রাতের অন্ধকারে গ্রামে গ্রামে ঘুরে নীলবিদ্রোহের জন্যে কৃষকদের সংগঠিত করতেন দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস

রাতের অন্ধকারে গ্রামে গ্রামে ঘুরে নীলবিদ্রোহের জন্যে কৃষকদের সংগঠিত করতেন দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস

আগস্ট মাস ভারতবর্ষের ইতিহাসে বিপ্লবের মাস আর ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা বলতে গেলে নীল বিদ্রোহের (১৮৫৯-৬১) কথা বলতেই হয়।এই বিদ্রোহ মূলত নদীয়া জেলা থেকেই শুরু হয়েছিল এবং ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থানে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বললে ভুল হবে ভারতবর্ষের অন্যান্য স্থানেও যেমন বিহার এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল।প্রায় ২৫ লক্ষ কৃষক অত্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করেছিলেন | নীলকর জমিদার তথা ব্রিটিশ সরকারের অমানুষিক ,পাশবিক অত্যাচারের প্রতিবাদ স্বরূপ। এই আন্দোলনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী। কৃষকদের এই সঙ্ঘবদ্ধ হিংস্র প্রতিবাদ এ অত্যাচারী, দুরাচারী ব্রিটিশ সরকার কতটা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তা স্পষ্টই বোঝা যায় ৩০শে অক্টোবর ১৮৬০ সালের তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং এর একটি চিঠি যা তিনি লিখেছিলেন চার্লস উড কে।ক্যানিং লিখেছেন “I assure you that for about a week it caused me more anxiety than I have had since the days of Delhi (Sepoy Mutiny 1857) and from that day I felt that a shot fired in anger or fear by one foolish planter might put every factory in Lower Bengal in flames.”(Bengal under the Lieutenant Governors, by C.E.Buckland)। এই বিদ্রোহ দমন করতে ব্রিটিশ সরকার নড়েচড়ে বসে। L.S.S O’Malley তার History of Bengal , Bihar &Orissa under British Rule গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন “The danger of widespread outbreaks was however averted by the prompt preventive action of Government.Troops were sent to disturbed areas,two gun-boats patrolled the rivers,the magisterial staff were strengthened.In addition to executive action ,some special legislation was passed and a commission, known as the Indigo Commission was appointed to investigate the whole question.” এতটাই গোপনে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল যে ব্রিটিশ সরকার তার কূলকিনারা খুঁজে পায়নি।এই বিদ্রোহের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে মহাত্মা শিশির কুমার ঘোষ মহাশয় লিখেছেন “এই বিদ্রোহ সর্বপ্রথম দেশের লোককে রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংঘবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজনীয়তা শিখিয়েছিল। বস্তুত বাংলাদেশে ব্রিটিশ রাজত্বকালে নীল বিদ্রোহ হচ্ছে প্রথম বিপ্লব।”এখন মূলত যে দুইজন ব্যক্তি সফলতার সাথে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সেই দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু জানা যাক।

বাংলার নীল বিদ্রোহের ইতিহাসে সবচাইতে প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা ছিলেন দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস।দিগম্বর বিশ্বাস এর বাড়ি ছিল নদীয়ার পোড়াগাছা গ্রামে এবং বিষ্ণুচরণ বিশ্বাসের বাড়ি নদীয়ার চৌগাছা গ্রামে। দিগম্বর বিশ্বাস হলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী শহীদ বসন্ত কুমার বিশ্বাসের দাদু। আর বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস হলেন দিগম্বর বিশ্বাস এর বন্ধু। তাদের কোন রক্ত সম্পর্ক ছিল না। তাদের পরিচয় হয়ত কর্মসূত্রে। এরা দুজনেই পূর্বে নীলকুঠির দেওয়ান ছিলেন। ‘যশোর ও খুলনার ইতিহাস’ রচয়িতা সতীশচন্দ্র মিত্র মহাশয় এর মতে সেই সময়ে দেওয়ানের ৫০ টাকা বেতন ছিল, সে আমলে এটিই ছিল উচ্চহার। তাছাড়া বিশ্বাস দ্বয়ের পারিবারিক স্বচ্ছলতা ছিল। ধনী হলেও মূলত এনারা ছিলেন কৃষক।সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই গরীব কৃষকদের উপর নীলকরদের অমানুষিক অত্যাচার এদের সহ্য হয়নি। এদিকে নীলকরদের সীমাহীন লোভ এবং অত্যাচারে নীল চাষিরা ক্রমেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।বিদ্রোহের আগুন তুষের আগুনের ন্যায় অত্যাচারিত কৃষকদের মনে ধূমায়িত হচ্ছিল।বিশ্বাস দ্বয় নীলকুঠির দেওয়ান এর কাজ পরিত্যাগ করলেন এবং বিদ্রোহ সংগঠিত করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ মনোযোগী হলেন।অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত কৃষককূলকে সঙ্গবদ্ধ করে নীলকর তথা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে এক অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে তুললেন।

