃত্যু,স্বামীর অত্যাচার-সর্বস্ব হারিয়েও লড়াই করে রূপা চৌধুরী হয়ে উঠলেন বাংলায় সুইগির প্রথম মহিলা ডেলিভারি গার্ল এবং ওলা চালক

দেশের প্রগতি নির্ভর করে দেশের মানুষের সুন্দর মানসিকতার ওপর। দেশের মানুষের মানসিকতা যদি এইরকম নিম্নস্তরের হয় সে রাজ্যে প্রগতি কিছুতেই আসতে পারে না। মানুষ প্রগতিশীল না হলে সে দেশের মানুষেরা মরে যাবে না কিন্তু মানুষ সভ্য-ভদ্র, শিশিরএবং শালীনতাবোধ হারিয়ে ফেললে জীবনযাত্রা অনেকটা বাধা মানবে। এবং দেশের ভবিষ্যত থেমে যাবে। প্রগতি অপেক্ষা স্থিতিশীল, ভদ্র, সভ্য সমাজর গঠনের অত্যন্ত বেশি প্রয়োজন। প্রয়োজন তার সাথে সুন্দর মানসিকতার।

নারী নিজেও কিছুটা দায়ী-

নারী স্কুল-কলেজের যাচ্ছে, হায়ার স্টাডি করছে কিন্তু সত্যি কারের শিক্ষিত হচ্ছে না। নারী উপার্জন করছে কিন্তু পরোক্ষ ভাবে দেখতে গেলে পুরুষদের উপর নির্ভরশীল থেকেই যাচ্ছে। বেশিরভাগ নারীই পুরুষতন্ত্রের ধারক এবং বাহক। বেশিরভাগ নারী জানে না যে তারা নির্যাতিত। বেশিরভাগ নারীরা ভয় পায় বন্দিত্ব দশা থেকে মুক্তি পেতে। নারীর জন্য এই অসহায় অবস্থার সৃষ্টি করেছে এই স্বার্থান্বেষী পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা।আশ্চর্য পৃথিবী গোটা জনসংখ্যার অর্ধেক আমরা নারীরা বাস করছি শুধু নিম্নলিঙ্গ হয়ে, শিকারী হয়ে, খাদ্য হয়ে, যৌনবস্তু হয়ে, কৌতুকের বস্তু হয়ে কারণ আমাদের নারীদের রুখে দাঁড়ানোর সেই সাহস নেই বলে। আমরা জনতাকে ঝাঁকুনি দিয়ে বুঝিয়ে দিই না যে তোমরা ভুল করো প্রতি মুহূর্তে আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে নিজেদের খুশিমতো বাঁচবো তোমরা কিছু করতে পারবে না। কারণ এটা আমাদের জন্মগত অধিকার।

সমাজের দায়িত্ব-

যেদিন এই সমাজ নারীর শরীর নয়, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নয়, নারীর মেধা ও শ্রমের মূল্য দিতে শিখবে ঠিক সেদিনই নারী মানুষ বলে স্বীকৃত হবে।পৃথিবীতে ক্রীতদাস প্রথা এবং পতিতাপ্রথার মূলে আছে খাঁটি দাসত্ব। শুধু পরিচয় ক্ষেত্রে ভিন্ন। ক্রীতদাসপ্রথার জন্য দরকার বর্ণপরিচয় এবং পতিতাপ্রথার জন্য দরকার যৌন পরিচয় এই দুই প্রথা ও প্রতিষ্ঠান একই প্রকৃতির।

আমি অহংকৃত বোধ করি কারণ আমি ‌নারী, আমি মা, কারো কন্যা, কারো স্ত্রী, কারো প্রেমিকা এই সবকিছুই আমি।পৃথিবীতে আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব আনতে শুধু আমি পারি কারণ আমি নারী। তাই আমি অহঙ্কৃত কারণ আমি নারী।

 

 

– সোনালী সাহা নন্দী

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।