বাঙালি মনে রাখেনি প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা চিকিৎ‍সককে,ডুডল প্রকাশের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাল গুগুল

বাঙালি মনে রাখেনি প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা চিকিৎ‍সককে,ডুডল প্রকাশের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানাল গুগুল

বাংলার প্রথম মহিলা ডাক্তার কাদম্বিনী গাঙ্গুলীর কথা আমরা সবাই কম বেশি জানি | তাঁর থেকে সাহস পেয়ে, তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু নারী এগিয়ে এসেছেন নিষেধের বাধা ঠেলে। এগিয়েছে সমাজ, এগিয়েছে দেশ। কিন্তু সেই সময়ে দাঁড়িয়েও শিক্ষা,গবেষণা,চিকিৎসা,বিজ্ঞানচর্চাসহ উদ্ভাবনী কর্মকান্ডে হিন্দু বা অন্যান্য ধর্মের মেয়েরা যতটা এগিয়ে ছিল, মুসলিম মেয়েরা ততটা পারেনি | ছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের রক্তচক্ষু, ধর্মীয় বিধিনিষেধ, কুসংস্কার , অশিক্ষা | কিন্তু এরই মাঝে ছিলেন এক নারী যিনি সব বাঁধা অতিক্রম করে হয়ে উঠেছিলেন প্রথম বাঙালি মুসলিম মহিলা চিকিৎ‍সক | ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী |

 

 

জোহরা বেগম কাজীর জন্ম ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর মধ্যপ্রদেশের রঞ্জনগাঁওয়ে | তার পৈতৃক নিবাস মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার গোপালপুর গ্রামে প্রখ্যাত কাজী পরিবারে | তাঁর পিতার নাম ডাক্তার কাজী আব্দুস সাত্তার ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ আঞ্জুমান নেসা | পিতা ডা. কাজী আবদুস সাত্তার একজন বিশিষ্ট চিকিৎসক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ | সেইসময় অর্ধশিক্ষিত কথিত মুসলিম সম্প্রদায়ের যে অন্ধ ফতোয়া নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছিল | কাজী আবদুস সাত্তার বুঝেছিলেন এই ভাবে চললে মুসলিম মেয়েরা পিছিয়ে যাবে | তিনি মেয়েদের প্রকৃত শিক্ষা দেন | জোহরা বেগম কাজী ছোট থেকেই ছিলেন মেধাবী | স্কুলে প্রত্যেক শ্রেণীতে প্রথম হতেন | ১৯২৯ সালে আলীগড় মুসলিম মহিলা কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসেবে মেট্রিক এবং ১৯৩১ সালে আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজ থেকে আইএ পাস করেন জোহরা বেগম কাজী | ভর্তি হন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দিল্লির হার্ডিঞ্জ মহিলা মেডিকেল কলেজে | সেখান থেকে প্রথম বিভাগে শীর্ষস্থান অধিকার করে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন | ব্রিটিশ-ভারতের ভাইস রয় টমাস ফ্রিম্যান (১৮৬৬-১৯৪১) জোহরা বেগম কাজীকে ভাইস রয় পদকে সম্মানিত করেন |

আরো পড়ুন:  বক্সিং গ্লাভসের সাথেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছিলেন "ফাদার অফ ইন্ডিয়ান বক্সিং"-পি এল রায়

১৯৩৫ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করার পর জোহরা কাজী কর্মজীবনে প্রবেশ করেন৷ তিনি প্রথমে ইয়োথমাল ওমেন্স পাবলিক হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগ দেন৷ এরপর বিলাসপুর সরকারি হসপিটালে যোগ দেন৷ পরবর্তীকালে মহাত্মা গান্ধী প্রতিষ্ঠিত সেবাগ্রামে অবৈতনিকভাবে কাজ করেন জোহরা কাজী | বাংলা ভাগের পূর্বে তিনি ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় ১৩ বছর চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন | বাংলা ভাগের সময়ে তিনি ঢাকায় চলে আসেন | যোগ দেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে | সেই সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পৃথক ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিভাগ ছিল না | ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা পেত না | অকালমৃত্যুর ঘটনাও ছিল অনেক বেশি | ডা. জোহরা কাজীর ঐকান্তিক চেষ্টার ফলে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এবং পরে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্ত্রীরোগ ও ধাত্রীবিদ্যা বিভাগ পরিপূর্ণতা পায় | ডা. জোহরা কাজী ১৯৫৫ সালে সরকারি বৃত্তি নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য ইংল্যান্ডে যান | লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব অবসটেরিসিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকোলজিস্ট থেকে ডিআরসিওজি ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি লন্ডন থেকে এফআরসিওজি এবং এমআরসিওজি স্বীকৃতি লাভ করেন | এরপর দেশে ফিরে দেশে ফিরে মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের প্রধান ও সাম্মানিক অধ্যাপিকা হিসেবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন | এর পাশাপাশি নারী রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কুসংস্কার দূর করতেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন |

আরো পড়ুন:  ‘যে স্বপ্ন দেখতে পারে না, অন্যকে স্বপ্ন দেখাতে পারে না, সে বিপ্লবী হতে পারে না’-চারু মজুমদার

চিকিৎসা করার পাশাপাশি নামী সাইক্লিস্টও ছিলেন তিনি | খেলতেন ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস | ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন | মানবতার সেবায় নিঃস্বার্থ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. জোহরা কাজীকে তমঘা-ই-পাকিস্তান (১৯৬৪), বেগম রোকেয়া পদক (২০০২), একুশে পদক (মরণোত্তর, ২০০৮) এবং বিএমএ স্বর্ণপদক সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে | ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর ডা. জোহরা কাজীর মৃত্যু হয় | বনানী গোরস্তানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে | ডা. জোহরা কাজী অনুপ্রেরণার আরেক নাম |  এই মহান চিকিৎসককে গুগুল ডুডল প্রকাশের মাধ্যমে সম্মান জানিয়েছে |

আরো পড়ুন:  নাসায় বাঙালি বিজ্ঞানীর জয়,"মঙ্গল মিশন"র সদস্য হলেন কলকাতার চিরঞ্জিত মুখার্জী

-অভীক মণ্ডল
তথ্য : উইকিপিডিয়া

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।