আরো পড়ুন:  ফাঁসির পর শবদেহ জেলের বাইরে আনার অনুমতি দিল না ব্রিটিশরা,জেলেই দাহ করা হল সত্যেন বসুকে

সতীশ চন্দ্র মিত্র মহাশয় তার ‘যশোর- খুলনার ইতিহাস’ নামক গ্রন্থে শিশির কুমার ঘোষ এর রচনা ‘A Story of Patriotism in Bengal’ উদ্ধৃত করে বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর বিশ্বাসের কার্যকলাপ বর্ণনা করে লিখেছেন “বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর কাজে ইস্তফা দিয়ে প্রজার পক্ষে দণ্ডায়মান হইলেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরিয়া প্রকৃত অবস্থা বুঝাইয়া দিয়া প্রজাদের উদ্রক্ত করিয়া তুলিলেন। বহ্নি অনেকদিন হইতে ধূমায়িত হইতেছিল, কিন্তু চৌগাছা হইতেই তাহা জ্বলিয়া উঠিল। দুই বছরের মধ্যে এই বহ্নি সমস্ত দেশ জালাইয়া দিয়া ছিল। বিশ্বাস দের কিছু সংগতি ছিল, যাহা ছিল সবই এই আন্দোলনে ব্যয় করিলেন। প্রজার জোট ভাঙ্গিবার জন্য নীলকরেরা ক্ষেপিয়া গেল। বিশ্বাসেরা বরিশাল হইতে লাঠিয়াল আনাইলেন। দেশের লোকেদের লাঠি ধরাইলেন।বঙ্গের মান সম্ভ্রম রক্ষার উপাদান রূপে লাঠি আবার উঠিল। নীলকরের হাজার লোক আসিয়া বিষ্ণুচরণ এর বিদ্রোহী গ্রাম আক্রমন করিলো, কত রক্তপাত হইল। কিন্তু বিশ্বাস দিগকে ধরিতে পারিল না। তাহারা রাত্রির অন্ধকারে গ্রাম হইতে গ্রামান্তরে ঘুরিতেন, গ্রামের পর গ্রাম জাগাইতে লাগিলেন। রায়তেরা কেউ নীল বুনিল না । দেড় বছরের মধ্যে কাটগড়া কন্সার্ন বন্ধ হইয়া গেল; আর খুলিল না । নিঃস্ব প্রজার নামে নালিশ হইলে বিশ্বাসগন দুইজনে তাহার জরিমানা বা দাদনের টাকা এবং মোকদ্দমার খরচ দিতেন, কেহ জেলে গেলে তাহার পরিবার পালন করিতেন। এইরূপে তারা সর্বস্বান্ত হইলেন।হিসাব করিয়া দেখিলেন তাহাদের সর্বোচ্চ ১৭০০০ টাকা সামান্য বটে কিন্তু টাকার অনুপাতে অনুষ্ঠিত কাজের মূল্য অনেক বেশি।”

আরো পড়ুন:  চোখের সামনে দেখেছিলেন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড,২১ বছর পর প্রতিশোধ নিয়েছিলেন উধম সিং

