বল গার্ল থেকে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক,ঝুলন গোস্বামী অনুপ্রেরণার আরেক নাম

বল গার্ল থেকে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক,ঝুলন গোস্বামী অনুপ্রেরণার আরেক নাম

১৯৯৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর | ইডেনে সেদিন মহিলা ক্ৰিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল | সেই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড | ওই ম্যাচে বল গার্ল ছিলেন নদিয়ার চাকদহের এক তরুণী | সেই ম্যাচ দেখেই জীবনের মোড় ঘুরেছিল তার | ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রকে যারা গৌরবান্বিত করেছেন, তাদের মধ্যে ইনিও একজন। তাঁকে দেখে নারী ক্রীড়ার এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল এই বাংলায় | তিনি ঝুলন গোস্বামী |

ঝুলন গোস্বামীর জন্ম ১৯৮২’র ২৫ শে নভেম্বর নদীয়া জেলার চাকদহতে। খেলাধূলার প্রতি ভালোবাসা ছিল ছোট বেলা থেকেই। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁর ক্রিকেট জীবন শুরু হয়। ১‌‌৯৯৭ র মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড় বেলিন্ডা ক্লার্ক’র খেলা দেখে তিনি খুবই উৎসাহিত হন। তাই আর সময় নষ্ট না করে যোগ দেন প্রশিক্ষণে । প্রাথমিক ভাবে চাকদহ তে শুরু হল প্রশিক্ষণ । এরপর প্রশিক্ষণ শুরু কলকাতায় | রোজ ভোর চারটেয় ট্রেনে করে চাকদহ থেকে কলকাতায় আসতেন প্র্যাকটিস করতে | বিবেকানন্দ পার্কের স্বপন সাঁধু ছিলেন ঝুলন গোস্বামীর কোচ |

আরো পড়ুন:  বাঙালি আজও মাঠে যায়,কিন্তু আর একটা কৃশানুকে দেখতে পাওয়া যায় না

২০০২ এর ৬ই জানুয়ারি তার আত্মপ্রকাশ ঘটে ভারতীয় জাতীয় দলে। ওই বছরেই তাঁর জাতীয় টেষ্ট দলেও আত্মপ্রকাশ হয়। শুরু হয় এক যুগের | অলরাউন্ডার হিসেবে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে ঝুলন গোস্বামী সৃষ্টি করেছেন নানান নজির। ২০০৭ সালে তিনি আইসিসি র বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে তিনি ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন | ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত তিনি ভারতের অধিনায়ক ছিলেন , ওই বছরেই এ‌শিয়া কাপে বিশ্বের চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ উইকেট শিকার করেন। তবে ঝুলন গোস্বামীর সবচেয়ে বড় নজির হল, প্রথম মহিলা খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ উইকেট শিকার করা।তাঁর ক্ষুরধার বোলিং দক্ষতার জন্য একদা তিনি হয়েছেন ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের বোলিং পরামর্শদাতা। মহিলা ক্রিকেটে বিশ্বের দ্রুততম বোলারের স্বীকৃতিও রয়েছে ঝুলন গোস্বামীর | আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ঝুলন গোস্বামী নিয়েছেন ৩২১ টি উইকেট | এ এক অনন্য নজির। সারা বিশ্বের কাছে বাংলা তথা ভারতকে গৌরবান্বিত করেছেন।

আরো পড়ুন:  ফকল্যান্ডের যুদ্ধে ব্রিটিশরা হত্যা করেছিল ৬৫০ আর্জেন্টাইন সৈন্যকে,মাঠে ব্রিটিশদের জবাব দিয়েছিলেন মারাদোনা

ডায়না এডুলজি’র পর দ্বিতীয় মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ২০১২ সালে ভারত সরকার ঝুলন গোস্বামীকে পদ্মশ্রী সম্মানে সন্মানিত করেন। ২০১০ সালে তিনি পান অর্জুন পুরস্কার। সুদূর চাকদহ থেকে কলকাতায় আসতেন ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে, নব্বই দশকের শেষ ভাগে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলেও একজন নারীকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে কতটা লড়াই করতে তা আমরা সবাই জানি, তিনি সেই সব সময় গুলোকে অতিক্রম করেছেন, সাথে করেছেন বিশ্বজয় | বর্তমানে বাংলার মহিলা ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন জায়গায় চালু করেছেন কোচিং ক্যাম্প |

আরো পড়ুন:  অভিনেত্রী কাবেরী বসুর নাতনির ডিজাইন করা নতুন জার্সি পড়েই এবার আইএসএলে নামছে ইস্টবেঙ্গল

– কৌস্তভ বিশ্বাস

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।