মোঘলদের সঙ্গে যুদ্ধে বন্দি প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি বারাসাতের শঙ্কর চক্রবর্তী,মুক্তি পেয়েছিলেন আকবরের স্ত্রী-র অনুরোধে

মোঘলদের সঙ্গে যুদ্ধে বন্দি প্রতাপাদিত্যের সেনাপতি বারাসাতের শঙ্কর চক্রবর্তী,মুক্তি পেয়েছিলেন আকবরের স্ত্রী-র অনুরোধে

বারাসাত শহরের নাম কারোরই অজানা নয়।তবে প্রতিটা জায়গা বা বস্তুর নামকরণের পিছনে একটা কাহিনী বা ইতিহাস অবশ্যই থাকে। বারাসাত তার ব্যতিক্রম নয়।তাই আজকে জানব বারাসাতের নামকরণের ইতিহাস।ব্রিটিশ আমলের এই নগরীটির নাম নিয়ে রয়েছে নানান গল্প। “বারাসাত” একটি আরবি শব্দ।আর সেই শব্দের অর্থ হল ‘পথের শোভা’। নামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে তাই এই নগরীর রাস্তাগুলি এতো নয়নাভিরাম।

ফারসি মতে আবার “বারাসাত” মানে ‘জনপদ’।সাতটি জনপদ নিয়ে তৈরি নগরী বলে এর নাম ‘বারাসাত’।আর এই সাতটি নগরী হল- নিশ্চিন্দপুর, চন্ননপুর, প্রসাদপুর, বনমালিপুর, হৃদয়পুর ও শ্রীধরপুর।আরও একটি জনশ্রুতি এই শহরের নামকে নিয়ে রয়েছে, শোনা যায় জগৎ শেঠের পরিবারের বারোজন সদস্য এখানে বাস করতেন। ‘বারোশেঠ’ এর বসবাস স্থান হিসেবে ‘বারোশেঠ’ কথাটি অপভ্রংশে বারাসাত হয়েছে বলে মনে করা হয়।

আরো পড়ুন:  পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর দায়িত্বে ছিলেন, করোনায় শহীদ হুগলির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট দেবদত্তা রায়

একসময় বারাসাত সুন্দর বনের ‘ব’দ্বীপ অঞ্চলের মধ্যে ছিল | এছাড়াও শোনা যায় আজ যেখানে এতো বড়ো নগরী স্থাপিত রয়েছে আগে সেখানে এতোটাই ঘন জঙ্গল ছিল যে তাতে বাঘ,কুমির ও অন্য সকল বন্য প্রাণীরই দেখা মিলত। ওই সময় বারাসাতে সুবর্ণবতী ও লাবণ্যবতী নামে দুটি নদী প্রবাহিত হত। বর্তমানে নদীগুলি তার নামে ও চরিত্রে ভ্রষ্ট হয়ে ‘সুঁটি’ ও ‘নোয়াই’ নামে কোনওক্রমে টিকে আছে।

“আইন-ই-আকবরি”তেও রয়েছে বারাসাতের সূত্র। আকবরের সেনাপতি মহারাজ মানসিংহের হাতে প্রতাপাদিত্য (১৬০০ খ্রিঃ যশোরের রাজা) পরাজিত হন এবং পরে তাদের আগ্রায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু প্রতাপাদিত্যের ব্রাহ্মণ সেনাপতি শঙ্কর চক্রবর্তীকে আকবর স্ত্রী যোধাবাই-এর অনুরোধক্রমে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হয়। এই শঙ্করের বাসস্থান ছিল বারাসাতে, যা এখনো বর্তমান বারাসাতের দক্ষিণপাড়ায়। ভক্তিমতী যোধাবাই-এর অনুরোধক্রমে শঙ্কর চক্রবর্তী নিজ বাসস্থনে দুর্গাপূজা শুরু করেন – আজও বংশপরম্পরায় হয়ে চলেছে।

আরো পড়ুন:  দমকল কেন্দ্র গড়ে তুলতে কোটি টাকার জমি দান করলেন সবংয়ের ব্যবসায়ী মলয় দাস

কোম্পানি শাসনের আমলে গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস–এর অত্যন্ত প্রিয় জায়গা ছিল বারাসাত।তিনি বারাসাতের উত্তরাঞ্চলে ইংলিশ স্টাইলে একটি দোতলা বাড়ি করেন | শোনা যায়, ট্রেজারি পর্যন্ত গুপ্ত সুড়ঙ্গ রয়েছে, তার দরজা সরকার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।এই সময় বারাসাতের চারপাশে শুরু হয় নীল চাষ। ডাচেরা প্রথম নীল চাষ শুরু করে বারাসাতের পশ্চিমাংশে কলপুকুরে। নিকটবর্তী নীলগঞ্জে বাংলার প্রথম নীল কারখানা তৈরি হয় (১৭৭৯), সমগ্র মহাকুমা ‘Blue Distric’ বা ‘নীল জেলা’ নামে খ্যাত হয়। বারাসাত স্টেশনের কাছে নীলপুকুর, নীলকর সাহেবদের বাংলো ও থাকার জায়গা। নীলকর সাহেবের দুই রক্ষিতা ছিলেন চাঁপা বা চম্পা ও ডালি। এদের কথা ‘চাঁপাডালি’ বা ‘চম্পাডালি মোড়’ নামে বেঁচে আছেন।

আরো পড়ুন:  ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিলিটারি নার্সিং সার্ভিসের প্রধান পদে নিযুক্ত হলেন বঙ্গতনয়া সোনালী ঘোষাল

ইতিহাস ঘাঁটলে এমনই নানা তথ্য বেরিয়ে পড়ে এই নগরীর।যা হয়তো জানা তো দূর আমরা কখনো কল্পনাও করিনি।চেখের সামনে দেখা ও চেনা শহরটাকে তখন কেমন যেন এক অন্য চোখে দেখি।

– লিলি চক্রবর্তী

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।