বিশ্বাস দের এই আন্দোলন শুধু নীলকরদের বিরুদ্ধে ছিল না, তা পরিচালিত হয়েছিল সমগ্র ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে।তাদের প্রতিবাদ নিষ্ক্রিয় প্রতিবাদ ছিল না, ছিল এক সশস্ত্র বিপ্লব যা ব্রিটিশ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশ্বাসদের জীবনী শক্তি, সাহস ,সাংগঠনিক দক্ষতা, পরিচালন ক্ষমতা নীল বিদ্রোহ কে সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছিল।এই প্রসঙ্গে ‘বঙ্কিম জীবনী’ রচয়িতা শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর বিশ্বাস সম্বন্ধে লিখেছেন:”কত ওয়াট টাইলার হ্যামডেন ওয়াশিংটন নিরন্তন বাংলায় জন্মগ্রহণ করিতেছেন-ক্ষুদ্র বনফুলের মতো মনুষ্য নয়নান্তরালে ফুটিয়া ঝটিকা ঘাতে ছিন্ন-ভিন্ন হইতেছে, আমরা তাহা দেখিয়াও দেখি না-আমরা তাহার চিত্র তুলিয়া রাখিনা,কেননা আমরা ইতিহাস লিখতে জানিনা -সবে চিত্র আঁকতে শিখিতেছি।বাঙালি মার খাইয়া অবশেষে মারিবার জন্য বুক বাধিয়া দাড়াইলো।…এই দুই স্বার্থত্যাগী মহাপুরুষ বাংলার নিঃস্ব সহায় শূন্য প্রজাদের এক প্রাণে বাঁধিলো -সিপাহী বিদ্রোহের সদ্য নির্বাপিত ভষ্ম রাশি লইয়া গ্রামে গ্রামে ছড়াইতে লাগিলো।”

নীলকুঠি

 

এই সময়(১৮৫৯) নদীয়া জেলার বাঁশবেরিয়া কুঠির ম্যানেজার ছিলেন William White।তিনি নীলচাষ বৃদ্ধির জন্য শলাপরামর্শ করতে লাগলেন তারই বন্ধু তৎকালীন নদীয়া জেলার ম্যাজিস্ট্রেট W.J.Herschel এর সাথে।দিগম্বর বিশ্বাস ও বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস নীল চাষের বিরুদ্ধে কৃষকদের জোট বদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করলেন। প্রথমে কেবলমাত্র গোবিন্দপুর এর কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে। তখন হোয়াইট ৫০০ লাঠিয়াল ও কয়েকটি হাতি নিয়ে গোবিন্দপুর আক্রমণ করল।দক্ষ সেনাপতি দিগম্বর বিশ্বাস এর পরিচালনায় একদল বর্ষাধারী কৃষক তাদের হটিয়ে দিল। তৎকালীন নদীয়া জেলারনতুন ম্যাজিস্ট্রেট L.R Tottenham সাহেব তদন্ত করে দেখলেন White দোষী। তিনি তাকে ৩০০ টাকার জরিমানা করেন।

কিন্তু নীলকরেরা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী ও শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত তাদের চাপে পড়ে সরকার Tottenham কে অন্যত্র বদলি করে দিল। এবার সুযোগ পেয়ে White ১০০০ লাঠিয়াল নিয়ে চৌগাছা ও পোড়াগাছা গ্রাম আক্রমণ করল। তবে গ্রামবাসীরা এইবার পেরে ওঠেনি, তারা পিছু হটল। একজন কৃষক শহীদ হলেন এবং বহু মানুষ আহত হলেন। নীলকরের লাঠিয়ালরা গ্রাম লুট করে গ্রামে আগুন লাগিয়ে দিল।বহু কৃষককে গ্রেফতার করা হল ,মামলা-মোকদ্দমা হল, বহু কৃষকের জেল হল।বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর প্রকৃত নেতার ন্যায় মামলার খরচ জোগালেন ,যারা জেলে গেলেন তাদের পরিবার প্রতি পালনের খরচ দিলেন, দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। ব্রিটিশদের ত্রাস বিশ্বাসদ্বয়কে ধরবার অনেক চেষ্টা হল | কিন্তু তারা ধরা পরল না ,তারা গা ঢাকা দিয়ে থাকলেন। তাদের জীবন সুরক্ষিত ছিল না, নীলকর লাঠিয়ালদের জন্য বিপন্ন হয়ে থাকত।দিনের বেলায় তারা কাজ করতে পারত না, রাতের অন্ধকারে তারা তাদের ব্রিটিশবিরোধী, নীলকর বিরোধী কাজকর্ম গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার করতেন, মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতেন। যেকোনো সময় তাদের আক্রান্ত হবার ভয় থাকত। তবে তারাও সব সময় যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকতেন।

