১৯৫৩ সালের ২ মে,কলকাতার সবথেকে বড় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল ৪৩ জনের

১৯৫৩ সালের ২ মে,কলকাতার সবথেকে বড় বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল ৪৩ জনের

কলকাতা বিমানবন্দরের নাম তখনও নেতাজি সুভাষ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়নি। নাম ছিল দমদম বিমানবন্দর। দমদম বিমানবন্দর নিয়ে ইতিহাসের পাতা ঘাটলে উঠে আসবে অনেক তথ্য | দমদম বিমানবন্দরে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৩ সালের ২ মে। সিঙ্গাপুর লন্ডন ফ্লাইটে ৪৩ জন মারা গিয়েছিল ।দমদম থেকে আকাশে উঠতে না উঠতেই একটি কালবৈশাখীতে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। জানা যায়, প্লেনটি সেই ঘটনার সময় মাত্র ১০০০০ ফুট উপর দিয়ে যাচ্ছিল। এটি ছিল B.O.A.C এর কমট প্লেন । এই প্লেনটার যাবার কথা ছিল কলকাতা থেকে দিল্লি। তারপর লন্ডন। এই রুটটি ছিল প্রথম কমার্শিয়াল এয়ার্ রুট। এই কমেট এয়ারক্রাফট ছিল পৃথিবীর প্রথম কমার্শিয়াল এয়ার ক্রাফট। তবে এর আগে সিঙ্গাপুর লন্ডন ফ্লাইট ছিল ২ দিন আর ১২ ঘন্টার। এই নতুন এয়ারক্রাফট সেই দূরত্ব কমিয়ে করেছিল মাত্র ৩৬ ঘন্টার। দূরপ্রাচ্যের এটাই ছিল প্রথম BOAC কমার্শিয়াল রুট।

আরো পড়ুন:  মেয়র থাকাকালীন নেতাজির দুটি আগ্নেয়াস্ত্রকে নতুন করে লাইসেন্স দিতে চলেছে কলকাতা পৌরসভা

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে প্রথমে ভাবা হয়েছিল যে, আকাশ খারাপ এবং পাইলটের ভুল।তবে অনেক পরে ধরা পড়ে যে কমেট এর ডিজাইনেই ত্রুটি ছিল। সেইদিনের ফ্লাইটে তবে কোন ভারতীয়ের নাম পাওয়া যায়নি। সব যাত্রীই ছিল ইউরোপিয়ান। স্বাধীনতার সাত বছর অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরেও কলকাতায় থাকতেন অনেক ইউরোপিয়ান। হয়ত এই ইউরোপিয়ানদের জন্যই চলত কমার্শিয়াল রুটগুলো দমদম থেকে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে কারা উঠেছিলেন তাদের তালিকা দিয়েছিল। তাতে ১০ জনের নাম ছিল।

সেই দুর্ঘটনার খবর বেশ অনেক সংবাদপত্রের কাগজগুলিতেই বেরিয়েছিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ছাপিয়েছিল প্রথম পাতার প্রথম খবর হিসাবে। প্রায় ৬২ মাইল জায়গা ধরে প্লেনের বিভিন্ন অংশের ভেঙে পড়ার টুকরো পাওয়া গিয়েছিল। মুর্শিদাবাদের কাছেও মিলেছে প্লেনের ধ্বংস চিহ্ন। সিঙ্গাপুর স্টক এক্সচেঞ্জের ৪ জন মারা গিয়েছিল এই বিমান দুর্ঘটনায়।

আরো পড়ুন:  পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট,মৃত্যুর পর দেহ পাঠানো হয়নি মর্গে

ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঠিক পরের দিন ১৪ বছরের একটি ছেলের দুর্ঘটনা দেখার বিবরণ পাওয়া যায়। সেইদিনের কালবৈশাখীর প্রবল ঝড়ে সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ সবুজে ঘেরা একটা আম বাগানের ওপর আগুনের গোলা এসে পড়ে। সেখানকার গ্রামের মানুষেরা চেষ্টা করেছিল কাঁদা ছুড়ে ছুড়ে আগুন বন্ধ করার। সেই দুর্ঘটনায় দমকল আসতে সময় লেগেছিল ২৪ ঘন্টা। তবে আজকের দিনে হলে হয়ত এই রকম ভয়াবহ রূপ দেখতে হত না।

রিপোর্ট বলছে, সেই প্লেনের প্রধান ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল দমদম থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে একটা নালাতে। ৩১ পাতার বিস্তারিত রিপোর্টে রয়েছে যাত্রীদের নাম,ম্যাপ, প্লেনের দুর্ঘটনা সম্ভাব্য কারণ। ম্যাপ দেখে মনে হচ্ছে আজকের সন্তোষপুর এর থেকেই প্লেনের টুকরো পাওয়া গিয়েছিল।

১৯৫১ সালের ২২ নভেম্বর ঘটে যায় আরও একটি দমদম বিমান দুর্ঘটনা। কলকাতায় সেদিন খুব শীত ও সঙ্গে ছিল কুয়াশাও।১৭ জন যাত্রী নিয়ে পাইলট দমদমে নামতে গিয়ে ভুল করে মানিকতলাতে নেমে যায়। প্লেন মানিকতলার গ্রামের মাঠে গিয়ে সজোরে ধাক্কা খেল। একজন যাত্রী ছাড়া সবাই মারা গিয়েছিল।

আরো পড়ুন:  কালীঘাটের মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অলৌকিক ইতিহাস

জুন ১২,১৯৬৮ সালে ঘটে যায় অন্য আরেকটি বিমান দুর্ঘটনা। এই প্লেনটি আসছিল ব্যাংকক থেকে। প্লেন দমদমে নামার  আগে ধাক্কা মারে একটা গাছে। এর কারণ স্বরূপ জানা যায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের কথা ঠিক বুঝতে পারেনি।

এরপর ঠিক দুবছর পরেই দমদমের কাছে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনায় ১৭ জন যাত্রী মারা যায়। রাশিয়ান প্লেনটি আসছিল ঢাকা থেকে। পূর্বপাকিস্তানে কিছুদিন আগে সাইক্লোন হয়েছিল। তাই ওই প্লেনটি সাইক্লোনের রিলিফ পৌঁছেতে গিয়েছিল। হঠাৎ প্লেনটিতে আগুন ধরে যায়।পাইলট পানাগড়ে নামার শেষ চেষ্টা করলেও নিয়তির কাছে হার মেনে যেতে হয়েছিল।

Tripti Das Roy

Tripti Das Roy

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।