কচুরি রাধাবল্লভীর ফারাক বুঝতে আপনাকে একবার আসতেই হবে বাগবাজারে

কচুরি রাধাবল্লভীর ফারাক বুঝতে আপনাকে একবার আসতেই হবে বাগবাজারে

আদি নাম কর্চরিকা, আর এখন কচুরি। যার গল্প শুরু করতে হলে, উত্তরের কলকাতায় পা রাখতেই হবে।

অভিধান বলছে, ডালের পুর দেয়া ভাজা খাবারই হল কচুরি। সেভাবে দেখলে, ছোলার ডালের পুরীকেও কচুরি বলতে হবে। কিন্তু না, খাঁটি কচুরিতে কাঁচা বিউলির ডাল আর হিঙের পুর ছাড়া অন্য কিছু চলবে না। আবার ঐ একই পুর যখন পাঁচফোড়ন দিয়ে ভাজা হয়ে ময়দার লেচিতে ভরা হবে, তখন তার নাম রাধাবল্লভী। তবে শীতের কথা আলাদা,তখন বিউলির ডালকে হঠিয়ে আসে কড়াইশুঁটির । আর এই পুরি কচুরি রাধাবল্লভীর ফারাক বুঝতে আপনাকে একবার আসতেই হবে বাগবাজারে !

আরো পড়ুন:  পাকিস্তানি সিনেমায় সুপারস্টার ছিলেন এক বাঙালি অভিনেত্রী,সেরা নায়িকার স্বীকৃতি পেয়েছেন ১৩ বার

বাগবাজারে যখনই ঢুকবেন, রাস্তার দু’পাশে দেখবেন দোকানে থরে থরে কচুরি সাজানো । দেখে হয়তো মাথায় আসবে এত কচুরি খায় কারা! উত্তর পাবেন না ! শুধু ভোজবাজির মতো খালি হয়ে যায় ঝুড়ির পর ঝুড়ি।

কিন্তু, এই ভিড়েও #পটলার_কচুরির হিসেবনিকেশ আলাদা। সে অটল হিমাদ্রীসম, দেখতে দেখতে তিরানব্বই বছর পার করে দিল নন্দলাল বোস লেনের উল্টো ফুটে এই ছোট্ট দোকান । কাচের শো কেসের ওপারে বাবু হয়ে বসে আছেন দিব্যেন্দু ,এখনকার মালিক। চোখে ঋত্বিক ঘটকের সেই কালো ফ্রেমের চশমা।

আরো পড়ুন:  প্যারামাউন্টের বিখ্যাত ডাবের শরবতের রেসিপির স্রষ্টা ছিলেন আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়

-‘কে শুরু করেছিলেন দোকান?’
-‘আমার ঠাকুরদা, শশীভূষণ ।
-‘তিনিই কি পটলা?’
-না। পটলা তাঁর ছেলে। আমার কাকা। ভালো নাম কার্তিক ।

টুকরোটাকরা কথার ফাঁকে হাত চলছে , কচুরী আর ছোট আলুর তরকারি, শালপাতার বাটিতে ছড়িয়ে পড়ছে হাতে হাতে।
বিকেলে এখানে রাধাবল্লভী পাবেন। দুটি বল্লভী, দু’টুকরো আলুর দম। পাকা খদ্দের ভুলেও কোনোদিন একটুকরো আলু বেশি চাইবেনা। চাওয়াটা ভব্যতা নয়। যা দেওয়া হয়েছে, একেবারে ঠিকঠাক। ঐ আলুরদম বাজার খুঁজেও পাওয়া যাবেনা।

আরো পড়ুন:  মা দুর্গার রূপে সন্তান কোলে মা,পরিযায়ী শ্রমিকদের সম্মান জানাতে অভিনব উদ্যোগ বেহালার বড়িশা ক্লাব দুর্গাপুজো কমিটির

নিশ্চয়ই ভাবছেন এত নামী দামী দোকান থাকতে কোথাকার এক পটলার দোকান নিয়ে পড়লাম কেন ? ওরে বাবা সারাজীবন গোলামী করেছি বলে কি জাতধর্ম বিসর্জন দেবো ? দোকানের মালিক যে আদি অকৃত্রিম সেন আর গুডউইলটাও দেখুন, শুধু কচুরি বেচে একশো বছর পার !

কে বলে ভাজাভুজি বেচে উন্নতি করা যায়না, তবে সবাই তো আর ‘সেন’ হয়না ! 😀😃😂

লেখক – স্বপন সেন

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।