শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, হরিদার চা বাঙালির বড় ভরসা !

শীত গ্রীষ্ম বর্ষা, হরিদার চা বাঙালির বড় ভরসা !

“আমরা চা খাব না? খাব না আমরা চা?” করোনার সৌজন্যে লকডাউন, কোয়ারেন্টাইন, কনটেন্টমেন্ট জোন…… এই শব্দগুলোর সঙ্গে উপরের এই ডায়লগ বাঙালির জীবনে ভীষণভাবে সমার্থক হয়ে গেছে। লকডাউন মাথায় নিয়ে চা’য়ের তেষ্টা মেটাতে বেরিয়ে সেই চা দাদুও রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। আসলে বাঙালির চা প্রেম এমনই। নিন্দুকেরা যতই যা বলুক, চায়ের কাপ হাতে আড্ডা ছাড়া বাঙালি এই জেট যুগেও অসম্পূর্ণ।

 

 

কাজে অকাজে পৃথিবীর যে কোনায় বাঙালি যাক না কেন, চায়ের দোকান বা চা ঠিক খুঁজে নেবে। আর নিজভূমে মানে এ বঙ্গে থাকলে তো চায়ের সঙ্গে নো আপস! স্বাস্থ্য সচেতনা বাড়াতে ইদানিং গ্রিন টি, লিকার টি’র রমরমা বেশ বেড়েছে ঠিকই। কিন্তু শীতের রোজনামচায় একবার যদি মেলে দুধ, চিনি, এলাচ, আদা সহযোগে ভাঁড়ে চা… আহা! ঠিক এমনই চা পাবেন কলকাতার অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের পাশে হরির চায়ের দোকানে। এখানে বছরের ৩৬৫ দিনই চা দি’বস! সবসময়ই চায়ের উৎসব। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা হরিদার চা ভরসা। ভাল নাম রঞ্জিত বারিক হলেও এই চায়ের দোকানের মালিককে হরি দা বলেই চেনে আর দোকানটি খ্যাত হরিদার চায়ের দোকান বলে।

আরো পড়ুন:  স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে চান,৪৫০০০ টাকার চাকরি ছেড়ে চায়ের দোকান খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা দে

জন্মতারিখ জানা নেই বা মনে নেই। তবে ১৯৫৭ সালে শীতকালে জন্মেছিলেন হরিদা। মাত্র সাত বছর বয়সে তিনি তাঁর গ্রাম থেকে কলকাতায় পালিয়ে আসেন ওই গ্রামেরই একজনের সঙ্গে। সেই বয়সে রাসবিহারীর ফুটপাতে একটি চায়ের দোকানে কাজ শুরু করেন। উপার্জনের তাগিদ যে সেই ছোটো থেকেই ছিল। মাত্র কয়েকদিন সেই দোকানে কাজ করার পর হরিদা রবীন্দ্রসদন এলাকায় চলে আসেন। গাড়ি মোছা থেকে লেবু-জল বিক্রি শুরু করেন। এরপরই ভাবেন নিজের চায়ের দোকান দেবেন। তাই অ্যাকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের পাশে একফালি জায়গাটি বেছে সেখানে খুললেন একটি চায়ের দোকান। তাঁর ডাকনাম অনুসারে সেই দোকানের নামও হয়ে গেল হরির চা।

আরো পড়ুন:  কলকাতা হাইকোর্টের সামনে ক্ষুদিরাম বসুর মূর্তির স্রষ্টা তিনি,আমরা কি মনে রেখেছি তাপস দত্তকে?

সেই শুরু। এরপর আর তাঁকে সেভাবে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আসলে এই রবীন্দ্রসদন – নন্দন চত্বরে যে বছরভরই কিছু না কিছু অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাই কোনোদিন খদ্দেরের অভাব হয়নি হরিদার। প্রায় দুপুর থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত অবধি ভিড়ই এখানকার প্রাণ, এই দোকানেরও। এখানকার সমস্ত নাট্যকর্মী থেকে আড্ডা দিতে বা ঘুরতে আসা মানুষের মুখে মুখে ফেরে হরিদার চায়ের দোকানের নাম। হরিদা আজ এখানকার একটা অংশ হয়ে গেছেন। তাই তাঁর এই চায়ের দোকানে কোনওদিন ভাঁটা পড়েনি।

আরো পড়ুন:  কলকাতাতেই রয়েছে ভারত তথা এশিয়ার একমাত্র গ্রিক চার্চ - গ্রিক অর্থোডক্স চার্চ

যদিও গত এক বছর ধরে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। করোনার কারণে আগের মত ভিড় হয় না। তবে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে বলেই আশা বর্তমানে কলকাতার কুঁদঘাটের বাসিন্দা হরিদার।

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।