হারিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে, আজ কয়েকশো মেয়ের মা শান্তিপুরের রিঙ্কু মুখোপাধ্যায়

হারিয়েছেন একমাত্র মেয়েকে, আজ কয়েকশো মেয়ের মা শান্তিপুরের রিঙ্কু মুখোপাধ্যায়

জীবনের দীর্ঘ সরণীতে সন্তানের সব থেকে বড় আশ্রয় মা৷ মায়ের মতো আপনজন এই পৃথিবীতে আর কেউ হতে পারেন না৷মায়ের ভালোবাসার বিকল্প পৃথিবীতে নেই৷ সন্তানের প্রথম সুর্যের আলো দেখা থেকেই চলতে থাকে মায়ের স্নিগ্ধ ও অনির্বচনীয় ভালবাসা প্রদানের চিরাচারিত রীতি৷তিনিও মা,তবে হারিয়েছেন একমাত্র সন্তানকে৷সন্তান হারানোর মানসিক যন্ত্রনাকে বুকে নিয়েই তিনি আবার স্বপ্ন দেখেছেন,ফিরে এসেছেন অনেক সন্তানের জননী হয়ে৷আজ তিনি এক কন্যা সম্তানের জননী নন,বরং কয়েক শত শিশুর মা হয়ে প্রতিনিয়ত হাসি ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের মুখে৷তিনি নদীয়ার শান্তিপুরের রিঙ্কু মুখোপাধ্যায়৷

রিঙ্কুদেবীর যখন বয়স কুড়ি বছর তখন তাঁর কোল আলো আসে কন্যা সন্তান সালৌনি৷যদিও অন্য সব স্বাভাবিক শিশুদের মত স্বাভাবিক ছিল না ছোট্ট সালৌনি৷ছোট্ট সালৌনিকে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে দিতে রিঙ্কুদেবী বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করলেন মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের অধীন এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে৷প্রশিক্ষন পর্ব শেষ হলে ১৯৯৯ সালে মেয়েকে নিয়েই বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের প্রশিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্ম জীবনের অনন্য অধ্যায় শুরু৷ সংসারের নানা ঝক্কি সামাল দিয়েও রিঙ্কু দেবীর দু,চোখে তখন অনেক স্বপ্ন৷নিজের বিশেষ ভাবে সক্ষম কন্যা সন্তান সালৌনির মত অন্য বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের জীবনকে সমাজের মূল স্রোত মিলিয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার তার চোখ-মুখে৷রিঙ্কুদেবীর প্রশিক্ষণ আর ভালবাসার পরশে পাল্টে যেতে লাগল শিশুদের জীবন৷পৌলমী,সৌগতদের মত কয়েকশো শিশু রিঙ্কুদেবীকে কাছে পেয়ে মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে৷নাচে,গানে,ভালবাসায় ফুলের মত সুন্দর শিশুদের জীবন তিনি নিপুন শিক্ষকের মত গড়ে তুলছেন আরও মধুর আরও সুন্দর৷

আরো পড়ুন:  অনুপ্রেরণা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি,ক্যানসারের ঝুঁকি এড়াতে স্তন বাদ দিলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের মৌসুমী রায়

আচমকা যে বিপর্যয় রিঙ্কু মুখোপাধ্যায়ের জীবনে নেমে এলো তাঁর জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না৷বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত একমাত্র কন্যা সন্তান সালৌনি পৃথিবীর সব মায়া কাটিয়ে মা রিঙ্কুদেবীকে ছেড়ে আকাশের তারা হয়ে পাড়ি দিল না ফেরার দেশে৷মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লেন৷যে সন্তানের মুখপানে চেয়ে তাকে সুস্থ,স্বাভাবিক জীবনের আলো দেখাতেই বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের প্রশিক্ষকের কাজ শুরু করেছিলেন সেই স্বপ্নটা যেন মুহূর্তে চুরমার৷জীবনটা তখন ঘন মেঘের অন্ধকারে ঢাকা,দমবন্ধ করা একটা পরিবেশের আবহ৷যদিও মানসিক প্রত্যয় আর দৃঢ়তার অভাব কোনদিন ছিল না রিঙ্কুদেবীর জীবনে৷রিঙ্কুদেবী তাঁর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে জীবনে যে মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন,সেখান থেকেই তিনি স্থির করলেন তিনি বেঁচে থাকবেন অনেক সন্তানের মা হয়ে৷সালৌনির মত কয়েকশো বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের কথা ভেবেই আবার শুরু হল তাঁর লড়াই৷নাচে গানে বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের সাথে মিশে গেলেন হৃদয় দিয়ে৷কয়েকশো শিশু সবাই এখন তাঁর সন্তান, তিনিই তাদের মা৷সেই মাকে কাছে পেলেই শিশুদের চোখ-মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়, খুশীতে চিকমিক করে তাদের মুখ,মা রিঙ্কু মুখোপাধ্যায়ের নাচ-গানের সঙ্গে তারাও তাল মেলায় তাদের আবেগে,ভালবাসায় ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিকতায়৷

আরো পড়ুন:  ইংরেজদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে গৌরমোহন দত্ত তৈরি করেছিলেন "বঙ্গজীবনের অঙ্গ" বোরোলিন

রিঙ্কু মুখোপাধ্যায় আজ আর একটি মাত্র মেয়ের মা নয়, বরং কয়েকশো শিশুর মা হয়ে তাদের জীবন হাসি-খুশীতে ভরিয়ে তুলেছেন ।

-অরুনাভ সেন

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।