আরো পড়ুন:  মৃণাল সেনের ওকা উরি কথা দেখে সত্যজিৎ রায় বললেন "একেবারে হিংসে করার মতো একটা ছবি বানিয়েছে"

বিষ্ণুচরন বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস ভালো করেই বুঝলেন লড়াইয়ে নীলকরদের হারাতে না পারলে গ্রামে কারো পক্ষে বাস করা সম্ভব হবে না। সুতরাং শুরু হলো নতুন পরিকল্পনা ,নতুন ট্রেনিং।চৌগাছা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো থেকে মেয়ে ও বাচ্চাদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হল। তারা বরিশাল থেকে নামকরা সব লাঠিয়াল ভাড়া করে আনলেন। কৃষকেরা দলে দলে লাঠি সড়কি চালনা শিখতে লাগলো। কিছুদিনের মধ্যেই তারা ওস্তাদ লাঠিয়ালে পরিণত হল। একজন কৃষক ও আর নীল বুনল না। ফলাফল কিছুদিনের মধ্যেই কাটগড়া কুঠি বন্ধ হয়ে গেল। নীলকরদের ভয়ঙ্কর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হল |

বিদ্রোহী কৃষকদের শিক্ষা দেবার উদ্দেশ্যে নীলকর ১৫০০ লাঠিয়াল নিয়ে লোকনাথপুর আক্রমণ করল। তবে এবার কৃষকরা প্রস্তুত ছিল।বহুক্ষণ প্রচন্ড লাঠি যুদ্ধের পর নীলকরের লাঠিয়ালরা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গেল। জয় লাভ করে কৃষকদের মনোবল অনেক বেড়ে গেল। অবস্থা এমন হয় কৃষকদের লাঠির ভয়ে নীলকরদের হয়ে আর কেউ লাঠি ধরতে চাইলো না। এরপর এই রকম বহু লড়াইয়ে কৃষকরা বিশ্বাসদ্বয়ের নেতৃত্বে জয়লাভ করেছিল। শিশির কুমার ঘোষ মহাশয় Hindu Patriot পত্রিকায় অভিযোগ করে লিখেছেন তৎকালীন সংবাদপত্রগুলি বিষ্ণুচরণ ও দিগম্বর বিশ্বাস সম্পর্কে কিছু লেখেনি। তাদের নাম পর্যন্ত কেউ জানে না।নীল বিদ্রোহের পরে বিশ্বাস দ্বয়ের কি হয়েছিল, তারা কি শহীদ হয়েছিলেন, তাদের পরবর্তী জীবন ইত্যাদি এ বিষয়ে কোন খোঁজ পাওয়া যায় না।

তবে বিশ্বাসদের বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব নীল বিদ্রোহ কে সফল করেছিল। এরপর ১৮৬০ সালে ব্রিটিশ সরকার Indigo Commission গঠন করেন। ফলে জোরপূর্বক নীলচাষ বন্ধ হয়ে যায়।এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নদীয়া জেলার কৃষক সম্প্রদায়ের তীব্র আন্দোলন যার পুরোভাগে ছিলেন দিগম্বর বিশ্বাস ও  বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস।

লেখক – জয়ন্ত বিশ্বাস
তথ্য – ‘যশোর- খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থ শিশির কুমার ঘোষ, শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের লেখা

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।