রানাঘাট সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেরোতেন রনা ডাকাত

রানাঘাট সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেরোতেন রনা ডাকাত

রানাঘাট তথা নদীয়া জেলার অতি প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম হলো মা সিদ্ধেশ্বরী কালী মাতার মন্দির। কথিত আছে, বিভিন্ন ডাকাতেরা এই কালী পূজার সূচনা করেন। আবার বলা হয়, সপ্তদশ অষ্টাদশ শতাব্দীর সময় কালে রানাঘাট ছিল চূর্ণী নদীর লাগোয়া গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ।

১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দের নদীয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে জমিদারিত্তে সে সময় তার থেকে ক্রয় করেন শম্ভুচন্দ্র পান্ডে। রানাঘাটের নামকরন হবার আগে রানাঘাটের নাম ছিল”ব্রম্মডাঙ্গা”। আর এই ব্রম্ম ডাঙ্গায় ছিল এক ভয়ঙ্কর ডাকাতের দল। আর সেই ডাকাত দলের সর্দার ছিলেন ‘রনা’। রনা ডাকাতের ঘাঁটি অর্থেই রানাঘাটের নামকরণ হয়েছে। কথিত আছে, এই রনা ডাকাতের আরাধ্য দেবী ছিলেন মা সিদ্ধেশ্বরী। বর্তমানে সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরটি যেখানে অবস্থিত, সেইখানেই রনা ডাকাত মা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর পূজা করে ডাকাতির উদ্দেশ্যে বেড়াতেন। এই প্রসঙ্গে অর্থাৎ রনা ডাকাত সম্বন্ধে বলা যায় তিনি ছিলেন একজন পরম মাতৃভক্ত। রনা ডাকাতের সময় কালে বাংলার জমিদারদের সর্বগ্রাসী লোভ ও অত্যাচারে বিভিন্ন অঞ্চলে ডাকাত দলের অস্তিত্ব জাগিয়ে তোলে। ঠিক সেই সময় রানাঘাট জনপথে রওনা এক দুর্ধর্ষ ডাকাত দল তৈরি করে জমিদার’দের কাছারি বাড়ি লুঠ, লোভী ব্যবসায়ীদের সর্বস্ব লুট চালাত। আর এই ডাকাতি করে আনা বিভিন্ন সামগ্রী টাকা-পয়সা দরিদ্র মানুষদের মধ্যে বিলিয়ে দিত।

আরো পড়ুন:  কলকাতার প্রথম বন্দুকের দোকানের সঙ্গে রয়েছে প্রায় দুশো বছরের ইতিহাস,ক্রেতা ছিলেন স্বয়ং জিম করবেট

বর্তমানে সারা বছর ধরেই পূজিত হন মা সিদ্ধেশ্বরী। বলা যায়, সিদ্ধেশ্বরী নাম হলেও দেবী মূর্তিটি সিদ্ধেশ্বরী বিগ্রহ নয়, এই মূর্তি পঞ্চমুন্ডির আসনে প্রতিষ্ঠিত কষ্টিপাথরের তৈরি কালী বিগ্রহ তিন ফুট উঁচু এবং শায়িত শিব মূর্তি শ্বেত পাথরের তৈরি। মন্দিরের পাশে ছোট একটি মন্দিরে মহাদেব প্রতিষ্ঠিত আছেন। নাটমন্দির অনেক পরে তৈরি হয়, এ ব্যাপারে কতিপয় স্থানীয় লোকের আর্থিক সাহায্য ছিল। আর বর্তমানে রাজ্য সরকারের সাহায্য বাবদ কিছু টাকা পাওয়া যায়। মাঘ মাসের সংক্রান্তি দিন মহা ধুমধামে এখানে পূজা অর্চনা করা হয় মাকে। চলে নানা ধরনের অনুষ্ঠান, নাম যজ্ঞ, অন্ন সেবা, আরতি |

আরো পড়ুন:  বাংলার রাবড়ি গ্রামের রাবড়িতে মুগ্ধ মিষ্টি প্রেমিকরা !

এখানে রনা ডাকাত মায়ের কাছে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন বলে এখানকার মায়ের নাম সিদ্ধেশ্বরী মা। এখানে আগে পাঠা বলি হত এখন আর তা হয় না।বর্তমান ওই মন্দিরের পূর্বপুরুষেরা এই সিদ্ধেশ্বরী কালী মায়ের পুজো করে আসছেন। মন্দিরের এক পূর্বপুরুষদের এক পূজারী মলয় গাঙ্গুলী জানান, আজ থেকে বহু বছর আগে সে সময় চূর্ণী নদীর গায়েই ছিল এই মন্দির আর সেই সময় রনা ডাকাত মায়ের পুজো করে দিনের বেলাতেই ডাকাতি করার জন্য ওই ঘাট ব্যবহার করতেন। পরবর্তীকালে এই ঘাটের থেকে রানাঘাট নাম পরিচিত লাভ করে। বর্তমানে রনা ডাকাতের পুজো করা পঞ্চমুন্ডি আসন আজও ব্যবহার করে আসছেন মন্দিরের পূজারী। খুবই জাগ্রত এবং শান্ত বলে এই মা সিদ্ধেশ্বরী। অনেকে মানত করেন এবং তাদের মনস্কামনা পূর্ণ হলে তারা এসে মাকে পুজো দিয়ে যান। রানাঘাটের জনসাধারণ ও অন্যান্য দূর-দূরান্তের মানুষ দেবী সিদ্ধেশ্বরী কে অতিশয় জাগ্রত জ্ঞানে শ্রদ্ধা ভক্তি করে। দেবী মূর্তি আয়তনয়না ভয়ংকরী আবার করুণাময়ীও।

আরো পড়ুন:  বক্সিং গ্লাভসের সাথেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছিলেন "ফাদার অফ ইন্ডিয়ান বক্সিং"-পি এল রায়

-রিয়া দাস(রাই),ইতিহাস স্নাতকোত্তর ছাত্রী

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।