অসম প্রতিযোগিতা,তবুও তালপাতার পাখাকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই চালাচ্ছে “পাখাগ্রাম”

অসম প্রতিযোগিতা,তবুও তালপাতার পাখাকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই চালাচ্ছে “পাখাগ্রাম”

আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে তালপাতার পাখা আর তার জৌলুস টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়নি | সময় কতটা দ্রুত পরিবর্তন হয় | আগেকার দিনে রথের মেলায় বা বিভিন্ন মেলায় তালপাতার পাখা বিক্রি হত। গলির রাস্তায় পাখা ফেরি করেও যেত। প্রখর গ্রীষ্মে গ্রামের, মফস্সলের এমনকি শহরের মানুষের একমাত্র ভরসা ছিল তালপাতার পাখা। এক একটা বাড়িতে এক-আধ ডজন পাখা থাকত। তখন কয়লার উনুনই ছিল ভরসা। আর বর্ষাকালে ভিজে কয়লার উনুন যখন ধরতে চাইত না, তখন তালপাতার পাখায় ছিল উনুন ধরানোর একমাত্র উপায় |

শীতের মাঝামাঝি সময়েই তালপাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। তালগাছের পাতা কাটা, তাকে জলে ডুবিয়ে রেখে জাঁক দিয়ে পাতাকে সোজা করা হয়। তারপর সেই পাতাকে সাইজ করে কাটা, সরু লম্বা কাঠি দিয়ে বাঁধা, রং করা ইত্যাদি নানা পর্বের মধ্য দিয়ে পাখা রেডি হলে তার বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়। একটা তালপাতা থেকে একটা বা দুটো পাখা তৈরি হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট এলাকার গ্রাম বা তমলুক থানার পাকুড়িয়া পাখাগ্রাম নামে পরিচিত। এ রকম পাখাগ্রাম আরও আছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায়। বাড়ির কর্তা থেকে বউ-ছেলে-মেয়ে সবাই পাখা তৈরিতে ব্যস্ত। তালপাতা গাছ থেকে কাটা থেকে পাখার আকারে পাতাকে কেটে তৈরি করা, কাঠি দিয়ে সেলাই করে বাঁধানো, রং করা, ঝালর লাগানো, পাখার গায়ে তালপাতা দিয়ে বিনুনির মতো নকশা করে লাগানো, প্যাক করা, বাজারে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি অনেক হাত ঘুরে পাখা আমাদের নাগালে আসে।

আরো পড়ুন:  বাংলার ডোকরা শিল্পের আঁতুরঘর বাঁকুড়া জেলার বিকনা

পাখার নানা ধরন আছে। অর্ডিনারি পাখা ছাড়া আছে রিভলভিং পাখা যা হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে হাওয়া খেতে হয়। এই পাখায় হ্যান্ডেলটা একটা সরু নলের মধ্যে ঢোকানো থাকে যাতে হাত ঘোরালেই পাখা ঘুরতে থাকে। এ ছাড়াও ফোল্ডিং পাখা, নকশি পাখা, চন্দনকাঠের পাখা, সুতোর পাখা, ময়ূর পালকের পাখা, হাতির দাঁতের পাখা, এবং বাড়ির ঠাকুর বা প্রতিমার জন্য ম্যাগনাম সাইজের বিশাল তালপাখার পাখার দেখা মেলে।

আরো পড়ুন:  কচুরি রাধাবল্লভীর ফারাক বুঝতে আপনাকে একবার আসতেই হবে বাগবাজারে

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল নকশি পাখা। হাতপাখায় শিল্পকাজের মিশেল দিয়ে তৈরি হয় নকশি পাখা। এটি মূলত বাংলাদেশের লোকশিল্প। তালপাতা ছাড়া সুতো, বাঁশ, বেত, খেজুরপাতা, শোলা, শন, গমের কাঠি ও ময়ূর পালক দিয়ে নকশি পাখা তৈরি করা হয়। সেই নকশি পাখার নকশা অনুসারে পাখার বিচিত্র নামকরণ করা হয়। যেমন পালংপোষ, শঙ্খলতা, কাঞ্চনমালা, ছিটাফুল, মনবিলাসী, গম্বুজ তোলা, যুগল হাঁস, ষোলো বুড়ির ঘর ইত্যাদি। এই পাখার চেহারা চৌকো বা টাঙ্গির ফলার মতো হতে পারে। সুতো দিয়ে বুনে নানা নকশা পাখার গায়ে ফুটিয়ে তোলা হয়। কখনও লুডোর ছকের নকশাও দেখা যায়। এই নকশা আগে থেকে ভেবেচিন্তে করা হয় না। বুনতে বুনতে জ্যামিতিক নকশা তৈরি হয়ে যায়। জোড়া হাঁস, জোড়া ময়ূর নানা নকশায় সেজে নকশি পাখা শৌখিন মানুষের হাতে হাতে ঘুরতে থাকে।

আরো পড়ুন:  জরুরি অবস্থায় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে মাথা কামিয়ে অশৌচ পালন করলেন সাংবাদিক গৌরকিশোর ঘোষ

তালপাতার পাখা বঙ্গ জীবনের অঙ্গ ছিল একসময়। কিন্তু যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তালপাতার পাখা চলতে পারছে না। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই তালপাতার হাতপাখা । আমাদের এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।গ্রাম বাংলার মানুষের পুঁজির জোর বাড়াতে হবে।

অভীক মণ্ডল
তথ্য- এই সময়

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।