নবাব সিরাজদ্দৌলার হাতির উদ্যানই আজকের ‘হাতিবাগান’

নবাব সিরাজদ্দৌলার হাতির উদ্যানই আজকের ‘হাতিবাগান’

শুধু ছোটবেলা নয়, একটু বড় অবধিও বিশ্বাস করতাম হাতিবাগানে বড় বড় হাতি থাকে। কিন্তু যখন যেতাম, তখন সেখানে হাতি দেখতে না পেয়ে বেশ মুষড়ে পড়তাম। বরং সেখানে গেলে দেখতে পেতাম সারি সারি সিনেমা হল। হাতিবাগান মানেই যেন আস্ত একটা সিনেমা পাড়া। রাধা দিয়ে শুরু। একে একে মিনার, উত্তরা, মিত্রা, দর্পনা…… ফড়িয়াপুকুরের গলিতে টকিশো হাউস। এদিকে রূপবাণী। এখন অবশ্য সে রাজাও নেই, রাজত্বও নেই। বেশিরভাগ সিনেমা হলই বন্ধ।

স্টার অবশ্য থিয়েটার হল থেকে আধুনিক মানের সিনেমাহল হয়েছে। কিন্তু পুরনো হলগুলো আজও যেন শৈশবকে মনে করিয়ে দেয়। উনিশ শতকের শেষভাগে নির্মিত স্টার থিয়েটার দীর্ঘদিন নাট্যমঞ্চই ছিল। গিরিশচন্দ্র ঘোষের একাধিক নাটক এখানে মঞ্চস্থ হয়েছিল। রামকৃষ্ণ পরমহংসও একাধিকবার এই নাট্যমঞ্চে নাটক দেখতে আসেন। বর্তমানে সিনেমাহলে পরিণত হয়েছে স্টার।

আরো পড়ুন:  কলকাতায় প্রথম ধর্মঘট ডেকেছিল পালকি বেয়ারারা,তবে শহরের গতিকে ত্বরান্বিত করেছিল এই ধর্মঘট

তবে সিনেমা হল বন্ধ হলেও বড় হয়ে এই হাতিবাগানের নামকরণের ইতিহাস জানতে পেরে বেশ লেগেছে। এখন হাতি না থাকলেও উত্তর কলকাতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হাতিবাগানের নামকরণের পিছনে কিন্তু হাতিই আছে! যদিও এই নিয়ে নানা মতবাদ শোনা যায়।

আরো পড়ুন:  খরচ মাত্র ৩৯ টাকা,কলকাতার ইতিহাসকে ছুঁয়ে দেখতে গঙ্গাবক্ষে চালু হচ্ছে "হেরিটেজ ক্রুজ"

বাংলায় হাতি শব্দের অর্থ ‘হস্তি’ আর বাগান মানে ‘উদ্যান’। শোনা যায়, ১৭৫৬ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলা যখন কলকাতা আক্রমণ করেছিলেন, সেইসময় নবাবের হাতিগুলিকে নাকি এই অঞ্চলেরই একটি উদ্যানে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই হাতিবাগান নাম হয়েছে। অন্য মতবাদ আছে অবশ্য। অনেকে আবার বলেন, এই অঞ্চলে ‘হাতি’ পদবীধারী জনৈক ব্যক্তির একটি বাগানবাড়ি ছিল। সেখান থেকেই হাতিবাগান নামটি এসেছে। মেহতাব চাঁদ মল্লিক পরে সেই বাগানবাড়িটি কিনে নিয়েছিলেন। উল্লেখ্য, এই মেহতাব চাঁদ মল্লিকই হাতিবাগান বাজারটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখনও যে বাজার রমরমিয়ে চলছে।

আরো পড়ুন:  বাংলায় "ভাগাড় কান্ড" ঘটেছিল ইংরেজ জমানাতেও,সমস্যার সমাধানে বেগ পেতে হয়েছিল ইংরেজরদেরও

যদিও এই বাজারে বিধ্বংসী আগুন লাগে। ২০১২ সালের ২২ মার্চ একটি অগ্নিকাণ্ডে এই বাজারের একটি বড়ো অংশ পুড়ে যায় বটে, কিন্তু বিক্রেতারা পিছপা হননি। এছাড়া শোনা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বিমানবাহিনী হাতিবাগানে একটি বোমা ফেলেছিল। কিন্তু সেটি ফাটেনি। তাই কোনোরকম ক্ষতিও হয়নি।

সবমিলিয়ে সিনেমাহল, থিয়েটার, সিরাজদ্দৌলা মিলেমিশে হাতিবাগান ঐতিহ্য আর বাঙালিয়ানার এখনও স্বতন্ত্র। তিলোত্তমার অন্যতম হৃৎপিণ্ড বললেও ভুল হবে না।

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।